দ্রুত বিচারে বিশেষ বেঞ্চ নাকি সেল, কী বলছেন আইনজ্ঞরা
দেশজুড়ে আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলো নিম্ন আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। মাগুরা, ফেনীর সোনাগাজী, সিলেট ও খুলনার ঘটনাসহ একাধিক আলোচিত মামলার দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। এতে ন্যায়বিচারের কার্যকারিতা ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে; একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সৎমামা রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৬ মে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনা তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অর্থ দাবির অভিযোগও ওঠে, যদিও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর মাত্র কয়েকদিন পর রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। সরকারের পক
দেশজুড়ে আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলো নিম্ন আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। মাগুরা, ফেনীর সোনাগাজী, সিলেট ও খুলনার ঘটনাসহ একাধিক আলোচিত মামলার দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। এতে ন্যায়বিচারের কার্যকারিতা ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে; একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সৎমামা রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৬ মে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনা তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অর্থ দাবির অভিযোগও ওঠে, যদিও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এর মাত্র কয়েকদিন পর রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র, চার্জগঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার জন্য দিনও ধার্য করা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার হলেও উচ্চ আদালতে গিয়ে কেন থমকে যায় আলোচিত ধর্ষণ ও শিশুহত্যা মামলাগুলো? সাম্প্রতিক এসব ঘটনার আগে মাগুরার ৮ বছরের শিশু, সিলেটের রাজন, খুলনার রাকিব ও ফেনীর এক মাদরাসা ছাত্রীর হত্যাকাণ্ড একইভাবে দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার হলেও বছরের পর বছর ধরে সেসব মামলা এখনো উচ্চ আদালতের বিভিন্ন স্তরে ঝুলে আছে।
আরও পড়ুন
সোহেলের সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্য দিয়ে কলঙ্কমুক্ত পল্লবী চান প্রতিবেশীরা
দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত যত মামলা
নুসরাত হত্যায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকলে সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়, অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যায় এবং মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৩ কার্যদিবসে রায়, হাইকোর্টে এক বছরেও শুরু হয়নি শুনানি
২০২৫ সালের মার্চে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এক শিশু। অভিযুক্ত হিটু শেখ শুধু ধর্ষণই করেননি, তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। সরকারের উদ্যোগে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষ হয়। ওই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার দুদিনের মধ্যেই মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। কিন্তু এক বছর পার হলেও মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়নি।
সাত বছরেও শেষ হয়নি মাদরাসাছাত্রী হত্যা মামলার আপিল
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় এক ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
কিন্তু বিচারিক আদালতের রায়ের সাত বছর পার হলেও মামলাটি এখনো হাইকোর্ট অতিক্রম করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হলেও যে বেঞ্চে শুনানি হচ্ছিল, সেটি ভেঙে যায়। পরে নতুন বেঞ্চ গঠিত হলেও আর শুনানি শুরু হয়নি।
রাজন-রাকিব: দ্রুত বিচার, অপেক্ষা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটে চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোর শেখ সামিউল আলম রাজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
একই বছরের ৩ আগস্ট খুলনায় মোটর গ্যারেজে কর্মরত ১২ বছরের শিশু রাকিবের মলদ্বারে কমপ্রেসার মেশিন বসিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। আদালত রায়ে ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুরতার চরমতম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রায়ে বলা হয়, ‘কথিত এ ধরনের ইয়ার্কি জঘন্য ও নিষ্ঠুরতম’।
মানুষের অভিজ্ঞতা হলো- বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। সরকারের আশ্বাসেও মানুষ আস্থা পাচ্ছে না। তাই নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা উচিত।- ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন
দুটি মামলারই বিচার মাত্র ১০ থেকে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হয়। ২০১৭ সালে হাইকোর্টও রায় দেন। কিন্তু এরপর প্রায় ৯ বছর কেটে গেলেও মামলা দুটি এখনো আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলো ঘিরে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার হলেও উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকার কারণে প্রশ্ন উঠছে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
ফলে দ্রুত বিচার কার্যকর করতে আইনজ্ঞদের একাংশ বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পক্ষে, অন্য অংশ জনআকাঙ্ক্ষিত মামলা চিহ্নিত করতে বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বিচারক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর না করলে শুধু বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত- শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শেষ না হলে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত বার্তা পৌঁছাবে না, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের অভিজ্ঞতা হলো- বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। সরকারের আশ্বাসেও মানুষ আস্থা পাচ্ছে না। তাই নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা উচিত।’
তার মতে, ‘নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় জনমনে হতাশা তৈরি হচ্ছে।’
বিশেষ সেলের প্রস্তাব
এদিকে সাবেক বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজী বিশেষ বেঞ্চের পরিবর্তে একটি বিশেষ সেল গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি দুজন বিচারপতি ও একজন রেজিস্ট্রারকে নিয়ে একটি সেল গঠন করতে পারেন। এই সেল জনআকাঙ্ক্ষিত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো চিহ্নিত করে শুনানির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।’
আরও পড়ুন
মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড
রায় কার্যকরের অপেক্ষায় নুসরাতের পরিবার
পৈশাচিক কায়দায় শিশু হত্যা ও দ্রুততম বিচার পাওয়ার বছর
তিনি বলেন, ‘সব মামলা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু মামলা আছে যেগুলোর দিকে পুরো দেশের মানুষের নজর থাকে। এসব মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানির তালিকায় এগিয়ে আনা যেতে পারে।’
বিশেষ বেঞ্চের বিপক্ষে মত
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিরোধিতা করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিলম্বিত বিচার অবশ্যই সমস্যা। কিন্তু শুধু আলোচিত মামলার জন্য আলাদা বেঞ্চ করলে অন্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর কী হবে? উচ্চ আদালতের দায়িত্ব হলো নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো ভুল-ত্রুটি আছে কি না তা যাচাই করা।’
অভিযুক্ত ব্যক্তি চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। একটি রিভিশন নিষ্পত্তি হতে এক থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। এরপর উচ্চতর আদালতেও আবেদন করা হয়। ফলে বিচারিক আদালতেই অনেক সময় নষ্ট হয়। মৃত্যুদণ্ড হলে ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামির আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে যায়। কিন্তু এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য সীমিতসংখ্যক বেঞ্চ থাকায় মামলা জট তৈরি হয়।- মমতাজ পারভিন মৌ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামও একই ধরনের মত দেন। তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার জন্য এরই মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। তবে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বিচারক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।’
দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভিন মৌ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি ধর্ষণ বা হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর), ময়নাতদন্ত, তদন্ত ও চার্জশিটের মাধ্যমে। এরপর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় পর্যন্ত যেতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। একটি রিভিশন নিষ্পত্তি হতে এক থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। এরপর উচ্চতর আদালতেও আবেদন করা হয়। ফলে বিচারিক আদালতেই অনেক সময় নষ্ট হয়। মৃত্যুদণ্ড হলে ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামির আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে যায়। কিন্তু এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য সীমিতসংখ্যক বেঞ্চ থাকায় মামলা জট তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি হতে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে। এরপর আপিল বিভাগে গেলে মামলাটি আরও দীর্ঘ সময় অমীমাংসিত থেকে যায়।’
আপিলের পরও আছে রিভিউ ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ
মমতাজ পারভিন মৌ বলেন, ‘আপিল বিভাগে রায় হওয়ার পরও রিভিউ আবেদনের সুযোগ থাকে। রিভিউ নিষ্পত্তির পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা যায়। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিলম্বের পেছনে বিচারকদের অনীহা নয়, বরং বিচারক সংকট, মামলা জট এবং বহুমাত্রিক আইনি প্রক্রিয়াই প্রধান কারণ।’
এফএইচ/ইএ/এমএফএ
What's Your Reaction?