নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের দাবি

নতুন সরকার গঠনের পর দেশের অন্যান্য খাতের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনেও বইছে সংস্কার ও নতুন প্রত্যাশার হাওয়া। এবার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও সংকট উত্তরণে নতুন সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সরকারি অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান চেয়েছেন এই সুপারস্টার। শাকিব খান বলেন, “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি—বারবার সামনে আসে এসব প্রশ্ন। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক।” অনুদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি গঠন, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশেরও প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে প্রকৃত মেধাবীরা কাজ করার উৎসাহ পান। তার মতে, মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। দেশে

নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের দাবি

নতুন সরকার গঠনের পর দেশের অন্যান্য খাতের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনেও বইছে সংস্কার ও নতুন প্রত্যাশার হাওয়া। এবার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও সংকট উত্তরণে নতুন সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সরকারি অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান চেয়েছেন এই সুপারস্টার। শাকিব খান বলেন, “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি—বারবার সামনে আসে এসব প্রশ্ন। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক।” অনুদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি গঠন, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশেরও প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে প্রকৃত মেধাবীরা কাজ করার উৎসাহ পান। তার মতে, মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

দেশের প্রেক্ষাগৃহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাকিব বলেন, “মাঝখানে কয়েকবার প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখছে, তাদের শুধু সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে।” জরাজীর্ণ হল সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনের ওপর জোর দেন তিনি। যেসব জেলায় সিনেমা হল নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণেরও প্রস্তাব দেন এই অভিনেতা, যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও যুক্ত হতে সাহায্য করবে।

প্রেক্ষাগৃহের আধুনিকায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনা চেয়েছেন শাকিব খান। নতুন হল নির্মাণে ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়, জমি লিজে সুবিধা এবং আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড এবং অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক বা উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি, যা দর্শকের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করবে।

দর্শক ফেরাতে দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা চালু, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন শাকিব। তিনি বলেন, “প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।” পরিশেষে, চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে একটি ঝামেলামুক্ত, পেশাদার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এই শীর্ষ নায়ক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow