নিজ বাড়িতেই ২২ দিন ধরে অবরুদ্ধ রবিদাসের পরিবার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর নওদাবস গ্রামে দীর্ঘ চার দশক ধরে বসবাস করে আসা লাল বাহাদুর রবিদাসের পরিবার বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বসতভিটার চারপাশে প্রতিবেশী বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে পরিবারটিকে গত ২২ দিন ধরে গৃহবন্দী করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জবরুল হক, জসিম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে লাল বাহাদুর রবিদাসের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল অভিযুক্তরা বাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিবারটির স্বাভাবিক চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল তারা বসতবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং আঙিনার মাটি খুঁড়ে শাক-সবজির বীজ রোপণ করে দখলের চেষ্টা করে। লাল বাহাদুর রবিদাসের স্ত্রী আরতি রানী বলেন, বাড়ির চারদিকে এমনভাবে বাঁশের বেড়া দিয়েছে যে, আমরা প্রায় বন্দি হয়ে গেছি। আমার শাশুড়ির কবর, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘর সবই এই বেড়ার ভেতরে পড়ে গেছে। ঠিকমতো কোনো কাজই করতে পারছি না। কী কষ্টে দিন পার করছি, তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। স্থানীয় ব

নিজ বাড়িতেই ২২ দিন ধরে অবরুদ্ধ রবিদাসের পরিবার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর নওদাবস গ্রামে দীর্ঘ চার দশক ধরে বসবাস করে আসা লাল বাহাদুর রবিদাসের পরিবার বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বসতভিটার চারপাশে প্রতিবেশী বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে পরিবারটিকে গত ২২ দিন ধরে গৃহবন্দী করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জবরুল হক, জসিম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে লাল বাহাদুর রবিদাসের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল অভিযুক্তরা বাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিবারটির স্বাভাবিক চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল তারা বসতবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং আঙিনার মাটি খুঁড়ে শাক-সবজির বীজ রোপণ করে দখলের চেষ্টা করে।

লাল বাহাদুর রবিদাসের স্ত্রী আরতি রানী বলেন, বাড়ির চারদিকে এমনভাবে বাঁশের বেড়া দিয়েছে যে, আমরা প্রায় বন্দি হয়ে গেছি। আমার শাশুড়ির কবর, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘর সবই এই বেড়ার ভেতরে পড়ে গেছে। ঠিকমতো কোনো কাজই করতে পারছি না। কী কষ্টে দিন পার করছি, তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ও দুলু মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়, সে বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সমাধানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো সমাধান না হলেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার জানান, তিনি মৌখিকভাবে বিষয়টি জেনেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অবহিত করেছেন।

রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow