পাংশায় আলোচিত সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে হয়নি মামলা

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ২২ বছর বয়সী এক তরুণী তহুরা । তিন থেকে চার বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে দিন কাটছিল তার। সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম TikTok–এ তার পরিচয় হয় রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী সজলের সঙ্গে।। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সাত মাস ভিডিও কলে কথা, ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এক বিশ্বাসের বন্ধন তৈরি হয়। সেই বিশ্বাসের আড়ালে ঘটে যায় ব্যক্তিগত ও গোপন ঘনিষ্ঠতাও। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সজল দেশে আসেন, কিন্তু তহুরাকে না জানিয়ে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সজল কল করে তহুরাকে বলেন আমি দেশে এসেছি।তোমার সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যে দেখা করব এরপর সজল আর যোগাযোগ করেননি। হতাশ হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে তরুণী ছুটে যান সজলের বাড়িতে। পরিস্থিতি বুঝে সজল পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর শুরু হয় আরেকটি প্রতারণার অধ্যায়। এর পর সজলের দুই বন্ধু—আকাশ ও জামাল—তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের আশ্বাস দেয়। তারা ব

পাংশায় আলোচিত সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে হয়নি মামলা

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ২২ বছর বয়সী এক তরুণী তহুরা । তিন থেকে চার বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে দিন কাটছিল তার। সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম TikTok–এ তার পরিচয় হয় রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী সজলের সঙ্গে।।

ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সাত মাস ভিডিও কলে কথা, ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এক বিশ্বাসের বন্ধন তৈরি হয়। সেই বিশ্বাসের আড়ালে ঘটে যায় ব্যক্তিগত ও গোপন ঘনিষ্ঠতাও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সজল দেশে আসেন, কিন্তু তহুরাকে না জানিয়ে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সজল কল করে তহুরাকে বলেন আমি দেশে এসেছি।তোমার সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যে দেখা করব এরপর সজল আর যোগাযোগ করেননি।

হতাশ হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে তরুণী ছুটে যান সজলের বাড়িতে। পরিস্থিতি বুঝে সজল পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর শুরু হয় আরেকটি প্রতারণার অধ্যায়। এর পর সজলের দুই বন্ধু—আকাশ ও জামাল—তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের আশ্বাস দেয়। তারা বলে, পাংশায় এলে সজলের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হবে। শেষ ভরসাটুকু আঁকড়ে ধরে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি পাংশা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখান থেকে আকাশ তাকে মোটরসাইকেলে করে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা এলাকায় নিয়ে যায়।

সেখানে একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আকাশ ও জামাল মন্ডল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে । প্রতিবাদ করলে চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তার কানের স্বর্ণের দুল ও ব্যাগে থাকা নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

অসহায় অবস্থায় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও শুরুতে তিনি বাধার সম্মুখীন হন। অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আকাশ ও জামালের নাম উল্লেখ করা হলেও প্রবাসী সজল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সজলের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পাওয়া গেলেও তার ভাই ফুল মিয়া ঘটনার কিছু অংশ স্বীকার করে বলেন, তার ভাই হয়তো এক-দুদিন কথা বলেছিল। মেয়েটি বাড়িতে এলে তারা বুঝিয়ে ফেরত পাঠান। পরে স্থানীয় কিছু খারাপ লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আকাশ ও জামালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তারা গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিলে এবং তদন্তে প্রবাসী সজলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow