পুলিশের সামনেই ‘মব সৃষ্টি করে’ ব্যবসায়ীর ফাঁকা চেক-স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঁইপাড়া গ্রামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মবের (উত্তেজিত জনতা) মুখে ফেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই ফাঁকা ব্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে মব তৈরি করে পুলিশের সামনেই ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একই গ্রামের হাসান সরদার, মাসুদ রানা ও আশরাফুল ইসলাম নামের তিন ব্যক্তি আসাদুল ইসলামের বাড়িতে চড়াও হন। তারা আসাদুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গ্রামের অপর প্রান্তের একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। সন্ধ্যার দিকে তাকে প্রকাশ্যে আনা হলে সেখানে মুহূর্তের মধ্যে ১২০ থেকে ১৩০
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঁইপাড়া গ্রামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মবের (উত্তেজিত জনতা) মুখে ফেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই ফাঁকা ব্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে মব তৈরি করে পুলিশের সামনেই ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একই গ্রামের হাসান সরদার, মাসুদ রানা ও আশরাফুল ইসলাম নামের তিন ব্যক্তি আসাদুল ইসলামের বাড়িতে চড়াও হন। তারা আসাদুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গ্রামের অপর প্রান্তের একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। সন্ধ্যার দিকে তাকে প্রকাশ্যে আনা হলে সেখানে মুহূর্তের মধ্যে ১২০ থেকে ১৩০ জনের একটি উত্তেজিত মব জড়ো করা হয়।
খবর পেয়ে রাতে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করার বদলে মবকারীদের দাবির প্রতি নমনীয় অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই আসাদুল ইসলামের বাড়ি থেকে জোর করে জনতা ব্যাংকের চেক বই আনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনটি ফাঁকা চেক ও ৩০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর ওই চেক ও স্ট্যাম্প মবের নেতৃত্বে থাকা হাসান সরদারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর রাত প্রায় ৯টার দিকে আসাদুল ইসলামকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে পুলিশ।
ভুক্তভোগী আসাদুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে আটকে রাখা হয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, পুলিশের সামনেই আমাকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ‘কোলাবিল মাছচাষ প্রকল্প’-এ তিনি আগে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায় নয় মাস আগে সমস্ত হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। বর্তমানে সেই দায়িত্ব পালন করছেন অভিযুক্ত হাসান সরদার।
অভিযোগের বিষয়ে শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হাসান সরদার অকপটে বলেন, যা হয়েছে, পুলিশের সামনেই হয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থেকেই সব করেছে।
এদিকে মবের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, আসাদুল ইসলাম মাছচাষ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে তারা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলেও স্বীকার করেন তারা।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মান্নান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
পরবর্তীতে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং কেউ কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানান।
স্থানীয় নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নিজেও এ ঘটনায় অবাক হয়েছি। মব তৈরি করে একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। সবচেয়ে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বিষয় হলো, পুলিশ ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার না করে, উল্টো তার বাড়ি থেকে চেক এনে ফাঁকা স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় সহযোগিতা করেছে।