পেলের ব্রাজিলের রেকর্ড স্পর্শ, তবু ট্রফি ছুঁতে পারল না আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে আর্জেন্টিনার। তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও লিওনেল মেসির দল ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিয়েছে। এই আসরে মোট ১৯টি গোল করে আলবিসেলেস্তেরা ছুঁয়ে ফেলেছে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিলের গড়া এক আসরে ১৯ গোলের অনন্য কীর্তি। তবে পেলের সেই দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেও, মেসিরা গোলবন্যার টুর্নামেন্ট শেষ করলেন রানার্সআপ হয়ে। ফাইনালে আরেকটি গোল করতে পারলেই এককভাবে ব্রাজিলকে টপকে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে ফাইনালের মহামঞ্চে জালের দেখা পায়নি তারা। এমনকি স্পেনের গোল মুখে একটি শটও নিতে পারেননি মেসিরা। অথচ টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজদের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ ৭ ম্যাচে ১৯ গোল করে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগগুলোকে তছনছ করে দিয়েছিল। ফাইনাল জিতলে ব্রাজিল (১৯৫৮-৬২) ও ইতালির (১৯৩৪-৩৮) পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়তো আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও বিশ

পেলের ব্রাজিলের রেকর্ড স্পর্শ, তবু ট্রফি ছুঁতে পারল না আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে আর্জেন্টিনার। তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও লিওনেল মেসির দল ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিয়েছে।

এই আসরে মোট ১৯টি গোল করে আলবিসেলেস্তেরা ছুঁয়ে ফেলেছে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিলের গড়া এক আসরে ১৯ গোলের অনন্য কীর্তি। তবে পেলের সেই দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেও, মেসিরা গোলবন্যার টুর্নামেন্ট শেষ করলেন রানার্সআপ হয়ে।

ফাইনালে আরেকটি গোল করতে পারলেই এককভাবে ব্রাজিলকে টপকে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে ফাইনালের মহামঞ্চে জালের দেখা পায়নি তারা। এমনকি স্পেনের গোল মুখে একটি শটও নিতে পারেননি মেসিরা।

অথচ টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজদের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ ৭ ম্যাচে ১৯ গোল করে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগগুলোকে তছনছ করে দিয়েছিল।

ফাইনাল জিতলে ব্রাজিল (১৯৫৮-৬২) ও ইতালির (১৯৩৪-৩৮) পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়তো আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও বিশ্বজয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা সেই জয়সূচক গোলটি। এই গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরলো স্পেন।

এক আসরে ১৯ গোল আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার প্রমাণ করলেও, শিরোপা না জেতায় ১৯৭০-এর ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনাটি আক্ষেপের চাদরে ঢাকা পড়ে রইল। সম্ভবত এটিই ছিল ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে টানা দুটিসহ (২০২২ ও ২০২৬) মোট তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়লেন এই মহাতারকা। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের তিক্ত স্বাদ যেমন পেয়েছেন, তেমনি ২০২২ সালে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পরম আনন্দও এসেছে তার হাত ধরে।

২০২৬-এর ফাইনালে ট্রফি ধরে রাখতে পারলে মেসির ট্রফি ক্যাবিনেট আরও সমৃদ্ধ হতো ঠিকই, তবে এই হারে ফুটবল তাকে যে অমরত্ব দিয়েছে, তাতে বিন্দুমাত্র দাগ লাগেনি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী ও বাংলাদেশের মেসি-ভক্তরা এই বিদায়ের স্তব্ধতায় হতাশ হলেও, তার কীর্তি চিরকাল অম্লান থাকবে। ট্রফি উঁচিয়ে ধরা না হলেও, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ মঞ্চকে বিদায় জানালেন এই ফুটবলের বরপুত্র।

আরআই/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow