প্রতিদিন মাত্র ১ কিমি হাঁটলে এক মাসে কতটা ওজন কমে?
বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর বসে বসে কাজের সংস্কৃতির কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া যেন এক নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। আর তাই ওজন কমাতে মানুষ এখন নানামুখী ‘স্মার্ট’ উপায়ের দিকে ঝুঁকছেন; কেউ করছেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কেউ কিটো ডায়েট, আবার কেউ ভরসা রাখছেন ডিটক্স ড্রিঙ্কস বা ডিএনএ ডায়েটের ওপর। তবে এত কিছুর মাঝেই একেবারে সহজ, ঝামেলাহীন একটি ট্রেন্ড নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে, ‘প্রতিদিন ১ কিলোমিটার হাঁটা’। শুনতে সহজ, করতেও সহজ। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো, এত কম হাঁটায় কি সত্যিই ওজন কমে? আর এক মাসে এর দৃশ্যমান ফলাফল কতটা? এই নিয়েই কথা বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার উপকারিতা শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানসিক সুস্থতার জন্যও দারুণ কার্যকর। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটলে মন ফ্রেশ থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং নিজের সঙ্গে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে। তবে প্রশ্ন যখন ওজন কমানোর, তখন হিসাবটা একটু ভিন্ন। ইন্টিগ্রেটিভ থেরাপিউটিক নিউট্রিশনিস্ট ডা. গীতি
বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর বসে বসে কাজের সংস্কৃতির কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া যেন এক নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। আর তাই ওজন কমাতে মানুষ এখন নানামুখী ‘স্মার্ট’ উপায়ের দিকে ঝুঁকছেন; কেউ করছেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কেউ কিটো ডায়েট, আবার কেউ ভরসা রাখছেন ডিটক্স ড্রিঙ্কস বা ডিএনএ ডায়েটের ওপর।
তবে এত কিছুর মাঝেই একেবারে সহজ, ঝামেলাহীন একটি ট্রেন্ড নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে, ‘প্রতিদিন ১ কিলোমিটার হাঁটা’। শুনতে সহজ, করতেও সহজ। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো, এত কম হাঁটায় কি সত্যিই ওজন কমে? আর এক মাসে এর দৃশ্যমান ফলাফল কতটা? এই নিয়েই কথা বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার উপকারিতা শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানসিক সুস্থতার জন্যও দারুণ কার্যকর। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটলে মন ফ্রেশ থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং নিজের সঙ্গে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।
তবে প্রশ্ন যখন ওজন কমানোর, তখন হিসাবটা একটু ভিন্ন। ইন্টিগ্রেটিভ থেরাপিউটিক নিউট্রিশনিস্ট ডা. গীতিকা চোপড়ার মতে, প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটলে ঠিক কতটা ওজন কমবে, এর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে একজন মানুষের শারীরিক গঠন, মেটাবলিজম এবং জীবনযাত্রার ওপর।
তিনি বলেন, ১ কিমি হাঁটা একটি ভালো অভ্যাসের সূচনা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেদ কমানোর জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
হিসাব বলছে, আপনি যদি প্রতিদিন ১ কিমি করে হাঁটেন এবং একইসঙ্গে আপনার খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না আনেন, তাহলে এক মাসে আপনার শরীর থেকে প্রায় ১২০০ থেকে ২০০০ ক্যালোরি খরচ হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের হিসাবে, এতে ওজন কমবে মাত্র ০.১৫ থেকে ০.২৫ কিলোগ্রাম। অর্থাৎ, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বড় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আপনার শরীর সচল থাকবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে উঠবে।
ওজন কমা আসলে কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর :
শরীরের ওজন
যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে একই দূরত্ব হাঁটলেও ক্যালোরি খরচ বেশি হয়।
বিএমআর
শরীরের মেটাবলিজম যদি ধীরগতির হয়, তাহলে ফ্যাট কমার প্রক্রিয়াও ধীর হবে।
হাঁটার গতি
সাধারণ হাঁটার তুলনায় দ্রুত হাঁটা বা ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ (ঘণ্টায় ৫–৬ কিমি) বেশি ক্যালোরি বার্ন করে।
খাদ্যাভ্যাস
হাঁটার পর যদি বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তাহলে পুরো পরিশ্রমই প্রায় বৃথা যেতে পারে।
অন্যান্য বিষয়
পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপের মাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য; যেমন থাইরয়েড সমস্যা বা পিসিওএস ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটা শরীরকে সচল রাখার জন্য একটি চমৎকার ‘স্টার্ট হ্যাবিট’। তবে যদি লক্ষ্য থাকে দৃশ্যমানভাবে ওজন কমানো, তাহলে হাঁটার দূরত্ব ও গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সুষম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট অভ্যাস দিয়েই শুরু হতে পারে বড় পরিবর্তন; কিন্তু সেটিকে কার্যকর করতে দরকার ধারাবাহিকতা এবং সঠিক পরিকল্পনা।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা
What's Your Reaction?