‘প্রথমবার প্রার্থী হয়ে ভয় লাগছে, আমি কারও শত্রু হতে চাই না’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এখন সরগরম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণ। প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় আর নানা প্রতিশ্রুতিতে মুখর পুরো চলচ্চিত্রপাড়া। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। আরও পড়ুন জুলাই মামলায় নাম / মধ্যরাতে বাসায় পুলিশ, কান্নায় ভেঙে পড়ে যা বললেন অভিনেতা কমল পাটেকার শিরিন শিলা বলেন, জীবনে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ফলে জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে তার মধ্যে কাজ করছে এক ধরনের অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। সত্যি বলতে খুব ভয় করছে। আজকে ১ তারিখ হয়ে গেছে। আর মাত্র একদিন পর নির্বাচন। যত সময় ঘনিয়ে আসছে, ততই নার্ভাস লাগছে। আমি আসলে নির্বাচন নিয়ে অনেক ভয় পাই। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। তাই সবকিছুই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।’ তিনি জানান, চলচ্চিত্রাঙ্গনে এতদিন তিনি সবার সঙ্গে সৌহার্
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এখন সরগরম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণ। প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় আর নানা প্রতিশ্রুতিতে মুখর পুরো চলচ্চিত্রপাড়া। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
শিরিন শিলা বলেন, জীবনে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ফলে জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে তার মধ্যে কাজ করছে এক ধরনের অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। সত্যি বলতে খুব ভয় করছে। আজকে ১ তারিখ হয়ে গেছে। আর মাত্র একদিন পর নির্বাচন। যত সময় ঘনিয়ে আসছে, ততই নার্ভাস লাগছে। আমি আসলে নির্বাচন নিয়ে অনেক ভয় পাই। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। তাই সবকিছুই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।’
তিনি জানান, চলচ্চিত্রাঙ্গনে এতদিন তিনি সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করেছেন। নির্বাচন সেই সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলুক, সেটা তিনি চান না।
শিরিন শিলার ভাষায়, ‘আমি যখন নিরপেক্ষ থাকি, তখন সবার ভালোবাসা পাই। মানুষ হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেছি যার প্রয়োজন, তার পাশে দাঁড়াতে। যতটুকু পেরেছি মানুষকে সহযোগিতা করেছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা যেন কোনোভাবেই কমে না যায়, সেটাই চাই।’
নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণ হিসেবে দেখতে চান না শিরিন শিলা। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে এসে আমার কোনো ইচ্ছা নেই কারও শত্রু হওয়ার। আমরা সবাই একই পরিবারের মানুষ। একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি। আজ নির্বাচন আছে, কাল নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সম্পর্ক তো থেকে যাবে। তাই আমি চাই না ভোটকে কেন্দ্র করে কারও সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হোক।’
শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে তিনি অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা বলে মনে করেন। কারণ এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে নিজের সহকর্মী, বন্ধু ও সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে। শিরিন শিলা বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচন অন্য রকম একটা ব্যাপার। এখানে যাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, তারা সবাই আমার পরিচিত, আমার সহকর্মী। কারও সঙ্গে সিনেমায় কাজ করেছি, কারও সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। তাদের বিপক্ষে নির্বাচন করা সহজ নয়। তাই বিষয়টি আমার জন্য অনেক আবেগেরও।’
নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো বদলাবে না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে হারি বা জয়ী হই, তাতে কিছু যায় আসে না। এরপরও আমি এফডিসিতে আসব, কাজ করব, সবার সঙ্গে দেখা হবে। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু সেটার জন্য সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।’
শিল্পীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিরিন শিলা বলেন, নির্বাচিত হলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন, আর নির্বাচিত না হলেও শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় চাই শিল্পীদের জন্য কিছু করতে। নির্বাচিত হলে সেই সুযোগটা আরও বেশি পাব। আর যদি নির্বাচিত না-ও হই, তবুও একজন শিল্পী হিসেবে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করব। কারণ শিল্পী সমিতি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের সবার পরিবার।’
আলাপকালে জাতীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, জাতীয় নির্বাচন আমি কখনো করব না। শিল্পী সমিতির নির্বাচন আর জাতীয় রাজনীতি এক বিষয় নয়। আমি শিল্পীদের নিয়ে, শিল্পীদের জন্য কাজ করতে চাই। এখানেই নিজেকে দেখতে চাই।’
আগামী ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে এখন বিএফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
এমআই/এলআইএ
What's Your Reaction?

