প্রিয় ইরাকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন বাবা মনিরুল

‘বাবা, দুপুরে আসার সময় আমার জন্য কমলা নিয়ে আসিও’— বাবার কাছে এটুকুই ছিল সাত বছরের শিশু ইরার শেষ আবদার। মেয়ের সেই আবদার মেটাতে দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম আধা কেজি কমলা কিনে বাড়িতে ফেরেন। পরম মমতায় কমলার খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো একটি পাত্রে সাজিয়ে রেখেছিলেন, যাতে মেয়ে এসেই খেতে পারে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ইরা আর বাড়ি ফেরেনি। প্রিয় ফলটি পাত্রেই পড়ে রইল, কিন্তু তা মুখে তোলার জন্য ইরা আর কোনোদিন ফিরবে না। গত রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে শিশু ইরার ওপর চলে নরপিশাচ বাবু শেখের বর্বরতা। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, ইকো পার্কে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে ইরা। এ খবর শোনামাত্রই রিকশাচালক বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা রোকেয়া বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক মনিরুল সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের আবদার মেটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু আদরের ছোট মেয়েকে শেষবার কমলা খাওয়াতে না পারার আক্ষেপ এখন তার আজীবনের সঙ্গী। বড় বোন জান্নাতুল ইশা ইসফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার বোনকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। সারাক্ষণ ওর সঙ্গে খুনসুটি আর ঝগড়া করতাম। এখন কে আমাক

প্রিয় ইরাকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন বাবা মনিরুল

‘বাবা, দুপুরে আসার সময় আমার জন্য কমলা নিয়ে আসিও’— বাবার কাছে এটুকুই ছিল সাত বছরের শিশু ইরার শেষ আবদার। মেয়ের সেই আবদার মেটাতে দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম আধা কেজি কমলা কিনে বাড়িতে ফেরেন। পরম মমতায় কমলার খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো একটি পাত্রে সাজিয়ে রেখেছিলেন, যাতে মেয়ে এসেই খেতে পারে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ইরা আর বাড়ি ফেরেনি। প্রিয় ফলটি পাত্রেই পড়ে রইল, কিন্তু তা মুখে তোলার জন্য ইরা আর কোনোদিন ফিরবে না।

গত রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে শিশু ইরার ওপর চলে নরপিশাচ বাবু শেখের বর্বরতা। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, ইকো পার্কে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে ইরা।

এ খবর শোনামাত্রই রিকশাচালক বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা রোকেয়া বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক মনিরুল সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের আবদার মেটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু আদরের ছোট মেয়েকে শেষবার কমলা খাওয়াতে না পারার আক্ষেপ এখন তার আজীবনের সঙ্গী।

বড় বোন জান্নাতুল ইশা ইসফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার বোনকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। সারাক্ষণ ওর সঙ্গে খুনসুটি আর ঝগড়া করতাম। এখন কে আমাকে ‘আপু’ বলে ডাকবে? কার সঙ্গে আমি ঝগড়া করব? ওর স্মৃতিগুলো আমি কীভাবে ভুলব?

শোকার্ত মা রোকেয়া বেগম তার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন।

গত রোববার দুপুরে ইকো পার্কে গলাকাটা অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করে স্থানীয় যুবকরা। প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার তার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার গভীর রাতে শ্বাসনালীতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

মঙ্গলবার জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক বাবু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের হেফাজত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow