ফাহিমের ইউরোপ যাত্রা শেষ হলো হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে

স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাল ধরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক নিঃশেষ ট্র্যাজেডিতে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৯ বছর বয়সি মোহাম্মদ আবু ফাহিম। লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে উত্তাল সাগরে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় প্রাণ হারান তিনি। জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। দীর্ঘ ছয়দিন ধরে সাগরে ভাসমান একটি নৌকায় খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফাহিম দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি প্রবাসী ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগমের একমাত্র সন্তান। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় কিছুদিন আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। পরে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নেন। তবে স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছানো আর হলো না তার, মাঝপথেই থেমে গেল জীবনের গল্প। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে একটি নৌকায় করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফাহিম। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং টানা ছয়দিন সাগরে ভেসে থাকে। এ সময় বৈরী আবহাওয়া, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই মৃ

ফাহিমের ইউরোপ যাত্রা শেষ হলো হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে
স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাল ধরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক নিঃশেষ ট্র্যাজেডিতে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৯ বছর বয়সি মোহাম্মদ আবু ফাহিম। লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে উত্তাল সাগরে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় প্রাণ হারান তিনি। জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। দীর্ঘ ছয়দিন ধরে সাগরে ভাসমান একটি নৌকায় খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফাহিম দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি প্রবাসী ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগমের একমাত্র সন্তান। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় কিছুদিন আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। পরে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নেন। তবে স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছানো আর হলো না তার, মাঝপথেই থেমে গেল জীবনের গল্প। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে একটি নৌকায় করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফাহিম। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং টানা ছয়দিন সাগরে ভেসে থাকে। এ সময় বৈরী আবহাওয়া, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন ফাহিম। ফেসবুকের শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘বোকা-সোকা আম্মুটাই দিনশেষে আমার জন্য কাঁদে, মন খারাপ করে, মন ভরে দোয়া করে।’  পোস্টটির সঙ্গে একটি ভিডিওতে মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি জানান, দেশে থাকতে এক গ্লাস পানিও নিজের হাতে খাননি, অথচ এখন প্রবাসজীবনে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। কথাগুলো যেন তার অজান্তেই হয়ে উঠেছিল বিদায়ের বার্তা। এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা হেলেনা বেগম। আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধনকে আমি আর ফিরে পাবো না, আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা ফয়েজ উদ্দিন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন এভাবে ঝরে পড়া আমাদের জন্য গভীর শোকের। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে গিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমাজের ধারণা ইউরোপে গেলেই স্বপ্নপূরণ হবে। এমন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow