ফের জোরালো যুদ্ধের প্রস্তুতি, ৩ ভয়াবহ পরিকল্পনা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই, এমনকি আগামী সপ্তাহ থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় আরও তীব্র বিমান হামলা, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন এবং ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে ইসরায়েলের একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই, এমনকি আগামী সপ্তাহ থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় আরও তীব্র বিমান হামলা, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন এবং ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা কোনো ফল দিচ্ছে না। আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং চীনের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আলোচনা ভেঙে পড়ে।
চীন সফর শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যদি “বাস্তব গ্যারান্টি” দেয়, তাহলে তিনি ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারেন। এর আগে তিনি স্থায়ীভাবে কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন।
যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে দেশটি বর্তমানে প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, যা দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলার পর এসব ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু করে। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি মজুত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনায় ইরানকে সন্দেহ করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অনলাইন সিস্টেমের দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা জ্বালানির প্রকৃত পরিমাণ নয়, বরং প্রদর্শিত তথ্য পরিবর্তন করেছে।
What's Your Reaction?