বগুড়ায় নীলসাগরের বগি সরানোর কাজ শেষ হয়নি, বিকল্প ট্রেনে যাতায়াত

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো সরানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে। তবে পুরো পথ সচল হতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি সান্তাহারের কাছে লাইনচ্যুত হয়। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাজেদুর রহমান বলেন, এখনো বেশ কয়েকটি বগি সরানোর কাজ চলছে। বগিগুলো উদ্ধার করার পর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করতে হবে। এরপরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করার। এদিকে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রেন পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন

বগুড়ায় নীলসাগরের বগি সরানোর কাজ শেষ হয়নি, বিকল্প ট্রেনে যাতায়াত

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো সরানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে। তবে পুরো পথ সচল হতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি সান্তাহারের কাছে লাইনচ্যুত হয়। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাজেদুর রহমান বলেন, এখনো বেশ কয়েকটি বগি সরানোর কাজ চলছে। বগিগুলো উদ্ধার করার পর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করতে হবে। এরপরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করার।

এদিকে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রেন পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, লাইন পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে থাকা ট্রেন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাবেন।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চগড় ও একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, সীমান্ত ও রূপসা এবং তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ট্রেন বদল করে যাতায়াত করছেন। অর্থাৎ, ঢাকা থেকে আসা যাত্রী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে হেঁটে এলাকা পার হচ্ছেন এবং অপর পাশের ট্রেনে উঠে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।

তবে এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজ ও কালকের জন্য ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের (আক্কেলপুর-রাজশাহী ও পঞ্চগড়-রাজশাহী) যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ৭৯৭ নম্বর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসটি বিকল্প পথে বগুড়া হয়ে চলাচলের কথা রয়েছে।

সান্তাহার ও বগুড়াসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেকেই মালামাল নিয়ে এক ট্রেন থেকে নেমে অন্য ট্রেনে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ছেন।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনগুলো রাতভর কাজ করেছে এবং লাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে চলবে।

এল.বি/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow