বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনই এখন প্রধান অগ্রাধিকার: ত্রাণমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বিভাগে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এ বন্যায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগই পাহাড়ধসে। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এরই মধ্যে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। আরও পড়ুন বন্যা-পাহাড়ধসে ৫৪ মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন
চট্টগ্রাম বিভাগে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এ বন্যায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগই পাহাড়ধসে।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এরই মধ্যে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য তিন জেলা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং পরবর্তীতে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু অংশে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় পানি কমতে শুরু করায় সরকার পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত সাতটি জেলা এবং সিলেটসহ মোট আটটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশির ভাগই পাহাড়ধসে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য স্পিডবোট ও রাবার বোটও পাঠানো হয়েছে।
সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও নিজস্ব সড়ক সংস্কারের কাজ করবে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে কাঁচা সড়ক সংস্কার করবে। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। তাই সরকার পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ব্যাপকভাবে পরিদর্শন করবেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবারই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
এমএএস/এমএএইচ/
What's Your Reaction?
