বল বয় থেকে যেভাবে বড় তারকা হয়ে ওঠেন তামিম-আশরাফুলরা
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো একটা সময় বাংলাদেশেও ক্রিকেট মাঠে বল বয়ের দেখা মিলত। পরবর্তীতে যারা বাংলাদেশের সুপারস্টার বনেছেন, যাদের নামের আগে বিশেষ বিশেষণ যুক্ত হয়েছে, যারা দেশের ক্রিকেটের বড় তারা হয়ে আছেন-সেই মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ এমনকি তামিম ইকবালও একসময় বল বয় ছিলেন। বল বয় কোনো ছোট কাজ নয়। খালি চোখে মাঠের বাইরে বাউন্ডারি বা ছক্কা হওয়ার পর সেই বল কুড়িয়ে আবার মাঠের ভেতরে খেলা চলাকালীন ফিল্ডিংয়ে থাকা দলের ক্রিকেটারদের কাছে ফেরত দেয়া বা জমা দেয়ার কাজে যারা বাউন্ডারির বাইরে দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরকে বলা হয় বল বয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামে তৎকালীন ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের সাবেক লেগ স্পিনার ওয়াহিদুল গনির অংকুর ক্রিকেট একাডেমির হয়ে যারা ঢাকা স্টেডিয়ামের পূর্ব উত্তর কোণে অনুশীলন করতেন; সেই অনূর্ধ্ব ১৩-১৪ এর মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ, আশিক, আরিফ, ইব্রাহিম সাগর একসময় ঢাকা স্টেডিয়ামে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। দিনের একটা সময় তাদের কাটতো ঢাকা স্টেডিয়ামে, তাদের গুরু তাদের ক্রিকেট কোচ ওয়াহিদুল গনির নিবিড় তত্ত্বাবধানে
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো একটা সময় বাংলাদেশেও ক্রিকেট মাঠে বল বয়ের দেখা মিলত। পরবর্তীতে যারা বাংলাদেশের সুপারস্টার বনেছেন, যাদের নামের আগে বিশেষ বিশেষণ যুক্ত হয়েছে, যারা দেশের ক্রিকেটের বড় তারা হয়ে আছেন-সেই মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ এমনকি তামিম ইকবালও একসময় বল বয় ছিলেন।
বল বয় কোনো ছোট কাজ নয়। খালি চোখে মাঠের বাইরে বাউন্ডারি বা ছক্কা হওয়ার পর সেই বল কুড়িয়ে আবার মাঠের ভেতরে খেলা চলাকালীন ফিল্ডিংয়ে থাকা দলের ক্রিকেটারদের কাছে ফেরত দেয়া বা জমা দেয়ার কাজে যারা বাউন্ডারির বাইরে দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরকে বলা হয় বল বয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামে তৎকালীন ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের সাবেক লেগ স্পিনার ওয়াহিদুল গনির অংকুর ক্রিকেট একাডেমির হয়ে যারা ঢাকা স্টেডিয়ামের পূর্ব উত্তর কোণে অনুশীলন করতেন; সেই অনূর্ধ্ব ১৩-১৪ এর মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ, আশিক, আরিফ, ইব্রাহিম সাগর একসময় ঢাকা স্টেডিয়ামে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন।
দিনের একটা সময় তাদের কাটতো ঢাকা স্টেডিয়ামে, তাদের গুরু তাদের ক্রিকেট কোচ ওয়াহিদুল গনির নিবিড় তত্ত্বাবধানে অনুশীলনে। এর পাশাপাশি যখন ক্রিকেট ম্যাচ হতো, হোক তা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগ কিংবা এশিয়া কাপ। এর বাইরে ৯৮ এর মিনি ওয়ার্ল্ড কাপ (যেটা পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছে), ৯৭ এর ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে নিয়ে হওয়া ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ, ৯৮-৯৯ এ হওয়া এশিয়া কাপ; এই সব টুর্নামেন্টেই কিন্তু আশরাফুল, নাফিস ইকবালরা ছিলেন বল বয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিগ বস বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবালও কিন্তু ৯৮ সালে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন ইংল্যান্ড 'এ' এসেছিল বিক্রম সোলাঙ্কির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরে। চট্টগ্রামে একটি তিন দিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। সেই সময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ এবং ইংল্যান্ড 'এ'-এর ওই ম্যাচে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তামিম ইকবালসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের তখনকার কিশোর ক্রিকেটাররা। ওই ম্যাচে খেলেছেন তামিমের চাচা আকরাম খানও।
বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সোমবার বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সময় প্রেস বক্সে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে প্রায় পুরো আলাপেই অফ দ্য রেকর্ড কথা বলেছেন। তবে দুই তিনটি বিষয় তিনি সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি ছিল, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে বিসিবি নির্বাচন করে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবার বল বয় প্রথা ফিরিয়ে আনার ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। তিনি নিজে, ভাই নাফিস ইকবাল এবং ভাইয়ের বন্ধু শাহরিয়ার নাফিস ও মোহাম্মদ আশরাফুলরা বল বয় ছিলেন। কাজেই তামিম তাদেরকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
তামিম জানেন, এই বল বয় প্রথাটা কিশোর ক্রিকেটারদেরকে খুব কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দেখার সুযোগ করে দেয় এবং তাতে করে ক্রিকেটার হওয়ার মানসিকতা মনোবল বাড়ে। ক্রিকেটারদের দেখে ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছে আরও বৃদ্ধি পায় এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিজ চোখে ঠিক সীমানার ওপারে দাঁড়িয়ে দেখার সুযোগটাও হয়। পাশাপাশি কখনো কখনো নেটেও বোলিং করার একটা সুযোগ চলে আসে অনেক ক্রিকেটারের।
এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল জাগো নিউজকে জানালেন, তার ক্যারিয়ারে এই অংকুরের ঢাকা স্টেডিয়ামে কোচিং করা এবং বল বয়ের দায়িত্ব পালন করা নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তাকে টেস্ট ক্রিকেটে সফল করতে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি নেটেও অনেক সময় বড় বড় ক্রিকেটারদের বল করেছেন বলে জানিয়েছেন আশরাফুল। অনেকেরই জানা, মোহাম্মদ আশরাফুল শুধু ভালো ব্যাটারই ছিলেন না; ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে খুব ভালো লেগ স্পিনও করতেন এবং গুগলিও ছুড়তে পারতেন।
একটি ঘটনার সাক্ষী আশরাফুল মঙ্গলবার রাতে জাগো নিউজকে জানালেন, ঢাকায় হওয়া ১৯৯৮ সালের মিনি ওয়ার্ল্ড কাপের রানার্সআপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্যতম ব্যাটার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান হেড কোচ ফিল সিমন্স এবং একদিন নেটে ৯৮-র ১৫ বছর বয়সী কিশোর আশরাফুল লেগ স্পিন বল করে হঠাৎ গুগলি ছুড়ে সিমন্সকে ভড়কে দিয়েছিলেন। সিমন্স কল্পনাও করতে পারেননি ওই বয়সী আশরাফুল গুগলিও ছুড়তে পারেন এবং সেই গুগলি দেখার পর সিমন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দলের একজন লেগস্পিনার ছিলেন যিনি বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় আশরাফুলের চেয়ে বড়; তাকে ডাক দিয়ে এনে আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলে প্রতিদিন আধা ঘণ্টা গুগলি প্র্যাকটিস করার কথা বলেছিলেন।
আশরাফুল মনে করেন, এই ধরনের বল বয় থেকে বড় বড় ক্রিকেটারদের সান্নিধ্যে যাওয়া উৎসাহ উদ্দীপনা এবং অনুপ্রেরণা বাড়ায়। অল্প বয়সী ক্রিকেটারদের বিশেষ করে যারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব ১৩ বা ১৫ তে বল বয়ের ভূমিকায় থাকবে, তারা পরবর্তীতে বড় ক্রিকেটার হতে উদ্বুদ্ধ হবে অনুপ্রাণিত হবে। কাজেই তামিম ইকবালের এই বল বয় প্রথা চালুক দারুণভাবে প্রশংসা করলেন মোহাম্মদ আশরাফুল এবং বললেন আমি বিশ্বাস করি এর পজিটিভ ইনপুট আমরা পাব। তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ এরকম একটি উদ্যোগ আবার নেওয়ার জন্য।
এআরবি/এমএমআর
What's Your Reaction?