বসন্তের প্রকৃতি রাঙাতে ফুটেছে ভাঁট

প্রকৃতিতে এখন চলছে বসন্তকাল। এ বসন্ত ঋতুকে ঋতুর রাজা বলা হয়। শীত শেষে প্রকৃতিতে বসন্ত প্রবেশ করলেই মুহ্যমান প্রকৃতি নানারকম চোখজুড়ানো ফুলে নতুন সাজে সেজে ওঠে। এতে প্রকৃতি তার স্বরূপ ফিরে পায় এবং প্রকৃতি প্রাণবন্ত রূপে উপস্থাপিত হয়। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতিকে রাঙাতে বসন্তের ছোঁয়ায় রঙিন ফুলের মেলায় যোগ হয়েছে তেমনই এক চোখজুড়ানো সৌন্দর্য বিলানো ফুল ভাঁট। এ ফুলের মোহনীয় রূপে প্রকৃতি যেমন সেজেছে তেমনি এ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন ফুলপ্রেমীসহ নানা বয়সী মানুষ।  সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, খোলা মাঠ, পুকুর বা জলাশয়ের পাড়, সড়কের পাশে এখন চোখে পড়ছে ভাঁট গাছে থোকায় থোকায় ফোটা সারি সারি ফুল। বসন্তের মিষ্টি রোদ আর হালকা বাতাসে দোল খেতে খেতে এই ফুল প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এই ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে কাছে টানছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ক্যামেরাবন্দি করতে অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ আবার ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুল সংগ্রহ করছেন। অনেক কিশোরী ও তরুণীর চুলের বেনি ও খোঁপায়ও শোভা পাচ্ছে এই ফুল। শিশুদেরকেও এই ফুল

বসন্তের প্রকৃতি রাঙাতে ফুটেছে ভাঁট

প্রকৃতিতে এখন চলছে বসন্তকাল। এ বসন্ত ঋতুকে ঋতুর রাজা বলা হয়। শীত শেষে প্রকৃতিতে বসন্ত প্রবেশ করলেই মুহ্যমান প্রকৃতি নানারকম চোখজুড়ানো ফুলে নতুন সাজে সেজে ওঠে। এতে প্রকৃতি তার স্বরূপ ফিরে পায় এবং প্রকৃতি প্রাণবন্ত রূপে উপস্থাপিত হয়।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতিকে রাঙাতে বসন্তের ছোঁয়ায় রঙিন ফুলের মেলায় যোগ হয়েছে তেমনই এক চোখজুড়ানো সৌন্দর্য বিলানো ফুল ভাঁট। এ ফুলের মোহনীয় রূপে প্রকৃতি যেমন সেজেছে তেমনি এ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন ফুলপ্রেমীসহ নানা বয়সী মানুষ। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, খোলা মাঠ, পুকুর বা জলাশয়ের পাড়, সড়কের পাশে এখন চোখে পড়ছে ভাঁট গাছে থোকায় থোকায় ফোটা সারি সারি ফুল। বসন্তের মিষ্টি রোদ আর হালকা বাতাসে দোল খেতে খেতে এই ফুল প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এই ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে কাছে টানছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ক্যামেরাবন্দি করতে অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ আবার ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুল সংগ্রহ করছেন। অনেক কিশোরী ও তরুণীর চুলের বেনি ও খোঁপায়ও শোভা পাচ্ছে এই ফুল। শিশুদেরকেও এই ফুল নিয়ে খেলতে দেখা গেছে। 

জানা গেছে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও ভেষজ চিকিৎসায় সমৃদ্ধ ভাঁট, ভাইট, বনজুঁই বা ঘেটু একটি গুল্মজাতীয় বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লেরনডেনড্রন ভিসকোসাম। এটি গ্রামবাংলার একটি অতিপরিচিত বুনো ঔষধি উদ্ভিদ। ভাঁট গাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দণ্ডায়মান। এই গাছ সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। এর পাতা ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে, দেখতে অনেকটা পানপাতার মতো, তবে এর পাতা খসখসে আলযুক্ত।

এ গাছের ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফুল ফোটে। ফুলের পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশেল থাকে। এ গাছে বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ফুল ফোটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। ফুল ফোটার পর মৌমাছিসহ মধুপায়ী কীটপতঙ্গ ভাঁট ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে। কোনোরকম যত্ন ছাড়াই ভাঁট গাছ জন্মায় এবং বেড়ে ওঠে। 

ভাঁটের রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। ফ্ল্যাভোনয়েড থাকার কারণে এটি ক্যানসার দমন ও প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়াও জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, কৃমি, চর্মরোগ, কোলেস্টেরল, ব্লাডসুগার ও উদরাময় প্রভৃতি রোগসহ আরও নানা রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। তবে ইউনানি চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভাঁটসহ অন্যান্য ঔষধি উদ্ভিদ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করা উচিত। 

উপজেলার চান্দলা এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ছোটোবেলা থেকেই এই সময়টায় ভাঁট ফুল ফুটতে দেখে আসছি। এই সময়টায় ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য অনায়াসেই চোখে পড়ে। প্রকৃতির এই সৃষ্টি মানুষের মন জুড়িয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন মেঠোপথের দুপাশে এই ফুল ফুটেছে এই ফুলের সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ছে।

উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, সুগন্ধিযুক্ত ভাঁটফুল দেখতে বেশ সুন্দর। সবুজের মাঝখানে ফোটা এই ফুল আমাদের আকৃষ্ট করছে। প্রতিবছরই এই সময়টায় ভাঁটফুল ফোটে। প্রকৃতিতে ফোটা এই ফুল সববয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে। 

সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মারিয়াম বলেন, প্রতিবছর আমি এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি কখন ভাঁটফুল ফুটবে আর আমি এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হব। ঋতুভেদে ফোটা আমার প্রিয় ফুলগুলোর মধ্যে ভাঁট একটি। এখন যেখানেই যাই কোথাও না কোথাও এই ফুল চোখে পড়ছে। 

স্থানীয় শিক্ষক ইমাম উদ্দিন আখন্দ বলেন, প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ শিশুদের কাছেও আনন্দের। এখন প্রকৃতির কোলজুড়ে ভাঁটফুল ফুটেছে। ভাঁটফুল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিতে বসন্তকাল প্রবেশ করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সময় ভাঁটগাছ ও ফুল দেখাই, যাতে তারা দেশীয় উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য দেশীয় গাছগাছালি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলছি। 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, বসন্তের শুরুতেই প্রকৃতি রাঙিয়ে ভাঁটফুল ফুটছে। এই ফুল ছোট হলেও এর সৌন্দর্য অনেক, ঘ্রাণও রয়েছে। এই সময়টায় যত্রতত্র এই সৌন্দর্য চোখে পড়ছে। এই ফুলের সৌন্দর্য সববয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে।

তিনি আরও বলেন, ভাঁট গাছ ও ফুল কেবল সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণ। ভাঁট গাছের পাতা, ফুল-ফল ও শিকড় ভেষজ চিকিৎসায় বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ গাছের পাতা জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ ও প্রদাহজনিত সমস্যায় বেশ উপকারী। এর শিকড় হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। ভাঁট ফুলে জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে, যা ক্ষত সারাতে সহায়ক। 

সোহেল রানা বলেন, তবে যে কোনো ভেষজ গাছ বা এর অংশ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় উপকারের চেয়ে অপকারের সম্ভাবনাও থেকে যায়। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow