বাবর আজমের মাস্টারপ্ল্যানে যেভাবে বদলে গেল পাকিস্তানের ভাগ্য

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম টেস্টে হতাশাজনক হারের পর পাকিস্তানের দিকে ছুটে যাচ্ছিল সমালোচনার তীর। বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম টেস্ট হার, সমালোচনা হবেইবা না কেন? প্রশ্ন উঠছিল, সিরিজ শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে বাবর আজমকে অধিনায়ক করে লাভটা হলো কী? কী লাভ হলো? বাবর আজম পরের টেস্টেই দেখিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তার সাহসী দল নির্বাচন এবং স্পিননির্ভর কৌশল কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটালো পাকিস্তান। কুইন্স পার্ক ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলো সফরকারীরা। তারৌবায় প্রথম টেস্টে পেস-সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখে চার পেসার খেলিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট দেখে পরিকল্পনা আমূল বদলে ফেলে টিম ম্যানেজমেন্ট। ৮ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও ৪ উইকেট শিকারি খুররম শাহজাদকে একাদশের বাইরে রেখে দলে নেওয়া হয় দুই স্পিনার সাজিদ খান ও আলি উসমানকে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে আসলেই সাহসের দরকার ছিল। বাবর সেটি করে দেখিয়েছেন। দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে জয়ের অন্যতম নায়ক স্পিনার সাজিদ খান এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দুই স্পিনার মিলে

বাবর আজমের মাস্টারপ্ল্যানে যেভাবে বদলে গেল পাকিস্তানের ভাগ্য

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম টেস্টে হতাশাজনক হারের পর পাকিস্তানের দিকে ছুটে যাচ্ছিল সমালোচনার তীর। বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম টেস্ট হার, সমালোচনা হবেইবা না কেন? প্রশ্ন উঠছিল, সিরিজ শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে বাবর আজমকে অধিনায়ক করে লাভটা হলো কী?

কী লাভ হলো? বাবর আজম পরের টেস্টেই দেখিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তার সাহসী দল নির্বাচন এবং স্পিননির্ভর কৌশল কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটালো পাকিস্তান। কুইন্স পার্ক ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলো সফরকারীরা।

তারৌবায় প্রথম টেস্টে পেস-সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখে চার পেসার খেলিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট দেখে পরিকল্পনা আমূল বদলে ফেলে টিম ম্যানেজমেন্ট।

৮ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও ৪ উইকেট শিকারি খুররম শাহজাদকে একাদশের বাইরে রেখে দলে নেওয়া হয় দুই স্পিনার সাজিদ খান ও আলি উসমানকে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে আসলেই সাহসের দরকার ছিল। বাবর সেটি করে দেখিয়েছেন।

jagonewsদুই ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে জয়ের অন্যতম নায়ক স্পিনার সাজিদ খান

এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দুই স্পিনার মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯টির মধ্যে (একজন আহত অবসর) ১৪টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের জয় সহজ করে দেন। বিশেষ করে সাজিদ খান দুই ইনিংসে ৮ উইকেট শিকার করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।

ম্যাচ শেষে বাবর আজম জানান, উইকেটের চরিত্র বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সবসময় উইকেট অনুযায়ী দল নির্বাচন করি। এখানকার কন্ডিশনের কারণে আব্বাসকে বাইরে রাখতে হয়েছে। তাই অতিরিক্ত দুই স্পিনার খেলিয়েছি। প্রথম দিনে পেসাররা ভালো বাউন্স পেলেও পরে স্পিনাররা টার্ন আদায় করে নেয়। শেষ পর্যন্ত বোলার ও ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করায় দল হিসেবে আমরা সফল হয়েছি।’

দ্বিতীয় টেস্টে চারটি পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। টেস্ট অভিষেক হয় উবায়েদ শাহ ও আওয়াইস জাফরের। ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া শান মাসুদের জায়গায় দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরেন আবদুল্লাহ শফিক।

ফেরার ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন শফিক। তিন নম্বরে নেমে ৩২৩ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৬০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। বাবর আজমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৮৩ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের জবাবে ৩৮৭ রান তুলতে সাহায্য করেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটি গড়ে মাত্র ৭৫ রানের লক্ষ্য সহজেই পার করে দেন শফিক।

jagonewsআবদুল্লাহ শফিক দলে ফিরেই হাঁকান বড় সেঞ্চুরি

শফিকের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বাবর বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে সে নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেট খেলেছে। তাই তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল, কোনো ধরনের জড়তা দেখিনি। সে প্রমাণ করেছে, আগের চেয়ে আরও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে দলে ফিরেছে।’

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৮ রান যোগ করতে পেরেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলআউট হয় মাত্র ১২০ রানে।

বাবর জানান, প্রথম টেস্টের পর পুরো দল বসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করেছে। বিশেষ করে স্পিন মোকাবিলায় বাড়তি অনুশীলন করা হয়েছে, ‘লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে গত কয়েক মাস ধরেই আমরা এই সিরিজ এবং ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ের ঘাটতির কারণেই আমরা হেরেছিলাম। পরে সবাই মিলে ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় টেস্টের আগে আমরা পেসের চেয়ে স্পিনের বিপক্ষে বেশি অনুশীলন করেছি, আর সেটাই আমাদের কাজে এসেছে।’

বাবর শুধু প্ল্যানিংয়েই নয়, ব্যাট হাতেও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৮ আর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ২৪ রান করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। পুরো সিরিজে ১৯৩ রান করে হয়েছেন সিরিজসেরাও।

তবে বাবরের আসল পরীক্ষা হবে সামনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পরই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে পাকিস্তান। সেখানে প্রতিকূল কন্ডিশনে তার নেতৃত্বে দল কেমন করে, সেটিই দেখার।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow