বাবা: সন্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদ

অর্ণব দাশআমরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন কিছু অনুভূতির ভেতর দিয়ে যাই, যা প্রকাশ করা সহজ হয় না। কাউকে ভালোবেসেও ‘ভালোবাসি’ শব্দটি বলা হয়ে ওঠে না। এই বলতে চেয়েও বলতে না পারার অনুভূতিগুলোই ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরে এক ধরনের নিঃশব্দ শূন্যতা তৈরি করে। ঠিক তেমনই একটি অনুভূতি লুকিয়ে থাকে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে- বাবার প্রতি ভালোবাসা। আমরা অনুভব করি, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ করি। আমি সবসময় পড়াশোনার গন্ডির বাইরে গিয়ে ব্যাতিক্রম কিছু করতে চাইতাম। বাবাকে না জানিয়ে অনেক এক্সট্রা কারিকুলার কাজে যুক্ত হতাম, যা তিনি শুরুতে পছন্দ করতেন না। কিন্তু আমি থামিনি। সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, আমার সেই চেষ্টা আর তার শাসন দুটোই আমাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে। এখন তিনি সরাসরি কিছু না বললেও, তার চোখে আমার জন্য গর্ব স্পষ্ট দেখা যায়। যে মানুষটির প্রতিদিনের পরিশ্রমে একটি পরিবারের ভিত্তি শক্ত থাকে, তিনি বাবা। আর সেই যাত্রায় নীরব সহযাত্রী হয়ে থাকেন মা। পরিবারের স্বাভাবিক চলার পেছনে এই দুটি মানুষের অবদান এতটাই স্বাভাবিকভাবে মিশে থাকে যে, অনেক সময় তা আলাদা করে চোখে পড়ে না। ছোটবেলায় বাবাকে অনেকের কাছেই মনে হয় শাসনের প্রতীক। পড়াশোনা, সম

বাবা: সন্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদ

অর্ণব দাশ
আমরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন কিছু অনুভূতির ভেতর দিয়ে যাই, যা প্রকাশ করা সহজ হয় না। কাউকে ভালোবেসেও ‘ভালোবাসি’ শব্দটি বলা হয়ে ওঠে না। এই বলতে চেয়েও বলতে না পারার অনুভূতিগুলোই ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরে এক ধরনের নিঃশব্দ শূন্যতা তৈরি করে। ঠিক তেমনই একটি অনুভূতি লুকিয়ে থাকে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে- বাবার প্রতি ভালোবাসা। আমরা অনুভব করি, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ করি।

আমি সবসময় পড়াশোনার গন্ডির বাইরে গিয়ে ব্যাতিক্রম কিছু করতে চাইতাম। বাবাকে না জানিয়ে অনেক এক্সট্রা কারিকুলার কাজে যুক্ত হতাম, যা তিনি শুরুতে পছন্দ করতেন না। কিন্তু আমি থামিনি। সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, আমার সেই চেষ্টা আর তার শাসন দুটোই আমাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে। এখন তিনি সরাসরি কিছু না বললেও, তার চোখে আমার জন্য গর্ব স্পষ্ট দেখা যায়।

যে মানুষটির প্রতিদিনের পরিশ্রমে একটি পরিবারের ভিত্তি শক্ত থাকে, তিনি বাবা। আর সেই যাত্রায় নীরব সহযাত্রী হয়ে থাকেন মা। পরিবারের স্বাভাবিক চলার পেছনে এই দুটি মানুষের অবদান এতটাই স্বাভাবিকভাবে মিশে থাকে যে, অনেক সময় তা আলাদা করে চোখে পড়ে না।

ছোটবেলায় বাবাকে অনেকের কাছেই মনে হয় শাসনের প্রতীক। পড়াশোনা, সময় মেনে চলা, দায়িত্ব-সবকিছুতেই তার কঠোর নজর থাকে। দিনের পর দিন পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা এসবই তখন আমাদের কাছে কঠোরতা মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে বোঝা যায়, সেটিই ছিল দায়িত্ববোধের এক বাস্তব প্রকাশ।

শৈশবের অনেক স্মৃতি বাবার কাঁধে চড়ে ঘোরা, আঙুল ধরে হাঁটা, সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু তাদের আবেগ মুছে যায় না। বরং বড় হতে হতে আমরা উপলব্ধি করি, একজন বাবার ভূমিকা কেবল অভিভাবক নয়, একজন নীরব পথপ্রদর্শকও।

বর্তমান সময়ে অনেকেই পড়াশোনা বা কাজের প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। এই দূরত্বই হয়তো সবচেয়ে বেশি বুঝিয়ে দেয়, বাবার উপস্থিতি কতটা নির্ভরতার ছিল। প্রতিদিনের ক্লান্তির পর তার সংক্ষিপ্ত কথা, কিংবা নীরব হাসি এই ছোট ছোট বিষয়গুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর স্নেহ ও দায়বদ্ধতা।

সন্তানের জন্য বাবার আত্মত্যাগ, নিরলস পরিশ্রম এবং নিঃশব্দ ভালোবাসা আমাদের প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। তবুও এই ভালোবাসার প্রকাশ খুব কমই ঘটে। ‘ভালোবাসি’ এই শব্দটি বাবাকে বলা অনেকের কাছেই যেন কঠিন হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় শিল্পী জেমসের গানের একটি লাইন ‘ছেলে আমার বড় হবে, মাকে বলত সে কথা, হবে মানুষের মতো মানুষ’ শুধু একটি গান নয়, এটি অসংখ্য বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন। প্রতিটি বাবা চান, তার সন্তান একদিন মানুষের মতো মানুষ হোক, নিজের অবস্থান তৈরি করুক।

বাবা দিবস হয়তো ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট দিন, কিন্তু বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন যথেষ্ট নয়। এই অনুভূতি থাকা উচিত প্রতিদিনের জীবনে, প্রতিটি ছোট আচরণে। হয়তো আমরা সবাই মুখে বলতে পারি না, কিন্তু সত্যিটা একটাই বাবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা গভীর, নীরব, এবং অবিচ্ছেদ্য। আজ বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

লেখক: সমাজকর্মী, সংগঠক ও কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow