বিশ্বের ১ হাজার শহর ভ্রমণ করলেন তানভীর অপু

বাংলাদেশের কৃতি সন্তান তানভীর অপু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তার অদ্ভুত বাতিক ছিল। টাকা জোগাড় হলেই বেরিয়ে পড়তেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এ পর্যন্ত ৯৯টি দেশের ১ হাজার শহর ঘুরেছেন। ২০০৫ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভ্রমণের মাধ্যমে এই স্বপ্নযাত্রার সূচনা হয়। ২০ বছরের বিশ্বভ্রমণে চীনের গুইলিংয়ে পা রাখার মধ্য দিয়ে তিনি স্পর্শ করেছেন ভ্রমণজীবনের হাজারতম শহর। জানা যায়, তানভীর অপু সাতটি মহাদেশ, পাঁচটি মহাসাগর, অসংখ্য দ্বীপ, পর্বত, মরুভূমি, বনাঞ্চল এবং শত শত ঐতিহাসিক ও আধুনিক নগরী ভ্রমণ করেছেন। বিশ বছরের যাত্রায় তিনি দেখেছেন মানবসভ্যতার বিচিত্র রূপ, প্রাচীন ইতিহাসের গৌরব, আধুনিক বিশ্বের বিস্ময়কর অগ্রগতি এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। নানা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা তাকে সমৃদ্ধ করেছে। কখনো আর্কটিকের নীরব তুষারভূমিতে, কখনো আফ্রিকার বন্য প্রকৃতির মাঝে, কখনো ইউরোপের শতাব্দীপ্রাচীন নগরীতে, কখনো দক্ষিণ আমেরিকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনুভব করেছেন সীমাহীন বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য। তানভীর অপু বলেন, ‘গুইলিংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে মনে হলো, হাজারতম শহরে পৌঁছানোর পেছনে লুকিয়ে আছে

বিশ্বের ১ হাজার শহর ভ্রমণ করলেন তানভীর অপু

বাংলাদেশের কৃতি সন্তান তানভীর অপু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তার অদ্ভুত বাতিক ছিল। টাকা জোগাড় হলেই বেরিয়ে পড়তেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এ পর্যন্ত ৯৯টি দেশের ১ হাজার শহর ঘুরেছেন। ২০০৫ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভ্রমণের মাধ্যমে এই স্বপ্নযাত্রার সূচনা হয়। ২০ বছরের বিশ্বভ্রমণে চীনের গুইলিংয়ে পা রাখার মধ্য দিয়ে তিনি স্পর্শ করেছেন ভ্রমণজীবনের হাজারতম শহর।

জানা যায়, তানভীর অপু সাতটি মহাদেশ, পাঁচটি মহাসাগর, অসংখ্য দ্বীপ, পর্বত, মরুভূমি, বনাঞ্চল এবং শত শত ঐতিহাসিক ও আধুনিক নগরী ভ্রমণ করেছেন। বিশ বছরের যাত্রায় তিনি দেখেছেন মানবসভ্যতার বিচিত্র রূপ, প্রাচীন ইতিহাসের গৌরব, আধুনিক বিশ্বের বিস্ময়কর অগ্রগতি এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।

নানা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা তাকে সমৃদ্ধ করেছে। কখনো আর্কটিকের নীরব তুষারভূমিতে, কখনো আফ্রিকার বন্য প্রকৃতির মাঝে, কখনো ইউরোপের শতাব্দীপ্রাচীন নগরীতে, কখনো দক্ষিণ আমেরিকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনুভব করেছেন সীমাহীন বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য।

opu

তানভীর অপু বলেন, ‘গুইলিংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে মনে হলো, হাজারতম শহরে পৌঁছানোর পেছনে লুকিয়ে আছে অগণিত পথচলা, অসংখ্য সীমান্ত অতিক্রম, হাজারো মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং পৃথিবীকে জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। এটি স্বপ্ন, সাহস, অধ্যবসায় এবং অজানাকে জানার নিরন্তর প্রচেষ্টা। দিল্লি থেকে গুইলিংয়ের এ দীর্ঘযাত্রা আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা, অর্জন এবং স্মৃতির অবিস্মরণীয় মহাকাব্য।’

তিনি বলেন, ‘৯৯টি দেশ, সাতটি মহাদেশ, পাঁচটি মহাসাগর এবং ১ হাজার শহর পেরোতে আড়াই লক্ষ কিলোমিটারের ওপরে সড়ক ভ্রমণ করেছি। এই দীর্ঘযাত্রায় পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটননগরী দেখার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি শহরের নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং গল্প আছে। সেই গল্পই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আশা করি আগামী মাসেই হয়তো শততম দেশে পা রাখবো।’

opu

তিনি হেলসিংকি, লন্ডন, ডাবলিন, বার্লিন, হেমারফেস্ট, টমসো উসুঅইয়া, জুরিখ, জেনেভা, ফ্রাঙ্কফুট, নয়াদিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, পাঞ্জাব, জয়পুর, রাজস্থান, কেরালা, বেঙ্গালুরু, কাঠমান্ডু, পোখারা, মাস্কাট, রিয়াদ, জেদ্দা, ক্যানভ্যারা, সিডনি, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, রাবাত, কাসাব্লাঙ্কা, নাইরোবি, কাম্পালা, জিনজা, জেরুজালেম, তেল আবিব, তুর্কু, স্টকহোম, গথেনবার্গ, ওসলো, বার্গেন, ব্যাংকক, সিএমরিপ, পাতাইয়া, কুনমিং, রেইগেভিক, কোলোনিয়া, বেলিজ সিটি, মেরিডা, ফ্লোরেন্স, মিলান, ওয়ারশো, লুবলিন, কোপান, লিজিয়ান, ডালি, রোভানিয়েমি, তাল্লিন, তারতু, রিগা, ভিলনিয়াস, কাউনাস, ওয়ারশ, ক্রাকোভ, বুদাপেস্ট, প্রাগ, ব্রনো, ব্রাতিস্লাভা, এথেন্স, থবুখারেস্ট, ক্লুজ-নাপোকা, সোফিয়া, কিয়েভ, লাভিভ, বেলগ্রেড, সারায়েভো, প্রিস্টিনা, স্কোপিয়ে, ওহরিদ, জাগরেব, স্প্লিট,বুদভা, তিরানা,বার্ন, জুরিখ, ভিয়েনা, সালজবুর্গ, লন্ডন, লিভারপুল, সেন্ট পিটার্সবার্গ, ভাদুজ, ব্রাসেলস, অ্যান্টওয়ার্প, আমস্টারডাম, রটারডাম, লুক্সেমবার্গ সিটি, এ বার্লিন, মিউনিখ, প্যারিস, বুয়েনস আইরেস, কুইটো, গুয়ায়াকিল, লিমা, কুসকো, সান্ত, মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, হাভানা, সান্তিয়াগো দে কিউবা, পানামা সিটি, কোলন, সান হোসে, এল চালতেন, এল কেলাফতে, তেগুসিগালপা, সানপেদ্রো মানাগুয়া, সান সালভাদর, সান্তা আনা, বেলমোপান, বেলিজ সিটি, গুয়াতেমালা সিটি, আন্তিগুয়া গুয়াতেমালা, বেইজিং, সাংহাই, ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউইয়র্ক সিটির মতো ১ হাজার শহর ভ্রমণ করেছেন।

opu

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি অঙ্গরাজ্য ভ্রমণ তার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পেশাগত জীবনে স্থায়ী কোনো চাকরি নেই। নেশায় তিনি পরিব্রাজক। বর্তমানে বসবাস করছেন ফিনল্যান্ডে। সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন তিনি। ফিনল্যান্ড থেকেই ভ্রমণের নেশা চেপে বসে। ফলে স্থায়ী কোনো চাকরি করা সম্ভব হয় না। মন চাইলে আর পকেটে টাকা থাকলেই বেরিয়ে পড়েন বিশ্ব ভ্রমণ করতে।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow