মনোহরদী বাইপাস সড়ক নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও : সত্যতা যাচাইয়ে যুবদল নেতারা

নরসিংদীর মনোহরদীতে বাইপাস সড়কের চলমান ঢালাই কাজকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে যান জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বুধবার (০৬ মে) সকালে মনোহরদী পৌরসভার বাইপাস সড়কের দীর্ঘদিন পর ঢালাই কাজ শুরু হয়। এ সময় একজন ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, ‘বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার ঢালাই কাজ চলছে।’ তবে স্থানীয়দের দাবি, তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ভিডিও ধারণকারীকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে আখ্যায়িত করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেন। পর

মনোহরদী বাইপাস সড়ক নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও : সত্যতা যাচাইয়ে যুবদল নেতারা
নরসিংদীর মনোহরদীতে বাইপাস সড়কের চলমান ঢালাই কাজকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে যান জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বুধবার (০৬ মে) সকালে মনোহরদী পৌরসভার বাইপাস সড়কের দীর্ঘদিন পর ঢালাই কাজ শুরু হয়। এ সময় একজন ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, ‘বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার ঢালাই কাজ চলছে।’ তবে স্থানীয়দের দাবি, তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ভিডিও ধারণকারীকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে আখ্যায়িত করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেন। পরে তার স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়রা থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান, পূর্বের ভিডিও মুছে ফেলেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে নিরাপদ স্থানে গিয়ে তিনি আগের লাইভ ভিডিওটি ডিলিট করে পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন যে, যুবদল, ছাত্রদল ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কৌশলে কথা বলে তা সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করলে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ সময় মনোহরদী বাইপাস সংলগ্ন মার্কেট মালিক ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আজিজুল হক মাষ্টো, মনোহরদী বাজার মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী মো. মানিক মিয়া, ঠিকাদার মোহাম্মদ বজলুল হক, ব্যবসায়ী রাজিব রায়সহ স্থানীয় সাংবাদিক ও শতাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঢালাই কাজ চলাকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তারা দাবি করেন, বিভ্রান্তিকর ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা। তদন্তে আসা জেলা যুবদল নেতারা সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে স্থানীয় নেতারা ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তি আবারও লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষমা চান এবং সবার সঙ্গে ছবি তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দাবি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সম্মানহানিকর তথ্য প্রচারকারী কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে মনোহরদীতে কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন, কোনো প্রকৃত সাংবাদিক হামলা, মামলা বা হয়রানির শিকার হলে সাংবাদিক সমাজ সবসময় তার পাশে থাকবে। তবে বিভ্রান্তিকর কল্পনাপ্রসূত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মানিত মানুষের সম্মান নষ্ট করা। তাছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের নামধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তারা জানান। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতাদের দাবি, প্রশাসন এবং মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow