মবের বিরুদ্ধে একবারই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যে গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকে উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে একবারই। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন সরকার-সমর্থিত ইউনিয়নের নেতারা। তাদের দাবি ছিল, এক দিনের মধ্যে ১০০ জন কর্মকর্তাকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দিতে হবে। তখন ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। এই দাবিতে সরকার–সমর্থক বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়তাবাদী কর্মচারী সমিতির (নির্বাচিত সিবিএ) নেতৃত্বে ৪০০-৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এ সময় গভর্নরের বিরুদ্ধে তারা নানা ধরনের স্লোগান ও গালাগাল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ৪০-৫০ বিক্ষোভকারী জোর করে গভর্নরের কক্ষেও প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় ৩০ অক্টোবরই ১০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তারা আর চাকরি ফিরে পাননি। তাদের মধ্যে বিএনপি-সমর্থিত অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিবিএর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাকরিচ্যুত সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী হওয়ায় সরকারের একটি অংশ নমনীয় হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে স
বাংলাদেশ ব্যাংকে উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে একবারই। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন সরকার-সমর্থিত ইউনিয়নের নেতারা।
তাদের দাবি ছিল, এক দিনের মধ্যে ১০০ জন কর্মকর্তাকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দিতে হবে। তখন ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। এই দাবিতে সরকার–সমর্থক বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়তাবাদী কর্মচারী সমিতির (নির্বাচিত সিবিএ) নেতৃত্বে ৪০০-৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এ সময় গভর্নরের বিরুদ্ধে তারা নানা ধরনের স্লোগান ও গালাগাল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ৪০-৫০ বিক্ষোভকারী জোর করে গভর্নরের কক্ষেও প্রবেশ করেন।
এই ঘটনায় ৩০ অক্টোবরই ১০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তারা আর চাকরি ফিরে পাননি। তাদের মধ্যে বিএনপি-সমর্থিত অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিবিএর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাকরিচ্যুত সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী হওয়ায় সরকারের একটি অংশ নমনীয় হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ। পরবর্তীতে ফখরুদ্দীন আহমদ মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত গভর্নর পদে বহাল ছিলেন।
এই একটি ঘটনাতেই মবকারীরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য শাস্তি পাওয়ার আর কোনো উদাহরণ নেই।
উল্লখ্য, গত বুধবার মব তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে বের করে দেওয়া হয়। এর আগে গভর্নর পরিবর্তনের সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকলে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে চলে যান।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে হেনস্তা করার উদাহরণটা বাংলাদেশ তৈরি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সদ্য ক্ষমতাসীন হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন খোরশেদ আলম। তিনি গভর্নর পদে এসেছিলেন ১৯৯২ সালের সালের ২০ ডিসেম্বর। তৎকালীন বিএনপি সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছিল।
খোরশেদ আলমের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে, ১৯৯৬ সালের ২১ নভেম্বর তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই দিন লুৎফর রহমান সরকারকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরদিন ২২ নভেম্বরে দৈনিক ইত্তেফাক–এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ নভেম্বর সকাল থেকে খোরশেদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘেরাও করে রেখেছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে লুৎফর রহমান সরকার যখন দায়িত্ব নিতে আসেন, তখনো সাবেক গভর্নর অবরুদ্ধ। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নতুন গভর্নরকে স্বাগত জানালেও সাবেক গভর্নরকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন থেকে বের হতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে লুৎফর রহমান সরকার এ সময় বিপর্যস্ত সাবেক গভর্নরকে নিরাপদে অফিস ত্যাগে কোনো বাধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
এছাড়া সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২০০৯ সালের ১ মে পর্যন্ত। তিনি শেষ অফিস করেছিলেন ৩০ এপ্রিল। পরদিন দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘বিদায়কালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কবলে ড. সালেহউদ্দিন’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যেই গভর্নরের কার্যালয় মূল ভবনের চতুর্থ তলায় লোকজন নিয়ে অবস্থান নেন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন খান, সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু। তারা গভর্নরকে আটক করে দাবি আদায়ের প্রস্তুতি নেন এবং গভর্নরের রুমে ঢুকে সবার জন্য ইনক্রিমেন্ট দাবি করেন। একপর্যায়ে ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের ডেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি করে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেন বিদায়ী গভর্নর। তবে কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ না করায় ক্ষুব্ধ হন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তাদের ইন্ধনে ব্যাংকের নিচে অবস্থান নেন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা বের হওয়ার গেটে অবস্থান নেন। পাঁচটার পর বিদায়ী গভর্নর নিচে নেমে বের হওয়ার গেটে ভিড় দেখে অন্য পাশে থাকা প্রবেশ গেট দিয়ে বের হন।’
What's Your Reaction?