মাত্র ২০-৫০ জন কর্মী নিয়েই শত কোটি ডলারের কোম্পানি!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে স্টার্টআপ জগতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এখন অল্প কয়েকজন কর্মী নিয়েই বিলিয়ন বা শত কোটি ডলারের কোম্পানি গড়ে উঠছে। বিশেষ করে এআই নির্ভর স্টার্টআপগুলো এমন এক দক্ষতা দেখাচ্ছে, যেখানে ছোট টিম দিয়েই বিশাল বাজারমূল্য তৈরি সম্ভব হচ্ছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, খুব শিগগির বাজারমূল্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে- এমন কোম্পানি দেখা যাবে, যাদের কর্মী মাত্র ১০ জন। এমনকি, একক ব্যক্তির বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিও ভবিষ্যতে সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ধারণার বাস্তব রূপ এখন ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এআই স্টার্টআপে, যেখানে ৫০ জনের কম কর্মী নিয়েই শত কোটি ডলারের কোম্পানি তৈরি হয়েছে। স্টার্টআপ সাধারণত বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীসংখ্যা বাড়ায়। তবে এআই প্রযুক্তি সেই প্রচলিত নিয়মকে বদলে দিচ্ছে। এখন সফটওয়্যার, অটোমেশন ও মডেল-ভিত্তিক কাজের কারণে কম মানুষ দিয়েই বড় পরিসরের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবসা বিশ্লেষক সংস্থা পিচবুক’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বেশ কিছু এআই স্টার্টআপ রয়েছে, যাদের মূল্য ১ বিলিয়ন বা ১০০

মাত্র ২০-৫০ জন কর্মী নিয়েই শত কোটি ডলারের কোম্পানি!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে স্টার্টআপ জগতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এখন অল্প কয়েকজন কর্মী নিয়েই বিলিয়ন বা শত কোটি ডলারের কোম্পানি গড়ে উঠছে। বিশেষ করে এআই নির্ভর স্টার্টআপগুলো এমন এক দক্ষতা দেখাচ্ছে, যেখানে ছোট টিম দিয়েই বিশাল বাজারমূল্য তৈরি সম্ভব হচ্ছে।

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, খুব শিগগির বাজারমূল্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে- এমন কোম্পানি দেখা যাবে, যাদের কর্মী মাত্র ১০ জন। এমনকি, একক ব্যক্তির বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিও ভবিষ্যতে সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই ধারণার বাস্তব রূপ এখন ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এআই স্টার্টআপে, যেখানে ৫০ জনের কম কর্মী নিয়েই শত কোটি ডলারের কোম্পানি তৈরি হয়েছে।

স্টার্টআপ সাধারণত বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীসংখ্যা বাড়ায়। তবে এআই প্রযুক্তি সেই প্রচলিত নিয়মকে বদলে দিচ্ছে। এখন সফটওয়্যার, অটোমেশন ও মডেল-ভিত্তিক কাজের কারণে কম মানুষ দিয়েই বড় পরিসরের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।

ব্যবসা বিশ্লেষক সংস্থা পিচবুক’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বেশ কিছু এআই স্টার্টআপ রয়েছে, যাদের মূল্য ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। কিন্তু তাদের কর্মীসংখ্যা ৫০ জন বা তারও কম।

বিজনেস ইনসাইডার এই তথ্যগুলো বিভিন্ন কোম্পানির লিংকডইন প্রোফাইল ও বাজার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যাচাই করেছে।

এমন ১০টি কোম্পানি-

সেফ সুপারইন্টেলিজেন্ট

মূল্য: ৩২ বিলিয়ন বা ৩২০০ কোটি ডলার

কর্মী: ২০ জন

ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সাটস্কেভার এই স্টার্টআপটি শুরু করেন। লক্ষ্য হলো- এমন এআই তৈরি করা, যা মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হলেও মানবমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে।

ওজি ল্যাবস

মূল্য: ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার

কর্মী: ৪০ জন

এটি একটি ডেসেন্ট্রালাইজড এআই অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করছে, যা ব্লকচেইনের মাধ্যমে এআই অ্যাপ্লিকেশন চালাতে সাহায্য করবে।

ম্যাজিক

মূল্য: ১.৫৮ বিলিয়ন বা ১৫৮ কোটি ডলার

কর্মী: ২০ জন

এই কোম্পানি এমন এআই মডেল তৈরি করছে যা বিশাল কোডবেস পড়তে, বুঝতে এবং ডেভেলপারদের কোড লিখতে ও ঠিক করতে সাহায্য করে।

সাকানা এআই

মূল্য: ১.৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার

কর্মী: ২৮ জন

টোকিওভিত্তিক এই স্টার্টআপটি ছোট এআই মডেল একত্র করে জটিল কাজ সম্পন্ন করার প্রযুক্তি তৈরি করছে।

স্কিলড এআই

মূল্য: ১.৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার

কর্মী: ২৫ জন

রোবটিক্স-কেন্দ্রিক এই কোম্পানি এমন এআই তৈরি করছে, যা বাস্তব পরিবেশে রোবটকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

ব্ল্যাক ফরেস্ট ল্যাবস

মূল্য: ১.২৮ বিলিয়ন বা ১২৮ কোটি ডলার

কর্মী: ২৪ জন

এটি টেক্সট থেকে ছবি তৈরি করার এআই প্রযুক্তি তৈরি করে, যা বিভিন্ন জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অ্যাকিউটার বায়োটেক

মূল্য: ১.০৩ বিলিয়ন বা ১০৩ কোটি ডলার

কর্মী: ৪০ জন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নের কাজ করে এই বায়োটেক স্টার্টআপ।

আন্দালুসিয়া ল্যাবস

মূল্য: ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার

কর্মী: ২২ জন

প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল অ্যাসেট সিকিউরিটির জন্য এআইভিত্তিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি তৈরি করছে।

ওপেনএভিডেন্স

মূল্য: ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার

কর্মী: ২২ জন

চিকিৎসকদের জন্য এআই কো-পাইলট তৈরি করেছে, যা দ্রুত মেডিকেল রিসার্চ বিশ্লেষণে সাহায্য করে।

ওয়ার্ল্ড ল্যাব

মূল্য: ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার

কর্মী: ২০ জন

থ্রিডি পরিবেশ বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম এআই মডেল তৈরি করছে এই কোম্পানি। এর নেতৃত্বে আছেন বিশ্বখ্যাত এআই গবেষক ফেই-ফেই লি।

কেন এআই স্টার্টআপ এত কম সংখ্যক কর্মী নিয়েও সফল হচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, এআই এখন অনেক কাজ নিজেই করতে সক্ষম। কোডিং, ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজাইন ও অটোমেশন- সবকিছুতেই এআই মানুষের কাজের বড় অংশ সম্পাদন করছে। ফলে স্টার্টআপগুলো কম জনবল নিয়েই দ্রুত অনেক বেশি কাজ করতে পারছে।

এটি শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং স্টার্টআপ অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনও নির্দেশ করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন কোম্পানি দেখা যেতে পারে যেগুলো অত্যন্ত ছোট টিম দিয়েই বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে চাকরির কাঠামো, বিনিয়োগ মডেল এবং প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

স্যাম অল্টম্যানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এমনকি একক প্রতিষ্ঠাতার বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিও আর অস্বাভাবিক কিছু হবে না।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow