মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা, বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। তবে মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গত শনিবার (২০ জুন) জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি সংগঠনের কোনো স্তরেরই সদস্য নন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন মুফতি ফয়জুল করীম। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। তবে মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত শনিবার (২০ জুন) জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি সংগঠনের কোনো স্তরেরই সদস্য নন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন মুফতি ফয়জুল করীম।
এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফের মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান মামলাটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মামলার বাদী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।
অন্যদিকে, মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নন বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান। তিনি বলেন, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কেউ নন। তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তবে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যুবদলের কর্মী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক। বিএনপির সংসদ সদস্য ও তার নেতার মানহানি হওয়ায় তিনি সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি করেছেন।
মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
What's Your Reaction?