মেয়েকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকা হত্যাকাণ্ডের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরও একটি কারণ। ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেওয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করত। খেলাধুলার একপর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদিকে বিষয়টি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার দাদি ফাতেমাকে মারধর করেন। কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প

মেয়েকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকা হত্যাকাণ্ডের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরও একটি কারণ।
ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেওয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করত।

খেলাধুলার একপর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদিকে বিষয়টি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার দাদি ফাতেমাকে মারধর করেন।

কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এর মধ্যে গত  বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে শিশু রাকামনিকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্যা বেগম ও তার পরিবার।

আসামি বন্যা বেগম স্বীকার করেন, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির একটি ছোট সেড রয়েছে। সেখানে রাকা যখন মুরগি দেখছিল তখন পেছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে রাকার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়।

বন্যা বেগম দাবি করেন, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে। এরপর কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়।

ওসি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি আরও বলেন, রাকার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়েও জোরালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম, বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow