ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ৬ শিশু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগীকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা জীবনঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ সকাল পর্যন্ত সেখানে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে, তাদের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে

ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ৬ শিশু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগীকে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা জীবনঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ সকাল পর্যন্ত সেখানে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে, তাদের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। 

এ জন্য শিশু ওয়ার্ডের ৩টি পৃথক কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে হামের চিকিৎসা চলছে।

তবে হাম কর্নারের কক্ষগুলোতে রোগীদের সংকুলান হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে হামে আক্রান্ত রোগীদের পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালটির হাম মেডিকেল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, ‘পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের ৮ তলার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাচ্ছে। তবে আইসিইউ লাগবে—এমন পরিস্থিতির কোনো রোগী এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভর্তি হয়নি।’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম জানান, হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগের তিনটি কক্ষ নিয়ে করা হাম কর্নার সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্‌মেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন। 

উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২২ জন সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ৬ জন ভর্তি আছে। হাম আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow