যুবদল নেতা হত্যায় ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে বিএনপির অপর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কাফরুল থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের নাম। সোমবার (২৭ জুলাই) এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, এ কিলিং মিশনের মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধের জেরে ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা প্রথমে মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেন, পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে যান। সেখানে আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল নিয়ে আসেন। কিন্তু এদিন আকস্মিকভাবে অস্ত্র থেকে গুলি ব
রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে বিএনপির অপর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কাফরুল থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের নাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, এ কিলিং মিশনের মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধের জেরে ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ।
গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা প্রথমে মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেন, পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে যান। সেখানে আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল নিয়ে আসেন।
কিন্তু এদিন আকস্মিকভাবে অস্ত্র থেকে গুলি বের হলে সেদিনের পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে তারা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুকে শনাক্ত করে সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় তারা আবার গ্যারেজে একত্র হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে দেন। এরপর জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালাতে সহায়তা এবং পুলিশের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।
ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরের ওপেক্স গার্মেন্টসের পাশে চা দোকানের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু। এসময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
What's Your Reaction?