যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত ও গবেষণা চৌর্যবৃত্তিতে বরখাস্তকে জাবিপ্রবির উপাচার্য নিয়োগ 

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন। তবে তার এই নিয়োগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে

যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত ও গবেষণা চৌর্যবৃত্তিতে বরখাস্তকে জাবিপ্রবির উপাচার্য নিয়োগ 

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন।

তবে তার এই নিয়োগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে পড়েন তিনি। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, মানসিক নির্যাতন, অশালীন মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটূক্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ তোলা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক আমির হোসেন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি চালাতেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, ফলাফলে বৈষম্য, গবেষণায় নিরুৎসাহিত করা এবং সহকর্মী শিক্ষকদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আইরীন আক্তার। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও দীর্ঘ সময়েও সেই তদন্ত শেষ হয়নি।

এছাড়া গবেষণাপত্রে জালিয়াতির দায়ে ২০১৯ সালের ৩ আগষ্ট সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত হন অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

গবেষণা জালিয়াতির বিষয়ে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশের প্রভাব নিয়ে ২০১২ সালে একটি গবেষণা করে পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০১৭ সালে ওই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নতুন একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এসএম দিদারুল ইসলাম। এতে সহ-গবেষক হিসেবে আমির হোসেন, দিদারুলের স্ত্রী ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিনা রুমী এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গাউসুল আজমের নাম রয়েছে। তখনই তাদের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ তপন কুমার মজুমদার। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই বছর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং একটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়।

যৌন নিপীড়নে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আইরিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিবে।’

অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে স্ট্রাকচারাল কমিটি (উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন অধিকতর তদন্ত কমিটি) গঠন থাকার পরেও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘অধ্যাপক ড আমির হোসেন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে স্ট্রাকচারাল কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে অন্যান্য অ্যাজেন্ডা থাকায় তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের আরেকটি মিটিংয়ের প্রয়োজন হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগাল যে অ্যাডভাইজার রয়েছে তার সঙ্গে কথা বলব এবং তার পরামর্শেই অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে কি না সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow