রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থিতিশীল করনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ জরুরি
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী বাজেটে সরকারকে স্থিতিশীল করনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ, কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি), এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট (আরও প্ল্যান্ট) এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক রেয়াত অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন টেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে জাগোনিউজ২৪.কমের সঙ্গে আলাপকালে আশিকুর রহমান তুহিন এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি। আরও পড়ুনবাস্তবসম্মত বাজেট না হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে: দেবপ্রিয়তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্বভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে অতি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতিরাজস্ব আদায়ের যে জায়গাগুলো বাইরে ছিল সেগুলো আওতার মধ্যে এনেছি জাগো নিউজ: বাজেটে সরকার
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী বাজেটে সরকারকে স্থিতিশীল করনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ, কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি), এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট (আরও প্ল্যান্ট) এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক রেয়াত অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন টেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে জাগোনিউজ২৪.কমের সঙ্গে আলাপকালে আশিকুর রহমান তুহিন এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
আরও পড়ুন
বাস্তবসম্মত বাজেট না হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে: দেবপ্রিয়
তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্ব
ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে অতি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি
রাজস্ব আদায়ের যে জায়গাগুলো বাইরে ছিল সেগুলো আওতার মধ্যে এনেছি
জাগো নিউজ: বাজেটে সরকারের কাছে আপনার প্রধান দাবি কী?
আশিকুর রহমান তুহিন: বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে আমাদের প্রধান দাবি হলো—একটি বাস্তবমুখী, শিল্পবান্ধব ও রপ্তানিসহায়ক বাজেট। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য কর কাঠামো সহজীকরণ, উৎসে কর কমানো, সাব-কন্ট্রাক্ট কার্যক্রমে দ্বৈত কর প্রত্যাহার এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমাতে কার্যকর নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বন্ড, কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে ব্যবসা সহজীকরণেও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জাগো নিউজ: তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য উৎসে কর, করপোরেট ট্যাক্স বা ভ্যাট কমানোর বিষয়ে আপনার কী প্রত্যাশা রয়েছে?
আশিকুর রহমান তুহিন: তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় কাজ করছে। তাই এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং এটি অন্তত আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি করপোরেট ট্যাক্স ১২ শতাংশ হারে নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ডিসঅ্যালাওয়েবল খরচ বা সম্পদ বিক্রিজনিত আয়কে অতিরিক্ত করের আওতায় না আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সাব-কন্ট্রাক্ট কার্যক্রমে ভ্যাট অব্যাহতি এবং দ্বৈত করের বোঝা দূর করা হলে শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
জাগো নিউজ: ব্যবসার খরচ কমাতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে কী ধরনের বাজেটারি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
আশিকুর রহমান তুহিন: বর্তমানে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় ব্যবসার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে প্রণোদনা প্রয়োজন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ ট্যাক্স কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে শিল্প খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কমাতে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি।
আরও পড়ুন
আসছে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট, কর্মসংস্থান-মূল্যস্ফীতিতে নজর
ইশতেহার পূরণে ৫ অগ্রাধিকার, দুই কার্ডেই বরাদ্দ ১৭ হাজার কোটি টাকা
তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ে বৈদেশিক ঋণ লাখ কোটিরও বেশি
জাগো নিউজ: লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে বন্দর, কাস্টমস ও অবকাঠামো খাতে সরকারের কাছে আপনার নির্দিষ্ট কোনো দাবি আছে কি?
আশিকুর রহমান তুহিন: লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে বন্দর, কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। বন্দরে কন্টেইনার জট কমানো, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সমন্বিত কাস্টমস ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বন্ড কমিশনারেটের মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্ট কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা এবং কন্টিনিউয়াস বন্ড সুবিধা সহজ করা জরুরি। এইচএস সংক্রান্ত জটিলতা ও স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতাও দূর করতে হবে, যাতে শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
জাগো নিউজ: বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ব্যবসার জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেটে এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ দেখতে চান?
আশিকুর রহমান তুহিন: বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ব্যবসা ও শিল্প খাতের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কার্যকর মূলধন সংগ্রহ এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বাজেটে আমরা এমন নীতিগত সহায়তা প্রত্যাশা করছি, যাতে শিল্পঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ঋণ সহজ শর্তে পাওয়া যায়। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রযুক্তি উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে স্বল্পসুদে বিশেষ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
জাগো নিউজ: রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী বাজেটে সরকারকে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আশিকুর রহমান তুহিন: রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী বাজেটে সরকারকে কয়েকটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—স্থিতিশীল করনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ, কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি), এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট (আরও প্ল্যান্ট) এবং অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক রেয়াত অব্যাহত রাখা জরুরি। নতুন প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।
আইএইচও/এমএমএআর
What's Your Reaction?