রাজশাহীতে পুলিশ পাহারায় চলছে তেল বিক্রি
রাজশাহীতে তেল সংকটের গুঞ্জনের মধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশি পাহারায় তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাম্পগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (০৭ মার্চ) সকালে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ পাহারায় ক্রেতাদের তেল দেওয়া হচ্ছে। এসময় পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ক্রয়সীমা নির্ধারণ করে দেন এবং সেই সীমার বাইরে কাউকে তেল দেওয়া হয়নি। এদিকে, শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাত থেকেই তেল স্বল্পতা কিংবা সীমিত মজুতের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নগরীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প। জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করে। তেল সংকটের গুঞ্জনে শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদের মধ্যে ফুল ট্যাংক করে জ্বালানি নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে তিন দিনের তেল এক দিনেই শেষ হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ পাম
রাজশাহীতে তেল সংকটের গুঞ্জনের মধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশি পাহারায় তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাম্পগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার (০৭ মার্চ) সকালে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ পাহারায় ক্রেতাদের তেল দেওয়া হচ্ছে। এসময় পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ক্রয়সীমা নির্ধারণ করে দেন এবং সেই সীমার বাইরে কাউকে তেল দেওয়া হয়নি।
এদিকে, শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাত থেকেই তেল স্বল্পতা কিংবা সীমিত মজুতের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নগরীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প।
জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করে। তেল সংকটের গুঞ্জনে শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদের মধ্যে ফুল ট্যাংক করে জ্বালানি নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে তিন দিনের তেল এক দিনেই শেষ হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিরোইল, ভদ্রা, তালাইমারী, কাটাখালী, আলুপট্টি ও কুমারপাড়া এলাকার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে নওদাপাড়া এলাকার কয়েকটি পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি চলছে। সেখানে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো পাম্পে আবার ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। প্রাইভেটকারে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে মিনি ট্রাকেও প্রায় ১ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানান, তেল সংকটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় গত দুই দিন ধরে পাম্পগুলোতে চাপ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকরাও তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন। এতে পাম্পগুলোর রিজার্ভ তেলও দ্রুত ফুরিয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পাম্প মালিকরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে, সেখানে অনেক সময় এক হাজার লিটার বা তারও কম সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলাতেই রয়েছে প্রায় ৪২টি পাম্প।
সংগঠনটির রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলো স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে পারছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে কিছু মজুত রয়েছে, সেগুলোতে অল্প অল্প করে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, কিছু পাম্পে তেল নিতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেকেই নির্ধারিত সীমার বাইরে তেল নিতে চাইছেন, এতে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি এড়াতে এবং পাম্পের কর্মী ও মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
What's Your Reaction?