রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার উদ্বোধনে পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস
যুক্তরাজ্যের (ইউকে-ইংল্যান্ড) অন্যতম দেশ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর মাঠিতে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহনের মাধ্যমে পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের বিখ্যাত দ্য হাইড্রোতে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ১১ দিনের এই ক্রীড়াযজ্ঞ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এবারের আসরে বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। ১০টি খেলায় মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা। ২ আগস্ট পর্দা নামবে এবারের গেমসের। গেমসে ৪ টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিবে বাংলাদেশের ১৭ জন এথলেট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস ‘কিংস ব্যাটন’ থেকে তার বিশেষ বার্তা পাঠ করবেন। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ কমনওয়েলথ দিবসে বাকিংহাম প্যালেসে কিংস ব্যাটন রিলে উদ্বোধনের সময় তিনি এই বার্তাটি ব্যাটনের মধ্যে রেখেছিলেন। রাজার সেই বার্তা পাঠের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। উদ্বোধনী
যুক্তরাজ্যের (ইউকে-ইংল্যান্ড) অন্যতম দেশ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর মাঠিতে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহনের মাধ্যমে পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের বিখ্যাত দ্য হাইড্রোতে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ১১ দিনের এই ক্রীড়াযজ্ঞ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
এবারের আসরে বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। ১০টি খেলায় মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা। ২ আগস্ট পর্দা নামবে এবারের গেমসের। গেমসে ৪ টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিবে বাংলাদেশের ১৭ জন এথলেট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস ‘কিংস ব্যাটন’ থেকে তার বিশেষ বার্তা পাঠ করবেন। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ কমনওয়েলথ দিবসে বাকিংহাম প্যালেসে কিংস ব্যাটন রিলে উদ্বোধনের সময় তিনি এই বার্তাটি ব্যাটনের মধ্যে রেখেছিলেন। রাজার সেই বার্তা পাঠের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ব্রিটেনের কিংবদন্তি সাইক্লিস্ট স্যার ক্রিস হয়। ছয়বারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ও দুইবারের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন ক্রিস হয় ২০২৫ সালে কিংস ব্যাটন রিলের প্রথম ব্যাটনবাহক ছিলেন।
৫০০ দিনের যাত্রায় কিংস ব্যাটন কমনওয়েলথের ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল ঘুরেছে। এটি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দীর্ঘতম ব্যাটন রিলে। এই ঐতিহাসিক যাত্রায় বাংলাদেশও ছিল গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কিংস ব্যাটন বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশ ছিল রিলের এশিয়া পর্বের শেষ গন্তব্য।
গ্লাসগোতে প্রথমবারের মতো ৭৪টি ব্যাটন একত্রিত হবে। স্কটল্যান্ডের ব্যাটনটি গ্লাসগো শহরেই টেকসই উৎস থেকে সংগ্রহ করা অ্যাশ কাঠ দিয়ে হাতে তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেটি রাজা তৃতীয় চার্লসের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
স্যার ক্রিস হয় বলেন, রাজা ও রানির সঙ্গে গ্লাসগো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। নিজের দেশে আয়োজিত গেমস সব সময়ই বিশেষ এবং কমনওয়েলথ গেমসে প্রতিযোগিতার অনেক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। গ্লাসগো আবারও অসাধারণ আয়োজক হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রেসিডেন্ট ড. ডোনাল্ড রুকারে বলেন, রাজা তৃতীয় চার্লসের শাসনামলে এটি প্রথম কমনওয়েলথ গেমস। একই সঙ্গে প্রথম কিংস ব্যাটন রিলের সমাপ্তিও ঘটবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তার মতে, গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ ক্রীড়া আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
গ্লাসগো ২০২৬-এর চেয়ারম্যান জর্জ ব্ল্যাক বলেন, রাজা ও রানিকে দ্য হাইড্রোতে স্বাগত জানানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত।
বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিনোদন ভেন্যু দ্য হাইড্রোতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্লাসগোর সংস্কৃতি, স্বকীয়তা ও কমনওয়েলথকে স্বাগত জানানোর চিত্র তুলে ধরা হবে। রাজা, রানি ও স্যার ক্রিস হয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত কর্মসূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাস
কমনওয়েলথ গেমস হলো কমনওয়েলথভুক্ত জাতিসমূহের অ্যাথলেটদের মধ্যে প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টনে এই গেমসের যাত্রা শুরু হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের পরিবেশের জন্য এই আসরটিকে বিশ্বজুড়ে 'ফ্রেন্ডলি গেমস' বা 'বন্ধুত্বপূর্ণ খেলা' হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
গেমসের পটভূমি ও সূচনা
প্রথম প্রস্তাব- ১৮৯১ সালে রেভারেন্ড অ্যাশলে কুপার প্রথম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দেশগুলোকে একত্রিত করতে প্রতি চার বছর পর পর একটি উৎসব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তাব দেন।
আন্তঃসাম্রাজ্য চ্যাম্পিয়নশীপ- ১৯১১ সালে রাজা ৫ম জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে লন্ডনে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমান গেমসের ভিত্তি গড়ে দেয়।
প্রথম অফিশিয়াল আসর- ১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টনে কমনওয়েলথ গেমস ফাউন্ডেশনের স্বীকৃত প্রথম অফিশিয়াল গেমস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আসরে ১১টি দেশের ৪০০ জন অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিলেন।
What's Your Reaction?