রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ মিলেছে, অর্থপাচার মামলায় কারাগারে হরিদাস
অর্থপাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। সংস্থাটির দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে— এমন যুক্তিতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা। আরও পড়ুন ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হরিদা
অর্থপাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
সংস্থাটির দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে— এমন যুক্তিতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হরিদাসের ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে জমা হওয়া অর্থের উৎস, কারা অর্থ পাঠিয়েছেন এবং সেই অর্থ কোথায় বা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে— এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এ পর্যায়ে হরিদাস জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আসামির পক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় বিচারক হরিদাসের পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি চাল ও ডালের ব্যবসা করেন এবং এ ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আদালতকে জানান, এলাকার একটি মন্দিরকে কেন্দ্র করেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে হরিদাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। হরিদাসসহ অজ্ঞাতপরিচয় দুই থেকে তিনজনের একটি চক্র প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপন করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, হরিদাস ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে তথাকথিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফেরেন। পরে ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। তদন্ত সংস্থার দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে সম্পাদিত ছবি ও ভুয়া ফোনকলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।
সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস। প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় ইমাম-ওলামারা আন্দোলন শুরু করলে গত ৯ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ স্থগিত করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে এসে হরিদাস মন্দির আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। পরে তাকে সভাপতি এবং বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৫ সালে ওই কমিটির অধীনেই মন্দির সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয় এবং মন্দিরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির।
এমডিএএ/কেএসআর
What's Your Reaction?

