‘রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে’, সত্যিই যা বলেছিলেন ইউনূস

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার উদ্দেশে গত বছরের মার্চ মাসে বক্তৃতা দেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পরে এপ্রিল মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ দুই সময়েই তার বার্তা ছিল একই — বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যেন আগামী ঈদুল ফিতর তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতেই উদ্‌যাপন করতে পারে তিনি সেই কামনায় দোয়া করেছেন। ঈদ এলেই একটি মহল ওই ঘটনায় অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যকে বিকৃত করে। তারা প্রচার করে রোহিঙ্গাদের পরবর্তী ঈদ তাদের দেশে উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউনূস। সত্যিই কি তিনি সেরকম কিছু বলেছিলেন? সম্প্রতি ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি অধ্যাপক ইউনূসের সংহতির প্রকৃত সত্য’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বার্তা সংস্থা বিডি নিউজকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বিডি নিউজ-এর প্রতিবেদনে অধ্যাপক ইউনূসের ঈদের বার্তাটি ছিল এমন : “সবাইকে ঈদ মোবারক। আমরা যখন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করছি, তখন আমাদের দেশে কষ্টে থাকা ১২ ল

‘রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে’, সত্যিই যা বলেছিলেন ইউনূস

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার উদ্দেশে গত বছরের মার্চ মাসে বক্তৃতা দেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পরে এপ্রিল মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ দুই সময়েই তার বার্তা ছিল একই — বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যেন আগামী ঈদুল ফিতর তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতেই উদ্‌যাপন করতে পারে তিনি সেই কামনায় দোয়া করেছেন।

ঈদ এলেই একটি মহল ওই ঘটনায় অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যকে বিকৃত করে। তারা প্রচার করে রোহিঙ্গাদের পরবর্তী ঈদ তাদের দেশে উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউনূস। সত্যিই কি তিনি সেরকম কিছু বলেছিলেন? সম্প্রতি ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি অধ্যাপক ইউনূসের সংহতির প্রকৃত সত্য’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বার্তা সংস্থা বিডি নিউজকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বিডি নিউজ-এর প্রতিবেদনে অধ্যাপক ইউনূসের ঈদের বার্তাটি ছিল এমন : “সবাইকে ঈদ মোবারক। আমরা যখন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করছি, তখন আমাদের দেশে কষ্টে থাকা ১২ লাখেরও বেশি অতিথির কথা আমরা যেন ভুলে না যাই। আমি প্রার্থনা করি, তারা যেন আগামী ঈদ তাদের মাতৃভূমিতে উদ্‌যাপন করতে পারে।”

‘রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে’, সত্যিই যা বলেছিলেন ইউনূস

একইভাবে মার্চ মাসে একটি রোহিঙ্গা শিবিরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেজের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন: “আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আগামী ঈদে যেন আপনারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে গিয়ে সেখানে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারেন।”

শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘তার এই বক্তব্যের স্পষ্টতা সত্ত্বেও, শেখ হাসিনার শাসনামলের সমর্থক, যারা ১৬ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের রাজনীতিকে সমর্থন করেছে, তারা এসব বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা নাকি রোহিঙ্গাদের “এই ঈদের মধ্যেই রাখাইনে ফেরার প্রতিশ্রুতি” দিয়েছিলেন।

ইউনূসের ওই বক্তব্য পরিষ্কার করে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বাস্তবতা হলো, অধ্যাপক ইউনূস এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি কেবল আশা ও প্রার্থনার কথা বলেছেন। অথচ কিছু গণমাধ্যম এবং হাসিনা-সমর্থিত মহল তথ্য যাচাই না করেই তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। জুলাইয়ের ঘটনাবলির পর এসব কণ্ঠ আরও প্রান্তিক হয়ে পড়েছে এবং এখন কেবল সীমিত কিছু সরকারপন্থী প্ল্যাটফর্মেই তাদের উপস্থিতি দেখা যায়।’

রোহিঙ্গাদের জন্য অধ্যাপক ইউনূস কাজ করছেন দাবি করে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে অধ্যাপক ইউনূস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন প্রশাসন সহায়তা কমালেও রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন অব্যাহত থাকে। তার নেতৃত্বেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এরপর কাতারের উদ্যোগে আরও দুটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া রাখাইনের বাস্তব নিয়ন্ত্রক শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গারা যদি একদিন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে পারে, অধ্যাপক ইউনূস সেই দিনটি উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় আছেন। যদিও মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ সেই প্রত্যাবর্তনের আশাকে আপাতত বিলম্বিত করছে, তবুও তার এবং কোটি মানুষের প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে ‘

‘রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে’, সত্যিই যা বলেছিলেন ইউনূসআন্তেনিও গুতেরেজ ও অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ, একদিন রোহিঙ্গারা রাখাইনেই ঈদ উদ্‌যাপন করবে। আর সেই দিন এলে তারা নিশ্চয়ই স্মরণ করবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সেই কণ্ঠ, যিনি তাদের দৃঢ়তা জুগিয়েছিলেন এবং তাদের সংগ্রামের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করেছিলেন।’

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে গত বছর অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশি নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করে যে, ২০০৬ সালের নোবেল শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূস তার বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়, যা রোহিঙ্গা উপভাষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং পুরো সম্প্রদায়ের কাছে সহজে বোধগম্য হয়।

আরএমডি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow