শেষ হয়নি মেরামত, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা পাটুরিয়া ফেরিঘাটে
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এখনো শেষ হয়নি সংস্কার কাজ। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়বে। এমন সময় ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে মেরামত ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া ফেরিঘাট। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে লাখো যাত্রী ও হাজারো যানবাহন নদী পারাপার হয়। তবে বর্তমানে ঘাটের কয়েকটি পয়েন্টে মেরামত কাজ চলমান থাকায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় সময় বেশি লাগছে ও পারাপারের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গত বর্ষায় ফেরিঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। ৪ নম্বর ফেরিঘাটে সংযোগ সড়ক তুলনামূলক বেশি ঢালু হওয়ায় যানবাহন ওঠানামায় চালকদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকজন মানুষের সহায়তা নিতে হচ্ছে ও চাকার নিচে জ্যাক ব্যবহার করে গাড়ি রাস্তায় তুলতে হচ্ছে। অন্যদিকে ৫ নম্বর ঘাটের অবস্থা আরও নাজুক। অতিরিক্ত ঢালু ও কাদাযুক্ত সংযোগ সড়ক
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এখনো শেষ হয়নি সংস্কার কাজ। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়বে। এমন সময় ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে মেরামত ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া ফেরিঘাট। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে লাখো যাত্রী ও হাজারো যানবাহন নদী পারাপার হয়। তবে বর্তমানে ঘাটের কয়েকটি পয়েন্টে মেরামত কাজ চলমান থাকায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় সময় বেশি লাগছে ও পারাপারের গতি ধীর হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত বর্ষায় ফেরিঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। ৪ নম্বর ফেরিঘাটে সংযোগ সড়ক তুলনামূলক বেশি ঢালু হওয়ায় যানবাহন ওঠানামায় চালকদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকজন মানুষের সহায়তা নিতে হচ্ছে ও চাকার নিচে জ্যাক ব্যবহার করে গাড়ি রাস্তায় তুলতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ৫ নম্বর ঘাটের অবস্থা আরও নাজুক। অতিরিক্ত ঢালু ও কাদাযুক্ত সংযোগ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে চালকদের বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। পাশে ইটের টুকরা স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যা সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে ১ ও ২ নম্বর ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। সরকার ও ব্যবসায়ী পরিবর্তন হলেও ঘাট দখল করে বালু ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে এখনো।
ট্রাকচালক ইমারত হোসেন বলেন, ঘাটের রাস্তা খুঁড়ে রাখায় মাটি নরম হয়ে গেছে। আগে পরিস্থিতি এর চেয়ে ভালো ছিল। সামনে ঈদে অনেক ভোগান্তি হবে। অনেক সময় গাড়ি ঘাট থেকে রাস্তায় উঠতেই পারে না।
আজিম মিয়া বলেন, কয়েক দিন পরই ঈদ। কিন্তু ঘাটের যে অবস্থা, এতে মানুষের বাড়ি ফিরতে অনেক ভোগান্তি হবে।
রাজবাড়ী জেলার ট্রাকচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ৪ নম্বর ফেরিঘাট অনেক ঢালু। লোড করা ট্রাকগুলো উঠতে পারছে না। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। ঈদের সময় যদি একটি ট্রাক উঠতেই এত সময় লাগে, তাহলে ফেরি ঘাটে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকবে ও জ্যাম তৈরি হবে। এতে মানুষের বাড়ি ফিরতে ভোগান্তি হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, সামনে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষদের পারাপারের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। নির্বাচনের পর এটি প্রথম ঈদ হওয়ায় গাড়ি ও যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। বর্তমানে ১৭টি ফেরি সচল রয়েছে। গত বর্ষায় ফেরিঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই ক্ষতি মেরামতে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে। কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চারটি ফেরিঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। তবে যেসব গাড়ি অতিরিক্ত মালামাল বহন করছে, সেগুলো সংযোগ সড়কে উঠতে কিছুটা সমস্যায় পড়ছে। প্রতিটি ঘাটেই স্বাভাবিক ঢাল রাখা হয়েছে, তাই কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
মো. সজল আলী/এমএন/এএসএম
What's Your Reaction?