সমাজে কার মূল্য বেশি—ক্ষমতাবান, নাকি ভালো মানুষ?

একজন তরুণ চিকিৎসক। বহু বছর পড়াশোনা করেছেন। রাত জেগেছেন। পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিয়েছেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়েছেন। কিন্তু চাকরির বাজারে এসে হঠাৎ তাঁর মনে হলো—‘আমি কি বিসিএস দেব?’ একজন প্রকৌশলীও ভাবছেন একই কথা। যন্ত্রপাতি, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি—এসব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর চোখও চলে গেল প্রশাসন ক্যাডারের দিকে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সমাজে এখন এমন এক অদ্ভুত মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে আপনি কী জানেন, কী পারেন বা সমাজে কী অবদান রাখছেন—তার চেয়ে আপনি কতটা ক্ষমতাবান, সেটিই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একজন ভালো চিকিৎসক? খুব ভালো কথা। কিন্তু আপনার হাতে যদি প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকে, আপনার পরিচয়ের পাশে যদি কোনো ‘ক্যাডার’ শব্দ না থাকে, তাহলে সমাজের চোখে আপনার মর্যাদা কিছুটা কমে যেতে পারে। আমরা কি সন্তানকে বলব—‘ভালো মানুষ হও’? নাকি গোপনে বলব—‘ভালো মানুষ হও, তবে খুব বেশি ভালো হয়ো না; এই সমাজে টিকে থাকতে একটু চালাকিও দরকার’? আমাদের সন্তানরা আমাদের কথা নয়, আমাদের সমাজকে দেখে শিক্ষা নেয়। তারা দেখে কাকে সম্মান দেওয়া হয়, কার সা

সমাজে কার মূল্য বেশি—ক্ষমতাবান, নাকি ভালো মানুষ?

একজন তরুণ চিকিৎসক। বহু বছর পড়াশোনা করেছেন। রাত জেগেছেন। পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিয়েছেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়েছেন। কিন্তু চাকরির বাজারে এসে হঠাৎ তাঁর মনে হলো—‘আমি কি বিসিএস দেব?’

একজন প্রকৌশলীও ভাবছেন একই কথা। যন্ত্রপাতি, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি—এসব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর চোখও চলে গেল প্রশাসন ক্যাডারের দিকে।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সমাজে এখন এমন এক অদ্ভুত মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে আপনি কী জানেন, কী পারেন বা সমাজে কী অবদান রাখছেন—তার চেয়ে আপনি কতটা ক্ষমতাবান, সেটিই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি একজন ভালো চিকিৎসক? খুব ভালো কথা। কিন্তু আপনার হাতে যদি প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকে, আপনার পরিচয়ের পাশে যদি কোনো ‘ক্যাডার’ শব্দ না থাকে, তাহলে সমাজের চোখে আপনার মর্যাদা কিছুটা কমে যেতে পারে।

আমরা কি সন্তানকে বলব—‘ভালো মানুষ হও’? নাকি গোপনে বলব—‘ভালো মানুষ হও, তবে খুব বেশি ভালো হয়ো না; এই সমাজে টিকে থাকতে একটু চালাকিও দরকার’? আমাদের সন্তানরা আমাদের কথা নয়, আমাদের সমাজকে দেখে শিক্ষা নেয়। তারা দেখে কাকে সম্মান দেওয়া হয়, কার সামনে সবাই দাঁড়ায়, কার ফোনে কাজ হয়, কে অন্যায় করেও সফল হয় এবং কে সততা ধরে রেখে একা হয়ে যায়।

আপনি একজন দক্ষ প্রকৌশলী? দারুণ। কিন্তু আপনি যদি এমন কোনো পদে না থাকেন, যেখানে ফোন করলেই পাঁচজন কর্মকর্তা ছুটে আসে, তাহলে আপনার সামাজিক মূল্যায়ন হয়তো ততটা উজ্জ্বল হবে না।

আর আপনি যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন, ক্ষমতা থাকে, সরকারি গাড়ি থাকে, আপনার ফোন ধরার লোক থাকে—তাহলে আপনি হঠাৎ করেই ‘গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’ হয়ে উঠবেন। আপনার কথা বলার ভঙ্গি বদলে যাবে, চারপাশের মানুষের আচরণ বদলে যাবে, এমনকি আত্মীয়স্বজনের ফোনের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

আমাদের সমাজে অনেক সময় মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তিনি কী করেন দিয়ে নয়; বরং তিনি কতটা ক্ষমতাবান দিয়ে।

এই ক্ষমতার সামাজিক অর্থনীতি বেশ মজার। একজন মানুষ যত বেশি ক্ষমতাবান, তাঁর চারপাশে তত বেশি মানুষ। ক্ষমতা কমলে সেই ভিড়ও কমে যায়। গতকাল যাঁরা ‘স্যার স্যার’ করছিলেন, আজ তাঁরা হয়তো ফোন ধরছেন না। ফোন ধরলেও কণ্ঠে সেই আগের উষ্ণতা নেই।

ক্ষমতা যেন অনেকটা মোবাইলের ব্যাটারির মতো। চার্জ থাকলে সবাই কাছে আসে। চার্জ শেষ হলে চার্জার খুঁজে পাওয়া কঠিন। অথচ সমাজের প্রকৃত মূল্যবোধের কথা যদি বলি, তাহলে একজন মানুষের মূল্য তাঁর সততা, জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও কাজের ওপর নির্ভর করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী করছি?

যে মানুষটি সারা জীবন সততার সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁকে বলছি—‘বেচারা খুব ভালো মানুষ।’ এই ‘বেচারা’ শব্দটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের একটি ভয়ংকর প্রতীক।

ভালো মানুষ মানেই যেন একটু সরল, একটু পিছিয়ে থাকা, একটু কম বুদ্ধিমান। আর যে মানুষ সুযোগ বুঝে অন্যকে পাশ কাটিয়ে ওপরে উঠতে পারে, সে ‘চালাক’। যে নিয়ম মেনে চলে, সে ‘বোকা’। যে অন্যায় করে না, সে ‘অতি সৎ’। আর যে অন্যায় করে সফল হয়, সে ‘স্মার্ট’।
এমন সমাজে শিশুদের আমরা কী শিক্ষা দিচ্ছি?

আমরা বলি, ‘ভালো করে পড়াশোনা করো।’ কিন্তু অনেক সময় শিশুরা আমাদের আচরণ দেখে বুঝে যায়, শুধু ভালো পড়াশোনা করলেই হবে না—কাকে চেনো, কোথায় আছো, কতটা ক্ষমতা আছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একজন ন্যায়নীতিবান মানুষ হয়তো সারাজীবন সৎ থাকলেন। কারও ক্ষতি করলেন না। দায়িত্ব পালন করলেন। কিন্তু অবসরে গিয়ে দেখলেন, তাঁর কাছে কেউ নেই। কোনো স্বার্থ নেই বলে ফোনও নেই। তাঁর সততার কোনো ‘সুবিধা’ নেই বলে সামাজিক গুরুত্বও কম।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি জীবনে নানা সুবিধা নিয়েছেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন, প্রয়োজনমতো নীতি বদলেছেন—তাঁর জন্মদিনে ফুলের তোড়া আসে, সামাজিক অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে আসন থাকে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে অনেকের আগ্রহ দেখা যায়।

সমস্যা হলো, আমরা ভালো মানুষকে সম্মান করি কথায়; কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় ক্ষমতাবান মানুষকে সম্মান করি কাজে।
এই দ্বৈততা সমাজের জন্য বিপজ্জনক।

একজন চিকিৎসক যদি প্রশাসন ক্যাডারে যেতে চান, তাতে আপত্তির কিছু নেই। একজন প্রকৌশলী যদি প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে চান, সেটিও স্বাভাবিক। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রয়োজন আছে। কিন্তু যদি কোনো চিকিৎসক বা প্রকৌশলী মনে করেন, তাঁর নিজের পেশায় কাজ করে সমাজে ততটা সম্মান, ক্ষমতা বা নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না, তাই তাঁকে অন্য পেশায় যেতে হবে—তাহলে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

আমরা কি এমন একটি সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগী দেখার চেয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে বেশি মূল্যবান মনে করেন? একজন প্রকৌশলী সেতু নির্মাণের চেয়ে ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতাকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন? তাহলে প্রশ্নটি শুধু ব্যক্তির পছন্দের নয়; এটি সমাজের মূল্যবোধের প্রশ্ন।

আমাদের দেশে একজন চিকিৎসকের সাফল্য অনেক সময় নির্ভর করে তাঁর চেম্বারে কত রোগী আসে, কত টাকা আয় করেন এবং তাঁর পরিচিতি কতটা। একজন শিক্ষক কতজন মানুষের জীবন বদলেছেন—এটি মাপার কোনো সামাজিক সূচক নেই। একজন গবেষক কত জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন, তাঁর মূল্যায়ন আরও কঠিন। একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা কত অনিয়ম ঠেকিয়েছেন, তারও কোনো দৃশ্যমান বাজারমূল্য নেই।
কিন্তু ক্ষমতার মূল্য খুব সহজে বোঝা যায়। গাড়ি আছে কি না, নিরাপত্তা আছে কি না, ফোন ধরলে অন্যরা উঠে দাঁড়ায় কি না—সবই দৃশ্যমান।
সমাজ দৃশ্যমান জিনিসকে বেশি মূল্য দেয়। তাই একজন মানুষ ভালো কাজ করে কতটা আনন্দ পেলেন, কতজনের জীবন বদলালেন—তার চেয়ে তাঁর সামাজিক অবস্থান কতটা উঁচু, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানেই ন্যায়নীতিবান মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত হন।
একজন তরুণ যদি দেখে, তার সৎ বাবা সারাজীবন পরিশ্রম করেও জীবনের শেষদিকে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, আর অন্যদিকে অসৎ পথে দ্রুত সফল হওয়া একজন ব্যক্তি সমাজে সম্মানিত—তাহলে সে কোন শিক্ষা নেবে?

আমরা যদি ভালো মানুষকে শুধু উপদেশ দিই—‘সৎ থাকো’—কিন্তু সৎ থাকার জন্য কোনো সামাজিক সম্মান, প্রতিষ্ঠানগত নিরাপত্তা বা ন্যায্য সুযোগ না দিই, তাহলে একসময় ভালো থাকার পরামর্শটি কেবল নৈতিক বক্তৃতা হয়ে থাকবে।

ভালো মানুষকে ভালো থাকতে হলে সমাজকে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে। সততার মূল্য শুধু বক্তৃতায় নয়, প্রতিষ্ঠানেও নিশ্চিত করতে হবে। একজন সৎ কর্মকর্তা যেন বদলি, হয়রানি বা একঘরে হওয়ার ভয় না পান। একজন ভালো শিক্ষক যেন কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পিছিয়ে না পড়েন। একজন দক্ষ চিকিৎসক যেন প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকলেও মর্যাদা পান। একজন প্রকৌশলী যেন তাঁর প্রকৌশল দক্ষতার জন্যই সম্মানিত হন।

একটি সমাজ তখনই সুস্থ হয়, যখন মানুষের মূল্য তার পদমর্যাদার চেয়ে তার কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আমরা যদি সত্যিই উন্নত সমাজ চাই, তাহলে ‘কে কত ক্ষমতাবান’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে কতটা উপকারী’—এই প্রশ্নও করতে হবে।

একজন স্কুলশিক্ষক হয়তো কোনো ফাইল আটকে রাখতে পারেন না। কোনো থানায় ফোন করে কাউকে ছাড়াতে পারেন না। তাঁর একটি ফোনে সরকারি গাড়ি আসে না। কিন্তু তিনি প্রতিদিন যে শিশুটিকে পড়ান, সেই শিশুই হয়তো একদিন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, প্রশাসক বা রাষ্ট্রনায়ক হবে। তাহলে সমাজে কার মূল্য বেশি? যিনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, নাকি যিনি ভবিষ্যৎ তৈরি করেন?

একজন নার্স হয়তো বড় পদে নেই, কিন্তু রাতভর রোগীর পাশে থাকেন। একজন কৃষক হয়তো কোনো সভায় বক্তৃতা দেন না, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন করেন। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হয়তো সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি নন, কিন্তু তাঁর কাজ বন্ধ হলে শহর কয়েক দিনের মধ্যে অচল হয়ে যাবে।

সমাজের প্রকৃত চালিকাশক্তি অনেক সময় সেই মানুষগুলো, যাঁদের আমরা সবচেয়ে কম দেখি। অথচ আমাদের সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের জন্য আসন থাকে না। তাঁদের সন্তানদের সামনে আমরা বড় বড় কথা বলি, কিন্তু বাস্তব সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করি।

সমাজের মূল্যবোধ বদলাতে হলে এই ভণ্ডামি কমাতে হবে। ক্ষমতা খারাপ নয়। অর্থ খারাপ নয়। উচ্চ পদও খারাপ নয়। সমস্যা তখনই, যখন ক্ষমতা মানুষকে মানুষের চেয়ে বড় করে ফেলে। যখন পদ চলে গেলে সম্মানও চলে যায়। যখন অর্থ না থাকলে জ্ঞান, সততা ও মানবিকতার মূল্যও কমে যায়।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে একজন সৎ মানুষ নিজেকে বোকা মনে করবেন না। একজন দক্ষ পেশাজীবী মনে করবেন না যে তাঁর পেশার বাইরে গেলেই তাঁর মূল্য বাড়বে। একজন শিক্ষক জানবেন, তাঁর কাজের সম্মান আছে। একজন চিকিৎসক জানবেন, রোগীর জীবন বাঁচানো কোনো প্রশাসনিক পদে বসার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। একজন প্রকৌশলী জানবেন, একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণও রাষ্ট্রসেবারই একটি রূপ।

সবশেষে প্রশ্নটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য।

আমরা কি সন্তানকে বলব—‘ভালো মানুষ হও’?

নাকি গোপনে বলব—‘ভালো মানুষ হও, তবে খুব বেশি ভালো হয়ো না; এই সমাজে টিকে থাকতে একটু চালাকিও দরকার’?

আমাদের সন্তানরা আমাদের কথা নয়, আমাদের সমাজকে দেখে শিক্ষা নেয়। তারা দেখে কাকে সম্মান দেওয়া হয়, কার সামনে সবাই দাঁড়ায়, কার ফোনে কাজ হয়, কে অন্যায় করেও সফল হয় এবং কে সততা ধরে রেখে একা হয়ে যায়।

সুতরাং সমাজে কার মূল্য বেশি—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বইয়ে লেখা নৈতিকতার ওপর নির্ভর করবে না। আমরা বাস্তবে কাকে পুরস্কৃত করছি, কাকে সম্মান করছি, কাকে অনুসরণ করছি—তার ওপরই নির্ভর করবে।

ক্ষমতা মানুষের মূল্য বাড়াতে পারে, অর্থ জীবনকে স্বচ্ছল করতে পারে, পদমর্যাদা সামাজিক পরিচিতি দিতে পারে। কিন্তু একটি সমাজকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখে ক্ষমতা নয়—বিশ্বাস। আর বিশ্বাস তৈরি হয় সৎ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়নীতিবান মানুষের হাত ধরে।

তাই আমাদের এমন একটি সমাজ দরকার, যেখানে ভালো মানুষকে ‘বেচারা’ বলা হবে না; বরং বলা হবে—‘এই মানুষটির মতো হও।’
যে সমাজে ভালো মানুষ সম্মান পায় না, সেখানে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকার মানুষও কমে যায়। আর যখন ভালো মানুষ কমে যায়, তখন ক্ষমতাবান মানুষ বাড়লেও সমাজ বড় হয় না।

সমাজ সত্যিকার অর্থে তখনই এগোয়, যখন ক্ষমতাবান মানুষ ভালো হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভালো মানুষও সম্মান পাওয়ার নিশ্চয়তা পান।
কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস ক্ষমতার তালিকা মনে রাখে না; মনে রাখে কার কাজ মানুষের জীবনকে একটু ভালো করে দিয়েছিল।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ
[email protected]

এইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow