সরকারি বিদ্যালয়ের রাস্তা নেই, অস্থায়ী পথেও ব্যারিকেড
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলাচলে নেই সরকারি রাস্তা। প্রায় এক দশক ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে চলাচল করেই পাঠদান চালিয়ে আসছিল বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি জমির মালিকানা দ্বন্দ্ব নিয়ে সেই অস্থায়ী পথও ইটের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, যাতায়াত সংকটের কারণে প্রতিবছর কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। দ্রুত স্থায়ী সড়ক নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ‘আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে মাত্র আড়াইশ গজ দূরে অবস্থিত। অথচ বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো সরকারি রাস্তা নেই। ২০১৪-২০১৪ অর্থবছর শেষে ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। তবে সম্প্রতি সেই রাস্তাটিও ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’ আরও পড়ুন সময়মতো স্কুলে আসতে হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের, শুরু হচ্ছে নজরদারি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা-
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলাচলে নেই সরকারি রাস্তা। প্রায় এক দশক ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে চলাচল করেই পাঠদান চালিয়ে আসছিল বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি জমির মালিকানা দ্বন্দ্ব নিয়ে সেই অস্থায়ী পথও ইটের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, যাতায়াত সংকটের কারণে প্রতিবছর কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। দ্রুত স্থায়ী সড়ক নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
‘আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে মাত্র আড়াইশ গজ দূরে অবস্থিত। অথচ বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো সরকারি রাস্তা নেই। ২০১৪-২০১৪ অর্থবছর শেষে ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। তবে সম্প্রতি সেই রাস্তাটিও ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে মাত্র আড়াইশ গজ দূরে অবস্থিত। অথচ বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো সরকারি রাস্তা নেই। ২০১৪-২০১৪ অর্থবছর শেষে ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। তবে সম্প্রতি সেই রাস্তাটিও ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন এলাকা বিবেচনায় দেশে দেড় হাজার নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে প্রায় ২৫০ গজ দূরে প্রতিষ্ঠা করা হয় পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য আলমডাঙ্গা পৌরসভা জমি দিলেও মহাসড়ক থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো সরকারি রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।
শুরুতে মহাসড়ক সংস্কারের সময় তোলা ইট দিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জমির ওপর একটি অস্থায়ী চলাচলের পথ তৈরি করা হয়। পরে সেই পথটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে জমির মালিকরা বাধা দেন। সম্প্রতি তারা রাস্তার ওপর ইটের স্তূপ ফেলে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
‘শুরুতে মহাসড়ক সংস্কারের সময় তোলা ইট দিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জমির ওপর একটি অস্থায়ী চলাচলের পথ তৈরি করা হয়। পরে সেই পথটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে জমির মালিকরা বাধা দেন। সম্প্রতি তারা রাস্তার ওপর ইটের স্তূপ ফেলে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে’
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিহাব হোসেন জাগো নিউজকে বলে, ‘আমাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় ইট ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা ওই পথ দিয়ে স্কুলে যেতে পারছি না। খুব সমস্যা হচ্ছে।’
আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা খাতুনের ভাষ্য, ‘অন্য রাস্তা ঘুরে স্কুলে আসতে হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় আমার কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছে না।’
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় শিশুদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে তাদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
বিদ্যালয় ও শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন এলাকা হিসেবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয় ভবনের জন্য জমি দেওয়া হলেও যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে মহাসড়ক সংস্কারের সময় ফেলে রাখা ইট দিয়ে একটি অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়। সম্প্রতি জমির এক মালিক ওই পথে ইটের স্তূপ রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকটা পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। এতে উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিও কমছে।
‘কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু রাস্তার অভাবে বিদ্যালয় থেকে ঝরে না পড়ে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকল্প স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে’—জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা
একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে বিদ্যালয়টি আরও সংকটে পড়বে।’
সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরা খাতুন বলেন, ‘রাস্তার সমস্যার কারণেই প্রতিবছর শিক্ষার্থী কমছে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।’
তবে জমির মালিক জাবুর আলী দাবি করেন, নিজের জমির মালিকানা রক্ষার জন্যই সেখানে ইট রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ রয়েছে।
জমির আরেক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের রাস্তা বন্ধ করিনি। কিন্তু জাবুর আলী এটা করেছেন। আমি চাই শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করুক। পৌরসভাকে রাস্তার জন্য জমিও দেবো।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ছিল ৯৫ জন। ২০২৪ সালে তা কমে ৮৫ জন, ২০২৫ সালে ৭৫ জন এবং চলতি বছর দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫ জনে। প্রতি বছরে গড়ে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী কমছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু রাস্তার অভাবে বিদ্যালয় থেকে ঝরে না পড়ে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকল্প স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?



