সিগারেটে শলাকাপ্রতি ৩ টাকা বাড়ালে রাজস্ব আয় হবে ৪৬ হাজার কোটি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের তামাক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি শলাকায় তিন টাক বাড়িয়েছে ১০ শলাকা প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে বছরে অতিরিক্ত ৪৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক কর বৃদ্ধি: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান বহুস্তর বিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি শলাকায় তিন টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলে ১০ শলাকা সিগারেট প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি

সিগারেটে শলাকাপ্রতি ৩ টাকা বাড়ালে রাজস্ব আয় হবে ৪৬ হাজার কোটি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের তামাক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি শলাকায় তিন টাক বাড়িয়েছে ১০ শলাকা প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে বছরে অতিরিক্ত ৪৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক কর বৃদ্ধি: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান বহুস্তর বিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি শলাকায় তিন টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলে ১০ শলাকা সিগারেট প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে প্যাকেট প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রে প্রতি শলাকায় তিন টাকা বাড়ানো হলে বছরে অতিরিক্ত ৪৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বর্তমানে বহুস্তর বিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় ব্যবহারকারীরা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে সরে গিয়ে ধূমপান অব্যাহত রাখছেন। এই দুটি স্তর একত্র করে দাম বাড়ানো হলে তামাক ব্যবহার কমবে; ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণের ধূমপান শুরু করার প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক এজাজ। কর্মশালায় তামাক জাত দ্রব্য ব্যবহার : অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বিষয়ক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্টফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow