সিরিজ জিতে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইতিহাস গড়লো নিউজিল্যান্ড
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের শেষ দিনটা ছিল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। আগের দিনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ দিনে ইংল্যান্ড আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারায় ১৬০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মাটিতে পিছিয়ে থেকেও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না কিউইদের। লর্ডস টেস্টে হার দিয়ে যাত্রা শুরুর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান দলের কিংবদন্তি ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন। এরপর একের পর এক ধাক্কা আসে চোটের কারণে। ম্যাট হেনরি ও গ্লেন ফিলিপস তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি, আর ম্যাচ চলাকালেই কনকাসশনের কারণে ছিটকে যান ব্লেয়ার টিকনার। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে টম ল্যাথামের দল। অধিনায়ক হিসেবে ল্যাথামের এটি ষষ্ঠ টেস্ট সিরিজ, যার পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশও। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জন্য এটি দীর্ঘ সম
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের শেষ দিনটা ছিল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। আগের দিনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ দিনে ইংল্যান্ড আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারায় ১৬০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।
এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মাটিতে পিছিয়ে থেকেও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ল নিউজিল্যান্ড।
সিরিজের শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না কিউইদের। লর্ডস টেস্টে হার দিয়ে যাত্রা শুরুর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান দলের কিংবদন্তি ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন।
এরপর একের পর এক ধাক্কা আসে চোটের কারণে। ম্যাট হেনরি ও গ্লেন ফিলিপস তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি, আর ম্যাচ চলাকালেই কনকাসশনের কারণে ছিটকে যান ব্লেয়ার টিকনার। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে টম ল্যাথামের দল।
অধিনায়ক হিসেবে ল্যাথামের এটি ষষ্ঠ টেস্ট সিরিজ, যার পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশও।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জন্য এটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ঘরের সিরিজগুলোর একটি। ২০১২ সালের পর এই প্রথম নিজেদের মাঠে তিন বা তার বেশি ম্যাচের কোনো টেস্ট সিরিজ হারল তারা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেন স্টোকসের বিদায়টাও হলো পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।
৩৭৩ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১০৩ রান করেছিল ইংল্যান্ড। তবে পঞ্চম দিনের শুরুতেই ধস নামে। এমিলিও গে দ্রুত আউট হওয়ার পর রান আউট হন জো রুট। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর জেমি স্মিথ ও গাস অ্যাটকিনসন সপ্তম উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে লাঞ্চের আগে অ্যাটকিনসনের বিদায়ে সেই লড়াই থেমে যায়। বিরতির পর দ্রুত ফিরে যান জোফরা আর্চার ও জশ টাং। একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি করা জেমি স্মিথও শেষ পর্যন্ত ৬০ রান করে আউট হলে ২১২ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন বেন ফোকস, যিনি নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট শিকার করেন নাথান স্মিথ ও মিচেল সান্তনার।
প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড করেছিল ৪৩৮ রান। জবাবে ৩৫৪ রান করে ইংল্যান্ড। ৮৪ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে কিউইরা। ৯ উইকেটে ২৮৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ফলে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ইংলিশদের সামনে। জবাবে ২১২ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা।
ম্যাচসেরা হয়েছেন ড্যারিল মিচেল। আর যৌথভাবে সিরিজসেরা নির্বাচিত হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ন্যাথান স্মিথ ও ইংল্যান্ডের জফ্রা আর্চার।
এসকেডি/আইএইচএস/
What's Your Reaction?