স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।  রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে আহাদ শেখের সঙ্গে বিয়ে হয় রুবাইয়া বেগমের। বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়া হলেও পরবর্তীতে স্বামী আহাদ শেখ ও তার পরিবার রুবাইয়ার কাছে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য রুবাইয়ার ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আহাদ শেখ তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে দেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রুবাইয়াকে

স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে আহাদ শেখের সঙ্গে বিয়ে হয় রুবাইয়া বেগমের। বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়া হলেও পরবর্তীতে স্বামী আহাদ শেখ ও তার পরিবার রুবাইয়ার কাছে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য রুবাইয়ার ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন।

২০১৭ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আহাদ শেখ তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে দেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রুবাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রধান আসামি আহাদ শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করেন। তবে এ মামলার অপর দুই অভিযুক্ত মাহিন শেখ ও সরুজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের বিষয়টি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন, যা সমাজে নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow