২৭তম বিসিএস: বঞ্চিতদের চাকরিকাল-বেতন-পদ নিয়ে যা জানালো অর্থ বিভাগ

২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরিকাল গণনা, বেতন নির্ধারণ, পদসমতা, চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। গত ১৮ জুন এ সংক্রান্ত একটি স্পষ্টীকরণপত্র পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে এটি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   অর্থ বিভাগের মতামতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএসের প্রথম ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৬৯ কর্মকর্তার যোগদান কার্যকরের একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদানের নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখকে কার্যকর যোগদানের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করার মতামত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করে বিষয়টি সংশ্লিষ

২৭তম বিসিএস: বঞ্চিতদের চাকরিকাল-বেতন-পদ নিয়ে যা জানালো অর্থ বিভাগ

২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরিকাল গণনা, বেতন নির্ধারণ, পদসমতা, চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। গত ১৮ জুন এ সংক্রান্ত একটি স্পষ্টীকরণপত্র পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে এটি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।  

অর্থ বিভাগের মতামতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএসের প্রথম ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৬৯ কর্মকর্তার যোগদান কার্যকরের একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদানের নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখকে কার্যকর যোগদানের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করার মতামত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছে। 

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বরের আগে নবম গ্রেডে সরকারি চাকরিতে কর্মরত এবং বেতন সংরক্ষণের শর্ত পূরণকারী কর্মকর্তারা বিএসআর অনুযায়ী বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। তবে তাদের চাকরিকাল শুধু পেনশনের জন্য গণনা করা হবে। একইভাবে অ্যাডহক, প্রকল্পভিত্তিক বা বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি যথাযথভাবে স্থায়ীকরণ ও রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণ হয়ে থাকলে চাকরি স্থায়ীকরণের তারিখ থেকে চাকরিকাল গণনা এবং নবম গ্রেডে যোগদানের তারিখ থেকে বেতন সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও চাকরিকাল গণনা কেবল পেনশন সুবিধার জন্য প্রযোজ্য হবে।  

অর্থ বিভাগ আরও বলেছে, ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বরের আগে নবম গ্রেডের নিচের পদে কর্মরত নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পেনশনের জন্য চাকরিকাল গণনা করা হবে, বেতন সংরক্ষণের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রেই কর্মকর্তারা ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারির আগের সময়ের জন্য কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।  

বেতন নির্ধারণের বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত হলো, ২৭তম বিসিএসের প্রথম ভাইভা ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫ অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনা করে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নিয়ে নবম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে এই ইনক্রিমেন্ট শুধুমাত্র ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি মূল বেতন নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর ভিত্তিতে আগের কোনো সময়ের আর্থিক সুবিধা দাবি করা যাবে না।  

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি যোগদানের আগে কোনো কর্মকর্তা একই ক্যাডারে চাকরির স্থায়ীকরণের শর্ত পূরণ করে থাকলে তার অর্জিত যোগ্যতা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। আর পদসমতার বিষয়ে বিদ্যমান সরকারি বিধি-বিধানের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। 

অর্থ বিভাগের এ স্পষ্টীকরণকে ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

আরএমএম/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow