৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রবাসী সংগঠনের নেতারা এ ঘোষণা দেন। ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান দিকসমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ইউরোপে প্রায় এক কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমরা বিশেষ কিছু প্রস্তাবনা রাখছি। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৬-২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ১০ লাখ লাখ কর্মী প্রেরণ; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউরোপীয় উইং গঠন করা, যা সরাসরি ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তিতে কাজ করবে; অবৈধ পথে ই

৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রবাসী সংগঠনের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান দিকসমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ইউরোপে প্রায় এক কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমরা বিশেষ কিছু প্রস্তাবনা রাখছি। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৬-২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ১০ লাখ লাখ কর্মী প্রেরণ; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউরোপীয় উইং গঠন করা, যা সরাসরি ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তিতে কাজ করবে; অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা বন্ধ করে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা; হুন্ডি বন্ধে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ ও প্রবাসী বন্ড চালু করা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, সংসদীয় কোটা এবং ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার ইউরোপীয় উইং গঠনের দাবি জানান, যেখানে অভিজ্ঞ প্রবাসী পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের (বিএমএফ) চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, নতুন বাংলাদেশে দক্ষ ও নিরাপদ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সিন্ডিকেটমুক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে তা কর্মীবান্ধব করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারাদেশে বিএমইটির অধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কার্যকরভাবে চালু করা জরুরি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাস্তবায়িত এই মাস্টারপ্ল্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

আরএএস/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow