অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে মামলা ও জরিমানার বিষয়ে শিগগির নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। পেট্রল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশনা দেওয়ার ছয়দিনের মাথায় বিআরটিএ থেকে সেই নির্দেশনা স্থগিত করার কারণ উল্লেখ করে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
থ্রি হুইলার যানবাহনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, থ্রি হুইলার প্রধান সড়কে চলবে না। কিন্তু অন্য সড়কে চলবে। এটার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটা নীতিমালা তৈরি করছে এবং এই নীতিমালার অধীনে তারা কাজ করবে।
পেট্রল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে চিঠি দেওয়া হলো, এরপর তা আবার প্রত্যাহার করলেন কেন? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চিঠি প্রত্যাহার করার কয়েকটা কারণ আছে। একটা হলো যাত্রীর একটা বক্তব্য আছে- মিটারে যাচ্ছে না।
আর যে চালক তারও একটা বক্তব্য আছে- আমরা মিটারে পরিবহন করতে পারবো না, কারণ আমাদের জমার পরিমাণ বেশি। তারপর আমাদের এখানে ঘুস দিতে হয়, ওখানে ঘুস দিতে হয়। তারপর এখন নাকি একটা পুরোনো সিএনজি পেতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা লাগে। নতুন সিএনজি দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য এটাকে আপাতত ইয়ে করেছি বিষয়গুলো আমরা পরীক্ষা করবো- বলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
সিএনজি অটোরিকশা চালকরা গতকাল মিটার খুলে ফেলেছেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে উপদেষ্টা বলেন, না না এটা হবে না। আইন তো আমরা পরিবর্তন করিনি। আইন যে আছে, সেটা আছে। কিন্তু এই জিনিসটা আমরা আর একটু গভীরভাবে পরীক্ষা করে শিগগির এ ব্যাপারে একটা নতুন নির্দেশনা দেবো।
আপনারা আগে পর্যালোচনা না করে কেন চিঠি দিলেন এবং আন্দোলন হওয়ার পর কেন পিছু হটলেন? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মিটারের ভাড়া তো আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারণ করেনি, এটা আগেই নির্ধারণ করা। ওই জন্য যে জিনিসটা আমরা বলতে চাই- এই জিনিসটা একটু পর্যালোচনা করার জন্য আমরা দিয়েছি এবং এ ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা দেবো।
সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি প্রতিদিন খবরের কাগজে ওঠে ২-৩টা মৃত্যু কিংবা মাস শেষে ৩০০-৪০০ জনের মৃত্যু, এটা আমাকে খুব ব্যথিত করে। আমি বলেছি এটা (সড়ক দুর্ঘটনা কমানো) আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।
তিনি বলেন, ডিসিদের বলা হয়েছে- তারা যেখানে যে সহযোগিতা চাইবেন, যে এখানে সংকেত বসাতে হবে, স্পিডব্রেকার বসাতে হবে, এখানে রাস্তা অ্যাডজাস্ট করতে হবে, তারা জানালে আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে ব্যবস্থা নেবো।
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমরা একটা প্রকল্প নিয়ে আলাপ করছি। সেই প্রকল্পের আওতায় যারা দুর্ঘটনায় আহত হবেন তাদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা, তারপর টমা সেন্টার স্টাবলিশ করা এবং পুলিশকে আরও কার্যকর করার জন্য তাদের যানবাহন দিয়ে সহযোগিতা করা- বলেন ফাওজুল কবির খান।
এমএএস/এমআইএইচএস