‘অভাব ঈদের দিনও রাস্তায় রাখছে’

আনন্দের হিল্লোল তুলে এই নগরে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। কিন্তু কাউকে কাউকে এ দিনটি যেন স্পর্শ করে না, তাদের জন্য ঈদের দিনটিও শ্রম-ঘামে আরও একটি দিন টেনে নেওয়ার মতোই। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান আবদাল মিয়া।‌ তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ। দুই সন্তান, স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে আবদালের সংসার। পরিবারের সবাই হবিগঞ্জেই থাকেন। আবদালের সঙ্গে কথা হয় যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে। বাড়ি না গিয়ে ঈদের দিন অটোরিকশা চালানোর বিষয়ে আবদাল জাগো নিউজকে বলেন, অভাব বাড়ি যেতে দেয়নি। ঈদের দিনও রাস্তায় রাখছে। ঢাকা একাই থাকি। ঘরে বসে থেকে কী করবো। কাজ করতেছি, কেটে যাবে দিনটা। হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে যান আবদাল। কথা বলতে গিয়েও আর বলতে পারেন না। ভেতরটা কষ্টে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, বেশ বোঝা যাচ্ছে। খানিকটা সময় নিয়ে নিজেকে সামলে এরপর বলেন, আমার একজন মেয়ে আর একজন ছেলে। বাবা নেই, মা আছে। সকালে বের হয়েছি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত গাড়ি চালাবো। ঈদের এক সপ্তাহ-১০ দিন পর বাড়ি যেতে পারি। সকালে বের হওয়ার আগে ফোন দিয়ে বাড়িতে কথা হয়েছে বলেই আবার অন্যরকম হয়ে যান তিনি। দুই চোখ বেয়ে অঝোরে নামে নোনা জলের ধা

‘অভাব ঈদের দিনও রাস্তায় রাখছে’

আনন্দের হিল্লোল তুলে এই নগরে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। কিন্তু কাউকে কাউকে এ দিনটি যেন স্পর্শ করে না, তাদের জন্য ঈদের দিনটিও শ্রম-ঘামে আরও একটি দিন টেনে নেওয়ার মতোই।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান আবদাল মিয়া।‌ তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ। দুই সন্তান, স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে আবদালের সংসার। পরিবারের সবাই হবিগঞ্জেই থাকেন। আবদালের সঙ্গে কথা হয় যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে।

বাড়ি না গিয়ে ঈদের দিন অটোরিকশা চালানোর বিষয়ে আবদাল জাগো নিউজকে বলেন, অভাব বাড়ি যেতে দেয়নি। ঈদের দিনও রাস্তায় রাখছে। ঢাকা একাই থাকি। ঘরে বসে থেকে কী করবো। কাজ করতেছি, কেটে যাবে দিনটা।

হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে যান আবদাল। কথা বলতে গিয়েও আর বলতে পারেন না। ভেতরটা কষ্টে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, বেশ বোঝা যাচ্ছে। খানিকটা সময় নিয়ে নিজেকে সামলে এরপর বলেন, আমার একজন মেয়ে আর একজন ছেলে। বাবা নেই, মা আছে। সকালে বের হয়েছি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত গাড়ি চালাবো। ঈদের এক সপ্তাহ-১০ দিন পর বাড়ি যেতে পারি।

সকালে বের হওয়ার আগে ফোন দিয়ে বাড়িতে কথা হয়েছে বলেই আবার অন্যরকম হয়ে যান তিনি। দুই চোখ বেয়ে অঝোরে নামে নোনা জলের ধারা। এরপর আর কথা চলে না।

প্রায় ৫৫ বছর বয়সী আবদালের পিঠে হাত রাখতেই চাপা কান্নায় কেপে কেঁপে উঠে তার শরীর, যেন আবেগের বাঁধ ভেঙেছে। মুখের মাস্কটা সরিয়ে বারবার চোখ মুছতে থাকেন।

ঠিক তখনই একজন যাত্রী এলেন। যাত্রী তুলে নিয়ে এগোচ্ছে আবদালের অটোরিকশা। যেন তখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল- মাস্কে ঢাকা মুখের আড়ালে একজন বাবা, একজন স্বামী, একজন সন্তান কেঁদেই চলেছেন।

গুলিস্তান-চিটাগাং রোড রুটে চলাচল করে শ্রাবণ পরিবহন। এই পরিবহনের সহায়তাকারী সাদ্দাম মিয়া। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। সাদ্দাম বলেন, আমাগো ঈদ কি আর! সংসার তো চালাইতে হইবো, বাঁচতে হইবো।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান মীরহাজীরবাগের শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার বাড়ি ঠাকুরগাঁও। পরিবারের সবাই সেখানেই থাকে। ঈদের সময় বাড়ি গেলে অনেক ভাড়া, কষ্টও বেশি। বাড়িতে নতুন পোশাক কেনার টাকা-পয়সা পাঠিয়ে দিয়েছি। সবাই বাড়িতে, আমি ঢাকায়, মনটা তো একটু খারাপ লাগছেই। তারপরও কী আর করার। ঈদের কিছুদিন পর বাড়ি যাবো।

আরএমএম/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow