‘আর চলে না রোনালদো, এবার তার অবসর নেওয়া উচিৎ’
হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাদো। বয়স হয়ে গেছে ৪১। এই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন এবং এই বিশ্বকাপে রেকর্ড ৬ষ্ঠবার খেলতে নামলেন। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। কিন্তু সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশাজনক। যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে একাই আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে এসেছেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত, সেখানে রোনালদোকে প্রতিপক্ষের পোস্ট লক্ষ্যে একটি শট নিতে মাথাকুটে মরতে হয়েছে। যদিও তিনি বলে দিয়েছেন, এবারই শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে, এটা বলেননি কবে তিনি ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবেন। তবে, তিনি না জানালেও চারপাশ থেকে অনেকেই দাবি তুলছেন, রোনালদো যেন অবসর নিয়ে নেন। কারণ, তিনি আর চলছেন না। ফুটবলে আর তার দেওয়ার কিছু নেই। অন্য অনেকের মতো রোনালদোকে সরাসরি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নরওয়ের সাবেক ডিফেন্ডার জন আর্নে রিসে। তার দাবি, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো আর পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো অবস্থায় নেই। বরং তাকে দলে রাখা প
হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাদো। বয়স হয়ে গেছে ৪১। এই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন এবং এই বিশ্বকাপে রেকর্ড ৬ষ্ঠবার খেলতে নামলেন। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
কিন্তু সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশাজনক। যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে একাই আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে এসেছেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত, সেখানে রোনালদোকে প্রতিপক্ষের পোস্ট লক্ষ্যে একটি শট নিতে মাথাকুটে মরতে হয়েছে।
যদিও তিনি বলে দিয়েছেন, এবারই শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে, এটা বলেননি কবে তিনি ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবেন। তবে, তিনি না জানালেও চারপাশ থেকে অনেকেই দাবি তুলছেন, রোনালদো যেন অবসর নিয়ে নেন। কারণ, তিনি আর চলছেন না। ফুটবলে আর তার দেওয়ার কিছু নেই।
অন্য অনেকের মতো রোনালদোকে সরাসরি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নরওয়ের সাবেক ডিফেন্ডার জন আর্নে রিসে। তার দাবি, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো আর পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো অবস্থায় নেই। বরং তাকে দলে রাখা পর্তুগালের জন্য ক্ষতিকর।
লিভারপুল ও ফুলহ্যামের সাবেক এই ফুটবলার মনে করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদোকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটি ছিল ‘খুবই দুঃখজনক’ এবং সে সময়ের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারেননি।
বেস্টবেটিংসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিসে বলেন, মার্তিনেজ রোনালদোর প্রতি অতিরিক্ত অনুগত ছিলেন। ‘আমি জানি পর্তুগালের কোচ (রবার্তো মার্টিনেজ) রোনালদোকে খুব পছন্দ করতেন। কিন্তু বিশ্বকাপে পুরো রোনালদো পরিস্থিতিটা আমার কাছে খুবই দুঃখজনক লেগেছে।’
তিনি বলেন, ‘এক সময় সে গোল পাচ্ছিল না। এরপর দুটি গোল করেই বলল, সে ফিরে এসেছে। তারপর আবার হারিয়ে গেল। আমার মনে হয়, রবার্তো মার্তিনেজ বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। তার আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল এবং একজন খেলোয়াড়ের বদলে পুরো দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।’
রিসের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বর্তমান সময়ের ফুটবলের শারীরিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না রোনালদো।
তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় না রোনালদো ইউরো খেলতে প্রস্তুত থাকবে। এমনকি এখনই আমি মনে করি না, সে পর্তুগালের হয়ে ওই পর্যায়ে খেলার মতো ভালো আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলা উচিত। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া দরকার। আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর। ১১ জনকেই দৌড়াতে হয়, লড়তে হয়- যদি না আপনি মেসি হন।’
রিসের মতে, রোনালদো এখন আর সেই কাজটি করতে পারছেন না। ‘রোনালদো এখন আর সেটা করে না। আমার মনে হয়, তাকে দলে রাখলে পর্তুগাল শক্তিশালী হওয়ার বদলে আরও দুর্বল হয়।’
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। নকআউট পর্বে মাত্র একটি গোল করেছিলেন আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড। বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও রাজি হননি তিনি।
রোনালদো বলেছিলেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। এটা ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন পরিবারকে সময় দেব এবং সবকিছু নিয়ে ভাবব। আবেগের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।’
নতুন কোচের পরিকল্পনায় আছেন রোনালদো
তবে রিসের মতের সঙ্গে একমত নন পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ হেসুস। রবার্তো মার্তিনেজ পদত্যাগ করার পর দায়িত্ব নেওয়া হেসুস ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নেশন্স লিগ এবং ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বে রোনালদোকে অধিনায়ক হিসেবেই দলে রাখতে চান তিনি।
ফলে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না। ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক পর্তুগাল যখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তখন প্রশ্ন একটাই- সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে আরেকবার কি নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে পারবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা, নাকি সত্যিই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সময় এসে গেছে?
আইএইচএস/আইএইচএস/
What's Your Reaction?