আলোচনায় ফিরছে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল
১৯৮৬’র বিশ্বকাপের পর যখনই ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে তখনই বারবার আলোচনায় এসেছে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। মেক্সিকোয় বিশ্বকাপে দুই দেশের কোয়ার্টার ফাইনাল যখন গোলশূন্যভাবে এগিয়ে চলছিল তখন ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা করেছিলেন সেই আলোচিত ও বিতর্কিত গোলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। তাই তো সেই গোলটি আবার আলোচনায় ফিরছে। কি হয়েছিল সেই গোলে? ম্যারাডোনা বল নিয়ে এগিয়ে গেলেন। ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন ম্যারাডোনা। বল জালে। কিন্তু সেটা ছিল হাতের স্পর্শ! রেফারি দেখতে পাননি। সহকারী রেফারিও দেখতে পাননি। ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ওই গোল নিয়ে পরে মন্তব্য করতে গিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ তারপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ওই গোলটি পরিচিতি পেলো ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে। আলোচিত ও বিতর্কিত ওই গোলেই আর্জেন্টিনা জেতেনি। আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যারাডোনার ৪ মিনিট পর করা ঐতিহাসিক এক গোলে। একক প্রচেষ্টায় মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে পাঁচ ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পরাস্ত করে
১৯৮৬’র বিশ্বকাপের পর যখনই ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে তখনই বারবার আলোচনায় এসেছে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। মেক্সিকোয় বিশ্বকাপে দুই দেশের কোয়ার্টার ফাইনাল যখন গোলশূন্যভাবে এগিয়ে চলছিল তখন ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা করেছিলেন সেই আলোচিত ও বিতর্কিত গোলটি।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। তাই তো সেই গোলটি আবার আলোচনায় ফিরছে। কি হয়েছিল সেই গোলে? ম্যারাডোনা বল নিয়ে এগিয়ে গেলেন। ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন ম্যারাডোনা। বল জালে। কিন্তু সেটা ছিল হাতের স্পর্শ! রেফারি দেখতে পাননি। সহকারী রেফারিও দেখতে পাননি। ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ওই গোল নিয়ে পরে মন্তব্য করতে গিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ তারপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ওই গোলটি পরিচিতি পেলো ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে।
আলোচিত ও বিতর্কিত ওই গোলেই আর্জেন্টিনা জেতেনি। আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যারাডোনার ৪ মিনিট পর করা ঐতিহাসিক এক গোলে। একক প্রচেষ্টায় মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে পাঁচ ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পরাস্ত করেছিলে পিটার শিল্টনকে। শেষদিকে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার একটি গোল করলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যারাডোনার দলটি। ওই বিশ্বকাপের পরই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ম্যারাডোনা। তার কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকও।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে ফিরে আসছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতি। ৪০ বছর পরও এই গোল ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় । কেবল গোলই নয়, এই দেশের মাঠের লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয় দেশটিতে গভীর ক্ষত তহাজার তৈরি করেছিল। হাজার হাজার সেনা হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনা নিজেও বলেছিলেন, ‘এই গোল ছিল সেই যুদ্ধের প্রতীকী প্রতিশোধ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে আর্জেন্টাইনরা শুধু ফুটবল খেলেনি, খেলেছে জাতীয় গর্বের লড়াই।’
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মোকাবিলা সবসময়ই উত্তপ্ত। ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও দুই দলের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। ১৯৮৬-এর পর ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপেও তারা মুখোমুখি হয়। প্রতিবারই পুরনো রেষারেষি জেগে ওঠে। দুই দলের বর্তমান প্রজন্মের তারকাদের ম্যাচেও এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে উসকে দিতে পারে পুরনো সব দ্বন্দ্ব।
ওই গোল নিয়ে আলোচনায় অনেকেই বলছেন বলছেন, ‘হ্যান্ড অব গড’ শুধু একটি গোল নয়, এটি ফুটবলের আবেগ, চালাকি ও নাটকীয়তারও প্রতীক। ভিএআর যুগে এমন গোল আর সম্ভব নয়। তবু ম্যারাডোনার জাদু আজও লক্ষ লক্ষ ভক্তকে অনুপ্রাণিত করে। আর্জেন্টিনার এই প্রজন্মের তারকারা মাঠে নামলে নিশ্চয়ই মনে পড়বে ফকল্যান্ডস যুদ্ধ আর ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের কথা।
আরআই/আইএন
What's Your Reaction?