ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য জীবন
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী এবং ছয়বারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মোশাররফ হোসেন ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন এবং পরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। জানা গেছে, ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন পড়াশোনা শেষ করেন লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সরাসরি যুক্ত হন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলনে। ছয় দফা আন্দোলনের সময় লাহোরে অবস্থানকালে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী এবং ছয়বারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মোশাররফ হোসেন ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন এবং পরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
জানা গেছে, ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন পড়াশোনা শেষ করেন লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সরাসরি যুক্ত হন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলনে। ছয় দফা আন্দোলনের সময় লাহোরে অবস্থানকালে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৭০ সালে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া তিনি একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬–২০০১ মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আবারও ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন তিনি।
মোশাররফ হোসেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ব্যবসা ও শিল্প উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এস রহমান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য। পরিবারের ঐতিহ্যগত এই রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা হাসপাতালে এবং পরে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
What's Your Reaction?