ইসলামে স্বপ্নের ব্যাখ্যা

মানুষের দিন-রাতের কর্ম-নিদ্রার একটি অনস্বীকার্য অংশ হচ্ছে কল্পনা ও স্বপ্ন। এমন কোনো মানুষ নেই, যে জাগ্রত অবস্থায় কল্পনা করে না এবং নিদ্রামগ্ন অবস্থায় স্বপ্ন দেখে না। মানুষের জীবনে অদৃশ্য চোখে দেখা কল্পনা বা স্বপ্ন অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামেও রয়েছে এ নিয়ে বিস্তর আলাপ। কিছু স্বপ্ন অলীক ও অমূলক হলেও তার প্রভাব ও বাস্তবতা এড়াবার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিশ্বাসী মানুষের জীবনের স্বপ্ন আলাদা তাৎপর্য বহন করে। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে স্বপ্ন প্রসঙ্গে বেশি কিছু আলোচনা স্থান পেয়েছে। আরবিতে স্বপ্নকে বলা হয় ‘রুইয়া’ অর্থাৎ ‘দৃশ্যবস্তু’। মূলত মানুষের কল্পজগতে ভেসে ওঠা প্রতিচ্ছবি বা বিমূর্ত দৃশ্য, যা ঘুমের ভেতর মানুষ দেখে, তাকেই স্বপ্ন বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ যে স্বপ্ন দেখে, তা তিন ধরনেরÑ ১. ‘রুইয়া সালেহা’ অর্থাৎ ভালো স্বপ্ন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে যা বিবেচ্য। ২. ‘রুইয়া শায়তানি’ অর্থাৎ শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনামূলক প্রদর্শিত স্বপ্ন এবং ৩. ‘রুইয়ায়ে নাফসানি’ অর্থাৎ মানুষের চিন্তা-চেতনার কল্পচিত্র। এরপর রাসুল (সা.) বলেন,

মানুষের দিন-রাতের কর্ম-নিদ্রার একটি অনস্বীকার্য অংশ হচ্ছে কল্পনা ও স্বপ্ন। এমন কোনো মানুষ নেই, যে জাগ্রত অবস্থায় কল্পনা করে না এবং নিদ্রামগ্ন অবস্থায় স্বপ্ন দেখে না। মানুষের জীবনে অদৃশ্য চোখে দেখা কল্পনা বা স্বপ্ন অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামেও রয়েছে এ নিয়ে বিস্তর আলাপ। কিছু স্বপ্ন অলীক ও অমূলক হলেও তার প্রভাব ও বাস্তবতা এড়াবার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিশ্বাসী মানুষের জীবনের স্বপ্ন আলাদা তাৎপর্য বহন করে। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে স্বপ্ন প্রসঙ্গে বেশি কিছু আলোচনা স্থান পেয়েছে। আরবিতে স্বপ্নকে বলা হয় ‘রুইয়া’ অর্থাৎ ‘দৃশ্যবস্তু’। মূলত মানুষের কল্পজগতে ভেসে ওঠা প্রতিচ্ছবি বা বিমূর্ত দৃশ্য, যা ঘুমের ভেতর মানুষ দেখে, তাকেই স্বপ্ন বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ যে স্বপ্ন দেখে, তা তিন ধরনেরÑ ১. ‘রুইয়া সালেহা’ অর্থাৎ ভালো স্বপ্ন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে যা বিবেচ্য। ২. ‘রুইয়া শায়তানি’ অর্থাৎ শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনামূলক প্রদর্শিত স্বপ্ন এবং ৩. ‘রুইয়ায়ে নাফসানি’ অর্থাৎ মানুষের চিন্তা-চেতনার কল্পচিত্র। এরপর রাসুল (সা.) বলেন, যদি কেউ অপছন্দনীয় তথা ভয় বা খারাপ কোনো স্বপ্ন দেখে তাহলে সে যেন তাড়াতাড়ি অজু করে নামাজে দাঁড়িয়ে যায় এবং দর্শিত স্বপ্নের ব্যাপারে অনভিজ্ঞ কাউকে কিছু না বলে। (আবু দাউদ)।

হাদিসের আলোকে এ বিশ্বাস রাখা জরুরি যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঘুমের ভেতর কিছু ভালো স্বপ্ন দেখান। শয়তানের পক্ষ থেকেও কিছু স্বপ্ন ঘুমের ভেতর মানুষ দেখে। পাশাপাশি মানুষের চিন্তা ও কল্পনার ফলেও ঘুমের ভেতর কিছু স্বপ্ন দৃশ্যায়িত হয়। আসলে স্বপ্ন কী? এ নিয়ে মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গবেষণা কম হয়নি। কেউ বলেছেন, এটি একটি মানসিক চাপ থেকে আসে। কেউ বলেছেন, শারীরিক বিভিন্ন ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটলে এটা দেখা যায়। কেউ বলেছেন, সারাদিন মনে যা কল্পনা করে তার প্রভাবে রাতে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন আধুনিক মনোবিজ্ঞানেরও একটি বিষয়। স্বপ্ন ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, ‘মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে—১. মনের কল্পনা ও অভিজ্ঞতা। ২. শয়তানের ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা এবং ৩. আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ।’ (বোখারি : ৭০১৭)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুয়তে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, বাকি আছে কেবল মুবাশশিরাত অর্থাৎ সুসংবাদ। সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন ‘ভালো স্বপ্ন।’ (বোখারি : ৬৯৯০)। স্বপ্ন নবুয়তের একটি অংশ। নবী ও রাসুলদের কাছে জিবরিল যেমন সরাসরি ওহি নিয়ে আসতেন, তেমনি স্বপ্নের মাধ্যমেও আল্লাহ তায়ালা প্রত্যাদেশ পাঠাতেন।

মুসলমানদের জীবনে স্বপ্ন শুধু একটি স্বপ্ন নয়। এটা হতে পারে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে স্বপ্নদ্রষ্টার প্রতি কোনো বার্তা। মুমিনের জীবনে স্বপ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিছক কল্পিত কোনো গল্পবস্তু নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানদারের স্বপ্ন নবুয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।’ (বোখারি : ৬৯৯৪)। অর্থাৎ মুমিনের স্বপ্ন নবুয়তের মতোই সত্য। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে নিদ্রার মধ্যে আমাকে দেখে সে যেন বাস্তবেই আমাকে দেখেছে। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। (বোখারি : ৬৯৯৩; মুসলিম : ২২৬৬)। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহকে (সা.) স্বপ্নে দেখবে সে সত্যিকারভাবেই তাকে দেখে। শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। শয়তান মানুষকে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখাতে পারে। কিন্তু রাসুলুল্লাহর (সা.) আকৃতি ধরে ধোঁকা দিতে পারে না। এ স্বপ্ন অবশ্যই সত্য। নিছক কল্পিত দর্শন নয়।

মানুষ যদি ভালো স্বপ্ন দেখে তাহলে কী করবে? এ প্রসঙ্গে আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা তার ভালো বলেই মনে হয়, তাহলে সে বুঝে নেবে এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের জন্য আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করবে আর অন্যকে এ ব্যাপারে জানাবে। আর যদি অন্য স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তাহলে বুঝে নেবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বলবে) এবং কাউকে এ স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তাকে ক্ষতি করবে না। (বোখারি : ৬৯৮৫)।

হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ভালো ও সুন্দর স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর খারাপ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ ভালো স্বপ্ন দেখে, তাহলে তা শুধু তাকেই বলবে, যে তাকে ভালোবাসে। অন্য কাউকে বলবে না। আর কেউ যদি স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখে, তা হলে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বলবে) এবং বাঁ দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। আর কারও কাছে স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে, এ স্বপ্ন তার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। (বোখারি : ৬৯৯৫; মুসলিম : ২২৬১)।

ইসলামে স্বপ্ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উত্তম স্বপ্নের থাকে গভীর তাৎপর্য। তাই যে কাউকে স্বপ্নের কথা না জানানো। সবাই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। এমন ব্যক্তিই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রাখে, যে কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও স্বপ্ন ব্যাখ্যার মূলনীতি সম্পর্কে ওয়াকেফহাল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মানবদরদি ও মানুষের কল্যাণকামী মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। তাই তো রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ স্বপ্ন দেখলে তা আলেম কিংবা কল্যাণকামী ব্যতীত অন্য কারও কাছে বর্ণনা করবে না।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৮১৭৭)। আল্লাহ আমাদের বোঝার ও আমল করার তাওফিক দিন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow