ঈদে খাবার টেবিলে ডিটক্স পানি রাখার উপকারিতা

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। পোলাও, কোরমা, রোস্ট, বিরিয়ানির মতো তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার প্রায় প্রতিটি ঘরেই তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত মসলাদার ও তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে অনেক সময় হজমে সমস্যা, অস্বস্তি বা শরীর ভারী লাগার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই ঈদের এই ভরপেট খাওয়ার মাঝে শরীরকে হালকা ও সতেজ রাখতে ডিটক্স পানির গুরুত্ব অনেক। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় এক থেকে দুই লিটার পর্যন্ত ডিটক্স ওয়াটার পান করতে পারেন। তবে সারাদিন শুধু ডিটক্স পানিই পান না করে, সাধারণ পানির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে খাওয়াই ভালো। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স প্রক্রিয়াও সচল থাকে। ডিটক্স ওয়াটার যেভাবে তৈরি করতে পারেনডিটক্স ওয়াটার মূলত তাজা ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয়। এখানে ফল বা সবজির রস বের করা হয় না, বরং সেগুলো পানিতে ধীরে ধীরে তাদের পুষ্টিগুণ ছড়িয়ে দেয়। ফলে পানিটি হয়ে ওঠে হালকা স্বাদের এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং বিভিন্নভাবে শরীরের কার্যক্রমে সহায়তা করে। ঈদের টেবিলে সহজেই কয়েক ধরনে

ঈদে খাবার টেবিলে ডিটক্স পানি রাখার উপকারিতা

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। পোলাও, কোরমা, রোস্ট, বিরিয়ানির মতো তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার প্রায় প্রতিটি ঘরেই তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত মসলাদার ও তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে অনেক সময় হজমে সমস্যা, অস্বস্তি বা শরীর ভারী লাগার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

তাই ঈদের এই ভরপেট খাওয়ার মাঝে শরীরকে হালকা ও সতেজ রাখতে ডিটক্স পানির গুরুত্ব অনেক।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় এক থেকে দুই লিটার পর্যন্ত ডিটক্স ওয়াটার পান করতে পারেন। তবে সারাদিন শুধু ডিটক্স পানিই পান না করে, সাধারণ পানির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে খাওয়াই ভালো। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স প্রক্রিয়াও সচল থাকে।

ডিটক্স ওয়াটার যেভাবে তৈরি করতে পারেন
ডিটক্স ওয়াটার মূলত তাজা ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয়। এখানে ফল বা সবজির রস বের করা হয় না, বরং সেগুলো পানিতে ধীরে ধীরে তাদের পুষ্টিগুণ ছড়িয়ে দেয়। ফলে পানিটি হয়ে ওঠে হালকা স্বাদের এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং বিভিন্নভাবে শরীরের কার্যক্রমে সহায়তা করে।

ঈদের টেবিলে সহজেই কয়েক ধরনের ডিটক্স পানীয় রাখা যেতে পারে। যেমন-লেবু ও পুদিনা মিশ্রিত পানি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। শসা ও লেবুর পানি ত্বকের জন্য উপকারী এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে। আবার আপেল ও দারুচিনি দিয়ে তৈরি ডিটক্স ওয়াটার মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়ক।

এছাড়া আদা, লেবু, পুদিনাপাতা ও শসা একসঙ্গে পানিতে ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে পান করতে পারেন। এটি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখবে। জিরা ভেজানো পানি বা জিরাপানিও ভালো ডিটক্স পানীয় হিসেবে কাজ করে। সকালে কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করলে শরীর হালকা লাগে এবং দিনটি ভালোভাবে শুরু করা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আধা লিটার ডিটক্স ওয়াটার অল্প সময়ের জন্য শরীরের বিপাকক্রিয়া প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরের পানি, লবণ ও পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, হজমক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সারাদিন এনার্জি ধরে রাখতে ডিটক্স পানি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে ক্লান্তি কম লাগে এবং মনও প্রফুল্ল থাকে।

আরেকটি সহজ অভ্যাস হতে পারে,ভাত বা ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি পান করা। এতে ক্ষুধা কিছুটা কমে যায় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। তাই এবারের ঈদের খাবার টেবিলে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি এক জগ ডিটক্স পানি রাখতে ভুলবেন না। এটি শুধু আপনার শরীরকে ভালো রাখবে না, বরং উৎসবের আনন্দও বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: ওয়েবএমডি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow