এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ, বিপাকে হাজারো মানুষ

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে খুঁটি ভেঙে পড়ায় সাত দিন ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে আছে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা সদর। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ আছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে ওই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলা সদরের দুই হাজার গ্রাহকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা যায়, রোববার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দিরাই-শাল্লা বিদ্যুৎ লাইনের দিরাই উপজেলা অংশে ২০টি খুঁটি ভেঙে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।  এই সংযোগটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) আওতাধীন। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, গত সাত দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি থাকায় লাইন সংযোগ মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এরপরও কয়েকটি খুঁটির গর্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুঁটি লাগানোর কাজ করা সম্ভব হবে।  এদিকে শাল্লা উপজেলা সদরের ডুমরা, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, উপজেলার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে আছে। জরুরি প্রয়োজনে জেনারেটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় সাময়িক কাজ করছেন উপজেলা প্রশাসন। তবে অন্য

এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ, বিপাকে হাজারো মানুষ
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে খুঁটি ভেঙে পড়ায় সাত দিন ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে আছে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা সদর। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ আছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে ওই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলা সদরের দুই হাজার গ্রাহকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা যায়, রোববার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দিরাই-শাল্লা বিদ্যুৎ লাইনের দিরাই উপজেলা অংশে ২০টি খুঁটি ভেঙে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।  এই সংযোগটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) আওতাধীন। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, গত সাত দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি থাকায় লাইন সংযোগ মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এরপরও কয়েকটি খুঁটির গর্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুঁটি লাগানোর কাজ করা সম্ভব হবে।  এদিকে শাল্লা উপজেলা সদরের ডুমরা, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, উপজেলার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে আছে। জরুরি প্রয়োজনে জেনারেটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় সাময়িক কাজ করছেন উপজেলা প্রশাসন। তবে অন্য সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি অন্ধকারে আছে সাত দিন ধরে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী রুদ্র রায় বলেন, এমনিতেই শাল্লায় দিনের অধিকাংশ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। এখন পরীক্ষা চলার সময়ে তিন ধরে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে।  শাল্লা উপজেলা সদরের কম্পিউটার প্রিন্ট ব্যবসায়ী নাছির সুলতান বলেন, সাত দিন বিদ্যুৎ নেই, দোকানে কোনো ধরনের কাজ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই গ্রাহকরা এসে ঘুরে যাচ্ছেন। কবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে তা সঠিকভাবে জানি না আমরা। শাল্লা উপজেলার সদরের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মহিপাল দাস মিল্টন বলেন, গ্রীষ্মকালে এমনিতেই প্রচণ্ড গরম। এরমধ্যে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চালু রাখার জন্য জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জেনারেটরের পেট্রলও চাহিদামতো পাওয়া যায় না। বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যহত হচ্ছে। শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সাত দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে পুরো উপজেলা সদর এলাকা। জরুরি গুরুত্বপূর্ণ কাজ জেনারেটর চালিয়ে করতে হচ্ছে। সব গ্রাহকই ভোগান্তিতে পড়েছেন। পিডিপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভেঙে যাওয়া খুঁটি মেরামতের কাজ চলছে। দুএকদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করবেন।  সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী মো. রাসেল আহমদ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ২০টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। মেরামতের কাজ চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। খুঁটি মেরামতের কাজ শেষ হয়ে গেলে আগামী দুই একদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow