এডহক কমিটির সদস্যরা বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। দেড় মাস পর সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ক্লাব ও জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জাতীয় নির্বাচনের পর এসব অভিযোগ আনেন। এর প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে, সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এনএসসি এই সিদ্ধান্ত নেয়। সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে এসেছে। এর মধ্যে ছিল জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম যথাক্রমে ঢাকা জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর হওয়াকেও তদন্ত কমিটি প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে দেখেছে। এছাড়া, কাউন্সিলর তালিকা পরিবর্তনের জন্য বিসিবি সভাপতির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া, সি

এডহক কমিটির সদস্যরা বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। দেড় মাস পর সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ক্লাব ও জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জাতীয় নির্বাচনের পর এসব অভিযোগ আনেন। এর প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে, সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এনএসসি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে এসেছে। এর মধ্যে ছিল জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম যথাক্রমে ঢাকা জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর হওয়াকেও তদন্ত কমিটি প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে দেখেছে।

এছাড়া, কাউন্সিলর তালিকা পরিবর্তনের জন্য বিসিবি সভাপতির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া, সি ক্যাটাগরিতে জাতীয় দলের ১০ জন ক্রিকেটার মনোনয়নে বোর্ড সভার অনুপস্থিতি, এবং ক্লাব ক্যাটাগরিতে সময়সীমা লঙ্ঘন—এসব বিষয়ও অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পর জমা পড়ায় তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

যদিও বিসিবির গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির কোনো বিধান নেই, তবে এনএসসি’র অধিভুক্ত সংস্থা হওয়ায় ২০১৮ সালের আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী যে কোনো ফেডারেশনে এডহক কমিটি গঠন করার ক্ষমতা রয়েছে। সেই আইনি ভিত্তিতেই বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে জানানো হয়েছে। তবে আইসিসি সাধারণত সরকারি হস্তক্ষেপ মেনে নেয় না—তাই নতুন এডহক কমিটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

নতুন এডহক কমিটির প্রধান দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। তবে এডহক কমিটির সদস্যরা পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এনএসসি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এমনকি এ বিষয়ে বিদ্যমান আইনেও নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

সার্বিকভাবে, বিসিবিকে ঘিরে প্রশাসনিক এই পরিবর্তন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে—আইসিসির অবস্থান কী হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow