ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হচ্ছেন মুসল্লিরা
ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে আজ (শনিবার ২১ মার্চ) সকাল ১০টায়। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা হলেও, ভোরের আলো ফোটার আগেই ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হতে মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কেউ জায়নামাজ বিছিয়ে বসে আছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে জায়গা দখলে ব্যস্ত। একটাই লক্ষ্য-সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষের সঙ্গে এক সঙ্গে নামাজ আদায় করা। নান্দাইল থেকে আসা মুসল্লি ইমাম উদ্দিনের চোখে মুখে উচ্ছ্বাস। ভোরেই রওনা দিয়ে সকাল ৭টার মধ্যে পৌঁছে গেছেন তিনি। তার ভাষায়, এত মানুষের সঙ্গে এক সঙ্গে নামাজ পড়ার অনুভূতি অন্যরকম। আল্লাহ হয়তো কারও না কারও উসিলায় আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। একই সুর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ এলাকার আব্দুল হাইয়ের কণ্ঠেও। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তিনি অনেক আগে এসে জায়গা নিশ্চিত করেছেন-মাঠের ভেতরে নামাজ পড়ার তৃপ্তিটাই আলাদা। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ছয় স্তরের তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দ
ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে আজ (শনিবার ২১ মার্চ) সকাল ১০টায়। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা হলেও, ভোরের আলো ফোটার আগেই ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হতে মানুষের ঢল নেমেছে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কেউ জায়নামাজ বিছিয়ে বসে আছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে জায়গা দখলে ব্যস্ত। একটাই লক্ষ্য-সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষের সঙ্গে এক সঙ্গে নামাজ আদায় করা।
নান্দাইল থেকে আসা মুসল্লি ইমাম উদ্দিনের চোখে মুখে উচ্ছ্বাস। ভোরেই রওনা দিয়ে সকাল ৭টার মধ্যে পৌঁছে গেছেন তিনি। তার ভাষায়, এত মানুষের সঙ্গে এক সঙ্গে নামাজ পড়ার অনুভূতি অন্যরকম। আল্লাহ হয়তো কারও না কারও উসিলায় আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।
একই সুর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ এলাকার আব্দুল হাইয়ের কণ্ঠেও। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তিনি অনেক আগে এসে জায়গা নিশ্চিত করেছেন-মাঠের ভেতরে নামাজ পড়ার তৃপ্তিটাই আলাদা।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ছয় স্তরের তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুরো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে র্যাব, এন্টি-টেরোরিজম বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটসহ বিশেষায়িত দল।
ঈদগাহে প্রবেশের আগেই মুসল্লিদের একাধিক চেকপোস্ট পার হতে হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও কুইক রেসপন্স ইউনিট-যেন উৎসবের আনন্দে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ বহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চোখে পড়ার মতো-৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৬টি ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে মিলিয়ে পুরো ঈদগাহ পরিণত হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার এবং ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী। পাশাপাশি ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস। ভোরের এই ট্রেনগুলো যেন ঈদের আনন্দযাত্রাকে আরও সহজ করে তুলেছে।
What's Your Reaction?