ওয়ানডেতে ৫ হাজার ম্যাচের ইতিহাস: সময়কেও হার মানিয়েছে যেসব রেকর্ড

শুক্রবার ছিল ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। যদিও এই ঐতিহাসিক দিনটিতে এমন দুটি দল মুখোমুখি হয়েছিল, যাদের দিকে কারো দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবে, ক্রিকেট পরিসংখ্যানবীদরা তো জানতেন ডান্ডিতে স্কটল্যান্ড এবং কানাডার দুই অধিনায়ক রিচি ব্যারিংটন ও সাদ বিন জাফর যখন টসের কয়েন নিক্ষেপ করবেন, তখন সৃষ্টি হবে বিরল এক ইতিহাস। হলোও তাই। ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এর এই ম্যাচ দিয়েই কানাডা ও স্কটল্যান্ড ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ডে নাম লিখে ফেললো। এই দুই দলের ম্যাচটি ছিল ওয়ানডেতে ৫০০০তম ম্যাচ। ১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যাত্রা শুরু হওয়ার পর ৫৬টি বছর পার হয়ে গেছে। ৫ দশকেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে ইতিহাসে ৫ হাজার তম ম্যাচ খেললো কানাডা এবং স্কটল্যান্ড। যে ম্যাচে স্কটল্যান্ড করেছিল ২৮১ রান। জবাবে কানাডা অলআউট হয় ২৭২ রানে। ৯ রানে জয় পায় স্কটিশরা। শুক্রবার ডান্ডিতে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামে স্কটল্যান্ড। ম্যাচটি আর দশটি ওয়ানডের মতোই শুরু হয়েছিল- ব্যাট-বলের লড়াই, রান, উইকেট আর জয়ের হিসাব। কিন্তু এই ম্যাচের গুরুত্ব একটু আলাদা। কারণ স্কটল্যান্ড-কানাডার লড়াই দিয়েই পুরুষদের ওয়

ওয়ানডেতে ৫ হাজার ম্যাচের ইতিহাস: সময়কেও হার মানিয়েছে যেসব রেকর্ড

শুক্রবার ছিল ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। যদিও এই ঐতিহাসিক দিনটিতে এমন দুটি দল মুখোমুখি হয়েছিল, যাদের দিকে কারো দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবে, ক্রিকেট পরিসংখ্যানবীদরা তো জানতেন ডান্ডিতে স্কটল্যান্ড এবং কানাডার দুই অধিনায়ক রিচি ব্যারিংটন ও সাদ বিন জাফর যখন টসের কয়েন নিক্ষেপ করবেন, তখন সৃষ্টি হবে বিরল এক ইতিহাস।

হলোও তাই। ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এর এই ম্যাচ দিয়েই কানাডা ও স্কটল্যান্ড ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ডে নাম লিখে ফেললো। এই দুই দলের ম্যাচটি ছিল ওয়ানডেতে ৫০০০তম ম্যাচ। ১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যাত্রা শুরু হওয়ার পর ৫৬টি বছর পার হয়ে গেছে। ৫ দশকেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে ইতিহাসে ৫ হাজার তম ম্যাচ খেললো কানাডা এবং স্কটল্যান্ড। যে ম্যাচে স্কটল্যান্ড করেছিল ২৮১ রান। জবাবে কানাডা অলআউট হয় ২৭২ রানে। ৯ রানে জয় পায় স্কটিশরা।

শুক্রবার ডান্ডিতে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামে স্কটল্যান্ড। ম্যাচটি আর দশটি ওয়ানডের মতোই শুরু হয়েছিল- ব্যাট-বলের লড়াই, রান, উইকেট আর জয়ের হিসাব। কিন্তু এই ম্যাচের গুরুত্ব একটু আলাদা। কারণ স্কটল্যান্ড-কানাডার লড়াই দিয়েই পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেট পা রেখেছিল এক অনন্য মাইলফলকে- ৫০০০ ম্যাচের গণ্ডি!

১৯৭১ সালে পরীক্ষামূলক শুরুর সময় থেকে আজকের ৫০০০তম ম্যাচ- ওয়ানডে ক্রিকেটের এই যাত্রা শুধু ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার ইতিহাস নয়; এটি ক্রিকেটের বদলে যাওয়া সময়, কৌশল ও কিংবদন্তিদের রেখে যাওয়া অসংখ্য রেকর্ডও। আর সেই দীর্ঘ পথের সবচেয়ে উজ্জ্বল কিছু রেকর্ডের পাতায় আজও জ্বলজ্বল করছে শচিন টেন্ডুলকার, রোহিত শর্মা, ভিভ রিচার্ডস, সাঈদ আনোয়ার, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মুত্তিয়া মুরালিধরন কিংবা শহিদ আফ্রিদিদের নাম।

Rohit

১৯৭১ সালে শুরু হওয়া ৫০ ওভারের এই সংস্করণ পেরিয়ে এসেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। এর মধ্যে বদলেছে ক্রিকেটের ধরন, ব্যাট-বলের ভারসাম্য, নিয়ম-কানুন, এমনকি খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির পদ্ধতিও। একসময় ২৫০ রান ছিল লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট, এখন ৩০০ পেরোনোও অনেক সময় নিরাপদ নয়।

তবু কিছু রেকর্ড আছে, যেগুলো সময়ের এই স্রোতেও অমলিন। কোনোটি টিকে আছে কয়েক হাজার দিন, কোনোটি এক দশকের বেশি। কেউ রেকর্ড গড়েছেন এমন সময়ে, যখন ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ রানই ছিল প্রায় অকল্পনীয়। আবার কেউ এমন এক সীমা তৈরি করেছেন, যা ভাঙার পরও নতুন রেকর্ডটি বছরের পর বছর ধরে অটুট।

পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেট যখন পা রাখলো ৫ হাজারতম ম্যাচে, তখন ফিরে দেখা যাক সেইসব কীর্তির দিকে- যেগুলো শুধু সংখ্যায় বড় নয়, দীর্ঘস্থায়ীত্বেও অনন্য।

দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ রাজত্ব

একসময় ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি দলীয় রান বলতেই শ্রীলঙ্কার নাম মনে পড়ত। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ৩৯৮ রান করেছিল তারা। সেই সময়ের ক্রিকেটে এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক স্কোর।

১৯৯৬ সালের মার্চে করা সেই ৩৯৮ রানই ২০০৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পুরুষদের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ধরে রেখেছিল। অর্থাৎ প্রায় এক দশক ধরে শ্রীলঙ্কার নামের পাশেই ছিল ওয়ানডের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ড।

কিন্তু এরপরই ওয়ানডে ক্রিকেটে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। ২০০৬ সালের জোহানেসবার্গে এক ম্যাচেই ভেঙে যায় ৪০০ রানের দেয়াল। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ৪৩৪ রান করে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে। মনে হচ্ছিল, এই স্কোর হয়তো বহুদিন অতিক্রম করার মতো নয়।

কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টা টিকেছিল অস্ট্রেলিয়ার সেই রেকর্ড। ওই ম্যাচেই সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকা যা করেছিল, সেটিকে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর রান-উৎসব বললেও কম বলা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ পেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় ছিনিয়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ৪৩৮ রান। এক ম্যাচেই দুইবার ভাঙে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড!

England

তবে শ্রীলঙ্কা বেশিদিন অপেক্ষা করেনি। মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০৬ সালের জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪৪৩ রান করে আবারও রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয় শ্রীলঙ্কা। শুধু তাই নয়, এই ৪৪৩ রান টিকে ছিল ৩৭১০ দিন- অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৩৯৮ রানের রেকর্ডের চেয়েও ৫২ দিন বেশি।

এরপর ওয়ানডে ক্রিকেটে রানবন্যা আরও বেড়েছে। ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ড তিনবার দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড ভেঙেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেই ৪৯৮ রান করে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচও হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে।

অর্থাৎ একসময় যে ৪০০ রান ছিল কল্পনার সীমা, সেটিই এখন ৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু রেকর্ডের দীর্ঘস্থায়ীত্বের বিচারে শ্রীলঙ্কার ৪৪৩ এখনো বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে ‘কিং’ রিচার্ডস

দলীয় রেকর্ডের মতো ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ক্ষেত্রেও ওয়ানডে ক্রিকেটে এসেছে একাধিক বিপ্লব। পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪ রানের ইনিংস ছিল এমনই এক মাইলফলক। ১৯৯৭ সালে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সেই ইনিংস দীর্ঘ সময় ধরে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে ছিল। প্রায় ১৩ বছর কেউ সেটি অতিক্রম করতে পারেননি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রি ১৯৪ রান করে আনোয়ারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন, কিন্তু ভাঙতে পারেননি।

এরপর এল ২০১০ সাল। দুইশ রানের সীমা পেরিয়ে গেলেন একজন ব্যাটার। প্রথম ২০০ রানের গণ্ডি ছুঁলেন ভারতের বিখ্যাত ব্যাটার শচিন টেন্ডুলকার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোয়ালিয়রে তিনি খেললেন প্রথম অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস। এরপর যেন খুলে গেল ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশাল ব্যক্তিগত ইনিংসের দরজা। একের পর এক ব্যাটার ২০০ পেরোতে শুরু করলেন। আর সেই ধারার সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠলেন ভারতের রোহিত শর্মা।

Sayeed Anwar

২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন রোহিত। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড চলে যায় নতুন উচ্চতায়। এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে সেই রেকর্ড অটুট।

তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ধরে রাখার কৃতিত্ব এখনো রোহিতের নয়। সেই জায়গায় সবার ওপরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস।

১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২৭২ রানের দলীয় সংগ্রহে রিচার্ডস খেলেছিলেন ১৮৯ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। ওয়ানডের শুরুর দিকের ক্রিকেটে এমন ইনিংস ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর।

Viv

সেই ১৮৯ রানের রেকর্ড টিকে ছিল ৪৭৩৮ দিন- অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছর। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন রিচার্ডস। পরে সাঈদ আনোয়ার তার ১৯৪ রানের ইনিংস দিয়ে কিংবদন্তির সেই রাজত্বের অবসান ঘটান।

এখন আবার ইতিহাস যেন নতুন একটি চক্রের সামনে দাঁড়িয়ে। রোহিত শর্মার ২৬৪ রানের রেকর্ড ইতোমধ্যে প্রায় ১২ বছর ধরে টিকে আছে। কেউ যদি শিগগিরই এই সীমা অতিক্রম করতে না পারেন, তাহলে রোহিতের রেকর্ডও ভিভ রিচার্ডসের দীর্ঘস্থায়ীত্বের মাপকাঠি ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

অর্থাৎ আজকের ক্রিকেটে যে ২৬৪ রানকে অসম্ভবের কাছাকাছি মনে হয়, সেটিই হয়তো একদিন ওয়ানডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নেবে।

Sentury Record

সেরা বোলিং: চামিন্ডা ভাস, ২৫ বছর

২০০১ সালের ডিসেম্বর। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেন একাই ঝড় তুলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বাঁ-হাতি পেসার চামিন্ডা ভাস। শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারকে একের পর এক ধসিয়ে দিয়ে গড়েছিলেন অবিশ্বাস্য এক কীর্তি- ১৯ রানে নিলেন ৮ উইকেট।

আরও বিস্ময়কর ব্যাপার, জিম্বাবুয়ের প্রথম আট ব্যাটারকেই ফিরিয়েছিলেন ভাস। পরে মুত্তিয়া মুরালিধরন বাকি দুটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ৩৮ রানে অলআউট করেন।

ওয়ানডে ইতিহাসে এখনো একমাত্র বোলার হিসেবে এক ম্যাচে আট উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি ভাসের দখলে। প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তার ৮/১৯-এর ধারেকাছেও যেতে পারেননি কেউ। তার এই রেকর্ডের বয়স এখন ৯ হাজার দিনেরও বেশি।

Chaminda Vass

ভাসের আগে অবশ্য দীর্ঘ সময় এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন পাকিস্তানের আকিব জাভেদ। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন আকিব, যার শেষ শিকার ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার।

আকিবের আগে ১৯৮৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫১ রানে ৭ উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে সাত উইকেটের কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইনস্টন ডেভিস।

সর্বোচ্চ উইকেট: মুত্তিয়া মুরালিধরন, ১৭ বছর

ওয়ানডেতে ৫০০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলার মাত্র দুজন- মুত্তিয়া মুরালিধরন ও ওয়াসিম আকরাম। তবে সর্বোচ্চ উইকেটের সিংহাসনে এখনো শীর্ষে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি অফস্পিনার।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াসিম আকরামের ৫০২ উইকেটের রেকর্ড পেরিয়ে যান মুরালিধরন। এরপর থেকে ১৭ বছর ধরে ওয়ানডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে টিকে আছেন তিনি।

Srilanka

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সময় মুরালিধরনের নামের পাশে ছিল ৫৩৪ উইকেট। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা মিচেল স্টার্কের উইকেটসংখ্যা ২৪৭। ফলে মুরালিধরনের রেকর্ড আরও বহু বছর অক্ষত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

মজার বিষয়, মুরালিধরনের আগে প্রায় ১৫ বছর এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ১৯৯৪ সালে কপিল দেবের ২৫১ উইকেট পেরিয়ে শীর্ষে উঠেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি এই বাঁ-হাতি পেসার।

সর্বোচ্চ রান: শচিন টেন্ডুলকার, ২৬ বছর

ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শচিন টেন্ডুলকারের আধিপত্য যেন অন্যদের জন্য বিশাল এক পাহাড়। ২০০০ সালের অক্টোবরে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের ৯৩৭৮ রান পেরিয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন শচিন।

Sachin

তারপর কেটে গেছে ২৫ বছরেরও বেশি সময়। এখনো কেউ তাকে এই স্থান থেকে সরাতে পারেননি। শচিনের ওয়ানডে রান ১৮,৪২৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিরাট কোহলির সঙ্গে ব্যবধানও তিন হাজারের বেশি। কোহলি যদি অবিশ্বাস্য কোনো ব্যাটিং বিস্ফোরণ না ঘটান, তাহলে শচিনের এই দীর্ঘ রাজত্ব আরও অনেক বছর চলতে পারে।

দ্রুততম সেঞ্চুরি: এবি ডি ভিলিয়ার্স, ১১ বছর

ওয়ানডেতে ৫০ বলের কমে সেঞ্চুরি- একসময় যা ছিল প্রায় অকল্পনীয়। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটের আগ্রাসী ব্যাটিং সেই সীমাটাকেও ভেঙে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করে প্রথমবারের মতো ৫০ বলের নিচে শতরান করেছিলেন শ্রীলঙ্কার সনৎ জয়াসুরিয়া। ছয় মাস পরই তার রেকর্ডকে আরও নিচে নামিয়ে দেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি।

নাইরোবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আফ্রিদি। সেই বিস্ফোরক ইনিংসই তাকে ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এনে দেয়।

De villiars

আফ্রিদির সেই রেকর্ড টিকে ছিল ৬২৯৮ দিন। ২০১৪ সালে এক বল কমিয়ে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসন। কিন্তু তার রাজত্বও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে সবাইকে ছাড়িয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স। এখনো সেই রেকর্ড তারই দখলে।

দ্রুততম ফিফটি: সনৎ জয়াসুরিয়া, ৬৮৬০ দিন

১৯৯৬ সালটা যেন জয়াসুরিয়ার জন্য ছিল শুধুই ঝড় তোলার বছর। ৪৮ বলে সেঞ্চুরির মাত্র পাঁচ দিন পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি বিস্ময়কর কীর্তি গড়েন তিনি।

মাত্র ১৭ বলে ফিফটি! একটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং ছিল অবিশ্বাস্য। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে ২১৬ রান তাড়া করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা হেরেছিল, জয়াসুরিয়ার ব্যক্তিগত রেকর্ডটি টিকে ছিল প্রায় ১৯ বছর- ৬৮৬০ দিন।

২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬ বলে ফিফটি করে জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভেঙে দেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার ১৬ বলে ফিফটির রেকর্ড এখনো অক্ষত। গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাথু ফোর্ডে সেটি ছুঁয়েছিলেন, কিন্তু ভাঙতে পারেননি।

সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি: শচিন টেন্ডুলকার, ২৫ বছর

শচিনের রেকর্ডের তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডও দীর্ঘদিন ছিল তার দখলে। ১৯৯৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্সের ১৭ সেঞ্চুরির রেকর্ড পেরিয়ে যান শচিন। এরপর একে একে যোগ হয়েছে আরও ৩২টি শতক। ওয়ানডেতে তার মোট সেঞ্চুরি ৪৯।

এই রেকর্ডও টিকে ছিল ২৫ বছরের বেশি সময়- ৯১৭১ দিন এবং ৩৩৪০ ওয়ানডে। দীর্ঘদিন মনে হচ্ছিল, শচিনের ৪৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড হয়তো আর কেউ ছুঁতেই পারবেন না।

কিন্তু ২০২৩ বিশ্বকাপে এসে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেন বিরাট কোহলি। প্রথমে শচিনের রেকর্ড স্পর্শ করেন, এরপর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সেটি নিজের করে নেন। বর্তমানে কোহলির ওয়ানডে সেঞ্চুরি ৫৪টি। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তার পরে রয়েছেন রোহিত শর্মা ৩৪টি এবং জো রুট ২০টি।

সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট: ওয়াকার ইউনিস, ৩৩ বছর

ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিও দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের এক কিংবদন্তির দখলে। তিনি ওয়াকার ইউনিস। ১৯৯০ সালে রিচার্ড হ্যাডলির পাঁচটি পাঁচ উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন ওয়াকার। তবে রেকর্ডটি পুরোপুরি নিজের করে নিতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আরও দুই বছর।

Wakar

১৯৯২ সালে ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট নিয়ে হ্যাডলিকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এরপর থেকে টানা ৩৩ বছর ধরে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেটের রেকর্ড ওয়াকারের দখলে।

ক্যারিয়ারে মোট ১৩ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের এই গতি-তারকা। সক্রিয় বোলারদের মধ্যে তার সবচেয়ে কাছাকাছি মিচেল স্টার্ক- তার পাঁচ উইকেট ৯টি।

ওয়ানডে ক্রিকেটের পাঁচ হাজার ম্যাচের পথচলায় কত রেকর্ড এসেছে, কত রেকর্ড ভেঙেছে। কেউ রেকর্ড গড়ে কয়েক মাসের মধ্যেই হারিয়েছেন সিংহাসন, আবার কেউ যুগের পর যুগ ধরে বসে আছেন শীর্ষে। শচিন, মুরালিধরন, ভাস, জয়াসুরিয়া, আফ্রিদি, ওয়াকার কিংবা ডি ভিলিয়ার্স- তাদের কীর্তিগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটের বিবর্তনেরও একেকটি জীবন্ত অধ্যায়।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow